ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া

আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে: সালমা আলী

আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে: সালমা আলী
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২০ | ১৫:০২

ধর্ষণ মামলার বিচারে 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০' সংশোধন করে মৃত্যুদণ্ডের বিধান যুক্ত করার বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সালমা আলী।

তিনি বলেন, আইনের আলোকে শুধু শাস্তির মাত্রা বাড়ালেই বিচার হয় না, আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণ মামলায় অপরাধের ধরন অনুযায়ী আসামিদের সাজা নিশ্চিত করতে হবে। এটি করতে গেলে আইন যেটি হয়েছে, তার আলোকে বিধিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। ২০ বছর হয়ে গেছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনটি প্রণীত হয়েছে। অথচ এখনও  বিধিমালা প্রণয়ন হয়নি। এ ব্যাপারে সরকারের সুদৃষ্টি প্রয়োজন।

গতকাল সোমবার ধর্ষণের মামলায় আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে আইন সংশোধন করে মৃত্যুদণ্ডের বিধান যুক্ত করে সরকার। এরপর এক প্রতিক্রিয়ায় সমকালকে এসব কথা বলেন সালমা আলী।

ব্রিটিশ আমলে প্রণীত সাক্ষ্য আইন, পেনাল কোড সংশ্নিষ্ট আইনগুলো যুগোপযোগী করার গুরুত্ব তুলে ধরে এ মানবাধিকারকর্মী আরও বলেন, বিচারের সময় নারীকে যেভাবে ধর্ষণের বিষয়গুলো নিয়ে বিব্রতকর প্রশ্ন করা হয়, সেসব বিষয়কে উন্নত বিশ্বের বিচার ব্যবস্থার আদলে যুগোপযোগী করতে হবে। একইভাবে আইনে ধর্ষণের সংজ্ঞার পরিধিও বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে পুলিশ যেগুলোকে 'অস্বাভাবিক ধর্ষণের ঘটনা' বলে উল্লেখ করে, সেগুলোকে সংজ্ঞার মধ্যে আনতে হবে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীর প্রতি যে অমানবিক ঘটনা ঘটেছে সেটিও কিন্তু ধর্ষণের পর্যায়ে পড়ে। তাকে শুধু বিবস্ত্র করে নির্যাতন করা হয়নি, বিভিন্ন সময়ে তাকে ধর্ষণও করা হয়েছে। অথচ তার ধর্ষণের আলামত সংগ্রহ করা এখন দুরূহ।

সালমা আলী আরও বলেন, পুলিশি তদন্ত ব্যবস্থাও ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। থানাগুলোতে ধর্ষণ-সংক্রান্ত বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নারীকে যথাযথ সহযোগিতা করার জন্য কমপক্ষে তিনজন নারীবান্ধব কর্মকর্তাকে নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত। তাছাড়া নারী নির্যাতন-সংক্রান্ত মামলার বিচারে দেশে মাত্র ১০১টি ট্রাইব্যুনাল রয়েছে, যেখানে মাদক, মানব পাচারসহ আরও কয়েকটি অপরাধের বিচার করা হয়। এক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের শুধু নারী নির্যাতনের মামলাগুলো বিচারের দায়িত্ব দেওয়া উচিত। নয়তো বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

ধর্ষণের ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সালমা আলী বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বাধা একটি বড় চাপ হিসেবে কাজ করে থাকে। এক্ষেত্রে থানা ও পুলিশি তদন্ত কাজকে কীভাবে প্রভাবমুক্ত রাখা যায়, সেজন্য আইনি কাঠামো সংস্কার করা প্রয়োজন। এটি হতে হবে দেশের উচ্চ আদালতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আদালতের দেওয়া রায়ের আলোকে। তাহলেই কেবল নারী নির্যাতনের মামলাগুলোতে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন

×