ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

আদালত সাহসী হলে ৫৪ বছরের সংবিধান ৭৪ বছরেও শক্তিশালী রাখা সম্ভব: বোরহান উদ্দিন 

আদালত সাহসী হলে ৫৪ বছরের সংবিধান ৭৪ বছরেও শক্তিশালী রাখা সম্ভব: বোরহান উদ্দিন 
×
×

ছবি- সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | ২২:৫২

দেশের সর্বোচ্চ আদালত যদি সাহসী হয় তাহলে ৫৪ বছরের সংবিধান ৭৪ বছরেও শক্তিশালী রাখা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বোরহান উদ্দিন। তিনি বলেন, সংবিধান হচ্ছে সকল নাগরিকদের জন্য একটি প্রতিশ্রুতি। কোনো কারণে সংবিধান জেলে যেতে পারে কিন্তু, সেক্ষেত্রে আদালতকে দরজা খোলা রাখতে হবে।

সংবিধানের ৫৪ বছর উপলক্ষে বুধবার সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে "অধিকার ও সুরক্ষা: অর্জন ও বাস্তবতা" শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাষ্ট), সুপ্রিমকোর্ট ল' ইয়ার্স গিল্ড ও বাংলার পাঠশালা যৌথভাবে এ আলোচনা সভায় আয়োজন করে। 

আলোচনায় আরও অংশ নেন প্রেসিডেন্সি ইউনির্ভাসিটির প্রভাষক নুরুন্নাহার উর্মি, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী এমএম খালেকুজ্জামান, ব্যারিস্টার প্রিয়া আজসান চৌধুরী, পরিবেশ অধিকার কর্মী বারীশ হাসান চৌধুরী, সিটি ইউনির্ভাসিটির সহযোগী অধ্যাপক আহমেদ জাভেদ, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী খন্দকার শাহরিয়ার শাকির প্রমুখ। পরে আলোচনায় উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে থেকে করা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে দেন আলোচকরা। 

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্যে বিচারপতি বোরহান উদ্দিন বলেন, আমাদের অর্জনটা কাটাছেড়ার হলেও সংবিধানটা এখনও আছে। সংবিধানের ১০২ ও ৪৪ অনুচ্ছেদ রয়েছে হাইকোর্টের দরজায় কড়া নাড়ানোর জন্য। তিনি বলেন, শ্রমিক, তরুণ, নারী ও বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সতর্কতা হচ্ছে সংবিধানের সবচেয়ে বড় রক্ষা কবচ।

ব্লাস্ট্রের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী বলেন, বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন, ৬২ সালের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারাবাহিকতা ধারন করে আমাদের সংবিধানটা প্রনয়ন করা হয়েছে। এখন সময় এসেছে সংবিধান সংশোধন করার। কীভাবে করা হবে সেটা সংবিধানের মধেই উল্লেখ আছে। প্রথমে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি আইন প্রনয়ন করতে হবে। ১৪২ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে এক-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এটা করতে হবে। 

তিনি বলেন, আমরা দেখছি বর্তমানে সংবিধান কিভাবে সংশোধন করা হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশের বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করতে হবে। সাম্প্রতিকালে আন্দোলন-সংগ্রাম ও অভ্যুত্থানের বিষয়গুলো সংশোধনীর মধ্যে আসবে। সংবিধানের মধ্যেই যে পদ্ধতি বলা আছে সেভাবেই সংবিধান সংশোধন করতে হবে।

ব্লাস্ট্রের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, সংবিধানের অনেকগুলো আইন ঔপনিবেশিক আমলের। সংশোধনীর মাধ্যমে এগুলো যুগপোযোগী করা যায় কীনা সংশ্লিষ্ঠরা ভেবে দেখতে পারেন। তাছাড়া বিভিন্ন সামরিক শাসনের আমলে করা আইনগুলো এখনও রয়ে গেছে, এগুলো বাতিল করা যায় কীনা সেটাও চিন্তা করতে হবে। 

আরও পড়ুন

×