ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

জিনোম সিকোয়েন্স গবেষণার বড় অর্জন সিএনএনে সংবাদ!

জিনোম সিকোয়েন্স গবেষণার বড় অর্জন সিএনএনে সংবাদ!
×

'কোভিড-১৯ ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের গবেষণায় অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি'র বিষয়ে বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে বিসিএসআইআর। ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২১ | ০৭:২১ | আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২১ | ০৭:৫২

কোভিড-১৯ ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের গবেষণায় অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিল বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে এ গবেষণার অগ্রগতির কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।

তবে বাংলাদেশে জিনোম সিকোয়েন্সের গবেষণা নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএনে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এটিকেই নিজেদের বড় অর্জন দাবি করে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিসিএসআইআর।

বুধবার বিসিএসআইআর-এর কনফারেন্স রুমে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিসিএসআইআর'র চেয়ারম্যান ডা. মো. আফতাব আলী শেখ বলেন, 'সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা সিএনএনের এক প্রতিবেদনে কোভিড-১৯ এর গবেষণায় অগ্রগতির জন্য বাংলাদেশের গবেষকদলের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। সিএনএন তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, কম রিসোর্স থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা এবং সুরিনামের মতো দেশগুলো নমুনা প্রক্রিয়াকরণের দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকেও দ্রুতগতিতে কাজ করছে।'

এ সময় বাংলাদেশে জিনোম সিকোয়েন্স গবেষণার অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে নতুন কোনো তথ্য জানাতে পারেননি বিসিএসআইআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, 'আগের মিটিংয়ে যেটি জানানো হয়েছিল সেটিই অগ্রগতি। পরবর্তী আপডেট থাকলে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে তাদের যে প্রশংসা করা হয়েছে সে বিষয়ে জানাতে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে।'

সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নাম আসাটা কত বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন? -এমন প্রশ্নের জবাবে আফতাব আলী শেখ বলেন, 'তারা সেখানে বাংলাদেশের গবেষণার ভূয়সী প্রশংসা করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমটির সিনিয়র মেডিকেল করেসপন্ডেন্ট এলিজাবেথ কোহেন তার প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের গবেষণাকে তুলনা করেছেন।'

বিষয়টি জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে জানানোর মতো কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এ প্রতিবেদন প্রকাশকে আমরা আমাদের অগ্রগতি হিসেবে দেখছি, বিশ্বের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছি। এটা শুধু না, গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটার (জিআইএসএআইডি) মুখপাত্র হোয়াটসঅ্যাপে আমাদের গবেষকদলের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন।'

এ পর্যন্ত ৩০৪টি জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ে কী ফলাফল পাওয়া গেছে এমন প্রশ্নে বিসিএসআইআর'র চেয়ারম্যান বলেন, 'গবেষণা এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। আমরা প্রাথমিক তথ্যগুলো ডাটা ব্যাংকে জমা দিয়েছি।'

এ সময় গবেষণা দলের প্রধান ডা. মো. সেলিম খানসহ অন্য সহযোগী গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন। তবে তাদের কোনো কথা বলতে দেওয়া হয়নি। সাংবাদিকরা সেলিম খানের কাছে ভাইরাস সিকোয়েন্সিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে আফতাব আলী শেখ বলেন, 'না, উনি কিছুই বলবেন না। অগ্রগতি হলে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।' যুক্তরাজ্যের মতো বাংলাদেশেও কোভিড-১৯ ভাইরাসের মিউটেশন হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এটি এখনও বলা যাবে না।'

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, করোনা আক্রান্তদের নমুনা সংগ্রহ করে ভাইরাসটির উৎস, গতি-প্রকৃতি ও বিস্তার রোধের উপায় নিয়ে গবেষণা করছে বিসিএসআইআর। ৩০৪টি এসএআরএস-কোভিড-২ ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করে সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্সিং ডাটা জিআইএসএআইডি-এর কাঝে জমা দেয়া হয়েছে।

এ গবেষণায় সহায়তা করেছেন যুক্তরাজ্যের সাইটেক কনসালটিং অ্যান্ড সল্যুমনের সিনিয়র কনসালটেন্ট ড. সমীর উজ্জামান সমীর ও অস্ট্রেলিয়ার সাইটেক কনসালটিং অ্যান্ড সল্যুশনের সিনিয়র কনসালটেন্ট ইশরার ওসমান। গবেষণায় নমুনা সরবরাহ করেছেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক এ কে এম সামসুজ্জামান ও তার গবেষক দল।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিসিএসআইআর জানিয়েছিল, দেশে নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) জিনোম সিকোয়েন্সে আটটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে। এদিন তারা ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন (এনসিবিআই) ও গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফুয়েঞ্জা ডাটায় (জিএসএআইডি) ১৭১টি জিনোম সিকোয়েন্সিং ডাটা জমা দেওয়ার কথা জানায়। পরে ৭ নভেম্বর করোনার জিনোম সিকোয়েন্স বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতির বিষয়ে জানায় প্রতিষ্ঠানটি। ওইদিন তারা বলে, করোনার জিনগত বৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ করার জন্য সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের সর্বমোট ২৬৩টি জিনোম সিকোয়েন্সিং ও ডাটা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×