রক্ষা পাবে না বিদেশে পলাতক অপরাধীরা
সাহাদাত হোসেন পরশ
প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০১৯ | ১৩:০৫
দুবাই, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডসহ আরও কয়েকটি দেশে বসে বেশকিছু সংখ্যক
বাংলাদেশি নির্বিঘ্নে তাদের অপরাধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানে তাদের
'সেকেন্ড হোম' রয়েছে। সরকার তাদের বিরুদ্ধে এবার শক্ত অবস্থান নিচ্ছে।
বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে কোনো অপরাধমূলক কাজে জড়ালে তাদের বিরুদ্ধে
কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ দেশ-বিদেশে যেখানেই হোক তাদের রক্ষা নেই।
যেভাবেই হোক তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সূত্র বলছে, দেশের বাইরে পলাতক থেকে অপরাধে জড়ালে ওই বাংলাদেশির পাসপোর্ট
বাতিল করার উদ্যোগ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই প্রক্রিয়ার
প্রথম ধাপ হিসেবে কক্সবাজারের টেকনাফের বড় ইয়াবা কারবারিদের অর্থ জোগানদাতা
জাফর আহমেদ ওরফে টিটি জাফরের বাংলাদেশি পাসপোর্ট বাতিল হচ্ছে। এরই মধ্যে
তার পাসপোর্ট বাতিল করতে র্যাবের পক্ষ থেকে সংশ্নিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া
হয়েছে। পাসপোর্ট বাতিলের পর দুবাই পুলিশের সহায়তায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনবে
র্যাব। এই প্রথম কোনো বড় ইয়াবা গডফাদারের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া
হচ্ছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজারের র্যাব-১৫-এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার
আজিম আহমেদ সমকালকে বলেন, ইয়াবা কারবারের নেপথ্যে যারা অর্থ বিনিয়োগ করছে
তাদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে জাফর। তার পাসপোর্ট বাতিল করতে প্রয়োজনীয়
প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আরও যারা বিদেশে বসে অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে
জড়িত তাদের পাসপোর্ট পর্যায়ক্রমে বাতিল করা হবে। অপরাধীরা যাতে নিজ দেশের
পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশে বসে কোনো বেআইনি কাজ করতে না পারে সেই লক্ষ্যে
পাসপোর্ট বাতিলের এমন উদ্যোগ নেওয়া হলো।
সংশ্নিষ্টরা বলছেন, যেসব অপরাধী দেশের বাইরে রয়েছেন তাদের ব্যাপারে
ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসবি, ইমিগ্রেশন ও বিদেশি মিশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
যাতে ওই অপরাধী দেশে ফিরলে বিমানবন্দরে তাকে গ্রেপ্তার করা যায়। এমনকি
ভিন্ন নামে অপরাধীরা যাতে পাসপোর্ট পেতে না পারেন সে ব্যাপারেও রাখা হচ্ছে
নজরদারি।
র্যাবের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গত কয়েক বছরে টেকনাফকেন্দ্রিক
কোনো ইয়াবার চালান ধরা পড়লেই বেরিয়ে আসে ওই চালানের মালিক জাফর। তবে
দীর্ঘদিন ধরে সপরিবারে দুবাই থাকায় কোনোভাবে তার ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ
নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এরপর জাফরের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা
হয়। সেখানে দেখা যায়, জাফরের পাসপোর্ট নম্বর-বিকে-০৩৮৯৯১১। ২০১৬ সালে তার
নামে সর্বশেষ পাসপোর্ট ইস্যু হয়। এর মেয়াদ শেষ হবে ২০২১ সালে। র্যাবের
ধারণা, জাফরকে আনা গেলে ইয়াবার অনেক আদ্যোপান্ত উঠে আসবে।
দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের শেষ দিকে শ্রীলংকায় একটি হেরোইনের
চালান ধরা পড়ে। ৩০২ কেজির সেই চালান ছিল শ্রীলংকার ইতিহাসে হেরোইনের
সর্ববৃহৎ চালান জব্দের নজির। ওই চালানের সঙ্গে বাংলাদেশি একটি গ্রুপ জড়িত
ছিল। শ্রীলংকার ওই চালান জব্দের ঘটনা গণমাধ্যমে আসার পরপরই বাংলাদেশ থেকে
গা-ঢাকা দেন দুই শীর্ষ হেরোইন কারবারি। দ্রুত তারা দেশ ছাড়েন। ওই দুই
কারবারি হলেন- শেখ মোহাম্মদ আরিফ উদ্দিন (৩৫) ও শেখ আহমেদ হোসেন সুমন।
শ্রীলংকার চালানের সঙ্গে তাদের যোগসূত্র ছিল। তাদের মধ্যে ৩১ ডিসেম্বর
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে মালয়েশিয়া পালিয়েছেন আরিফ। পরদিন একই
দেশে পালিয়েছেন তার সহযোগী সুমন। এই দুই হেরোইনকারবারির পাসপোর্টসহ
অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে
হেরোইন কানেকশনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বায়িং হাউসের আড়ালে হেরোইন কারবারের
সঙ্গে জড়িত চয়েজ রহমানকে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশের বেশ
কয়েকজন সন্ত্রাসী বিদেশে বসেই ঢাকায় তাদের আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করছেন।
মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত রয়েছেন ভারতে। জিসান রয়েছেন দুবাইয়ে। জয়
আছেন নেপালে। আগা শামীম সুইজারল্যান্ডে। তিনি আবার স্থান পরিবর্তন করে
মাঝেমধ্যে জার্মানিতে থাকেন। লালবাগ ট্যানারি এলাকা ছাড়াও ঢাকা সিটি
করপোরেশন দক্ষিণের টেন্ডার বিদেশে বসে নিয়ন্ত্রণ করছেন আগা শামীম। ঢাকা
সিটি করপোরেশন (উত্তর), ওয়াসা এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের দরপত্র নিয়ন্ত্রণ
করছেন জয়, সুব্রত বাইন, জিসান ও আখতার। সুব্রত বাইন, শাহাদাত হোসেন ও শাহিন
শিকদারের রয়েছে পেশাদার অপরাধী গ্রুপ। সম্প্রতি শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান
দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের খবর পুলিশ থেকে নিশ্চিত করা হলেও পরে তা নিয়ে ধোঁয়াশা
তৈরি হয়। কুখ্যাত সেভেন স্টার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সুব্রত বাইন দেশের
বাইরে পলাতক থাকলেও মগবাজার-খিলগাঁও এলাকায় তার আধিপত্য এখনও বিরাজমান।
- বিষয় :
- অপরাধী
