দুই বাংলাদেশির অভিযান
হিমলুং পর্বতে উড়েছে লাল-সবুজ পতাকা
অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান দুই পর্বতারোহীকে অভিনন্দন জানান- সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০১৯ | ১০:৩৫
নেপালের সাত হাজার ১২৬ মিটার উঁচু 'হিমলুং' পর্বত জয় করেছেন দুই বাংলাদেশি। গত ২৩ অক্টোবর সকালে ওই পর্বতের শিখরে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ওড়ানো হয়।
শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ তথ্য জানান এবং অভিযানের পতাকা ও স্পন্সরদের ব্যানার প্রত্যর্পণ করেন। বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্র্যাকিং ক্লাব এর আয়োজন করে।
অ্যান্টার্কটিকা ও সুমেরু অভিযাত্রী ইনাম আল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান এবং নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ধনবাহাদুর ওলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন অভিযানের স্পন্সরকারী প্রতিষ্ঠান আরলা ফুডস বাংলাদেশ লিমিটেডের হেড অব মার্কেটিং গালীব বিন মোহাম্মদ।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের দলনেতা দু'বার এভারেস্ট শৃঙ্গ জয়ী এম এ মুহিত হিমালয়ের 'হিমলুং' শিখরে ওড়ানো জাতীয় পতাকাটি প্রত্যর্পণ করেন ও অভিযানের স্লাইড দেখান। অভিযাত্রী ইকরামুল হাসান শাকিল অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান দুই পর্বতারোহীকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, আমরা তাদের অভিজ্ঞতা শুনলাম এবং ছবি দেখলাম। এই অভিযানের কষ্টকর ও আনন্দময় দিক- দুটোই আমাদের উৎসাহ দেয়। বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্র্যাকিং ক্লাব দেশের পর্বতারোহীদের নিয়ে কাজ অব্যাহত রাখবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
এম এ মুহিত বলেন, দেশের তরুণ পর্বতারোহীদের মধ্যে শাকিল ও বিপ্লব সাত হাজার মিটার আরোহণ করেছেন। তারা এখন এভারেস্টে আরোহণের জন্য তৈরি। স্পন্সর পেলে আগামী বছর তাদের এভারেস্ট অভিযানে পাঠানো হবে।
ইকরামুল হাসান শাকিল অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, পর্বতের চূড়ায় আরোহণ করার পর আনন্দে আমার চোখ পানি চলে এসে গিয়েছিল। দেশের পতাকা তুলে ধরার যে আনন্দ, তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে অন্নপূর্ণা ও মানাসলু অঞ্চলের মাঝে রয়েছে ৭,১২৬ মিটার (২৩,৩৮০ ফুট) উঁচুু 'হিমলুং' শিখর। বাংলাদেশের দুই পর্বতারোহী গত ৫ অক্টোবর নেপালের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। ৮ অক্টোবর তারা নেপালের কোটা থেকে ট্র্যাকিং শুরু করেন এবং ১২ অক্টোবর বেস ক্যাম্পে (১৫,৯১২ ফুট) পৌঁছান। ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর যথাক্রমে ক্যাম্প-১ (১৭,৮৮০ ফুট), ক্যাম্প-২ (১৯, ৬৮৫ ফুট) এবং ক্যাম্প-৩ (২১,০০০ ফুট) পর্যন্ত আরোহণ করেন তারা। ২৩ অক্টোবর ভোর ৪টায় ক্যাম্প-৩ থেকে দুই শেরপা গাইডকে সঙ্গে নিয়ে প্রচণ্ড ঝড়ো বাতাসের মধ্যে বাংলাদেশের এই দুই পর্বতারোহী চূড়ান্ত আরোহণ শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টা পর উড়ন্ত তুষার কণায় এম এ মুহিত চোখে আঘাত পান এবং এক শেরপাকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্প-৩-এ নেমে আসেন।
অন্য শেরপাকে নিয়ে ইকরামুল হাসান শাকিল আরোহণ অব্যাহত রাখেন এবং খাড়া হিমবাহের দেয়ালে স্থাপিত দড়িতে জুমার ক্লাইম্বিং শেষে ২৩ অক্টোবর স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১০ মিনিটে 'হিমলুং' শীর্ষে আরোহণ করেন। এ অভিযান পরিচালনা করে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্র্যাকিং ক্লাব। এতে যৌথভাবে স্পন্সর করে ইস্পাহানী টি লিমিটেড ও আরলা ফুডস বাংলাদেশ লিমিটেড।
- বিষয় :
- হিমলুং পর্বত
