ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েও জামুকায় নাম উঠেনি, মৃত্যুর আগে গেজেটে অন্তর্ভুক্তির দাবি

মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েও জামুকায় নাম উঠেনি, মৃত্যুর আগে গেজেটে অন্তর্ভুক্তির দাবি
×
×

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. শাহজাহান চৌধুরী।

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | ২৩:২৬ | আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | ২৩:২৭

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ এবং এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র থাকা সত্ত্বেও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না পাওয়াতে নিরুপায় হয়ে আজ বুধবার দুপুরে মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিন মুক্তিযোদ্ধা। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও স্বীকৃতি না পাওয়ায় জীবনের শেষ বয়সে এসে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে খোলা চিঠি দিয়েছেন তাঁরা।

স্বীকৃতিবঞ্চিত ওই তিন ব্যক্তি হলেন-হরিরামপুর উপজেলার দিয়াবাড়ি গ্রামের মো. শাহজাহান চৌধুরী,  হরিামপুর উপজেলার কুমারদহ গ্রামের কাজী শরীফ উদ্দিন ও ঘিওর উপজেলার সিংজারী গ্রামের মো. সিদ্দিকুর রহমান বাচ্চু।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. শাহজাহান চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধ শেষে ২ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর সাব-সেক্টরের এরিয়া কমান্ডার ক্যাপ্টেন আব্দুল হালিম চৌধুরী, ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল মতিন চৌধুরী ও প্রিন্সিপাল আব্দুর রউফ খানের তত্ত্বাবধানে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের নামের সঙ্গে আমাদের নাম মুক্তিবার্তায় প্রকাশিত হয়।

শাহজাহান চৌধুরী আরও বলেন, সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা গেজেট করার উদ্যোগ নিলে আমরা যথাযথ নিয়ম মেনেই আবেদন করি। জেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটি আমাদের নাম ‘ক’ তালিকাভুক্ত করে গেজেটে নাম অন্তভুর্ক্তি করার জন্য জামুকায় সব প্রমাণাদিসহ সুপারিশ করে। কিন্তু তাতেও আমাদের নাম গেজেটে অন্তভুর্ক্তি করা হয়নি। পরে ২০২৩ সালে নিরুপায় হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, প্রমাণসহ হাইকোর্টে রিট করা হয়। রিটে মহামান্য হাইকোর্ট কেন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার নাম গেজেটভুক্ত করা হবে না মর্মে চার সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর আদেশ দেন। কিন্তু চার সপ্তাহের স্থলে দুই বছর হয়ে গেলেও বিবাদীরা কোনো জবাব দেয়নি। ইতিমধ্যে ২০২৪ সালের সরকার পরিবর্তনের পর মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক শুনানি সম্পর্কে যে কোর্ট বরাদ্দ ছিলো, তা ভেঙে দেওয়ার কারণে বর্তমানে আইনের কোনো সহায়তা পাচ্ছি না।

তাঁরা আরও বলেন, জীবনের দীর্ঘ সময় পার করে এখন বার্ধক্যে পৌঁছেছেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না পাওয়ার বেদনা তাঁদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। জীবনের শেষ সময়ে এসে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়াই তাঁদের একমাত্র প্রত্যাশা। বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় তদন্ত, যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তাঁদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য প্রধান মন্ত্রীর সহযোগিতা প্রার্থনা করেছেন।

আরও পড়ুন

×