ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম বিভাগ

দুর্ভোগে পানিবন্দি মানুষ

দুর্ভোগে পানিবন্দি মানুষ
×

টানা বৃষ্টিতে ভয়বাহ বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি জেলা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রোববার তোলা ছবি: সমকাল

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬ | ০৭:০২ | আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬ | ০৭:০৯

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের সৌদিপ্রবাসী আক্কাস আলীর পাকা ঘরে এখন হাঁটুপানি। রান্নাবান্না বন্ধ। নেই কোনো পুরুষ মানুষ। দুই সন্তানকে নিয়ে গৃহবধূ আসমা বেগম পড়েছেন ঘোর বিপদে। গতকাল রোবার দুপুরে জানতে চাইলে আসমা বেগম বলেন, ‘বিল্ডিং ঘরে থাকি। মানুষ ভাবছে, আমরা ভালো আছি। আমাদের হাতে কিছু টাকা আছে। কিন্তু সে টাকা দিয়ে খাবার ও বিশুদ্ধ পানি আনার মতো অবস্থা নেই।’

শুধু আসমা বেগম নন; ছয় দিন ধরে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চট্টগ্রামের বানভাসিদের। পানি আগের তুলনায় কিছুটা কমলেও গতকাল আবার বৃষ্টি বাড়ায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ৫ জুলাই থেকে গতকাল পর্যন্ত অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় পাঁচ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। প্রাণ হারিয়েছেন ১৩ জন। আহত ১২ জন। ৫৮০টি কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ২১ হাজার ৯০০ জন।

গতকাল বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র থেকে লোকজন বাড়ি ফিরতে শুরু করেন। সড়ক ও ট্রেন যোগাযোগ আবার স্বাভাবিক হচ্ছে। 

সরকারি হিসাব অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলা এবং হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের ৫৮টি উপজেলার সোয়া ১০ লাখ মানুষ পানিবন্দি। তারা খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছেন। এ পর্যন্ত এই দুর্যোগে সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১। এর মধ্যে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে মৃত্যু হয়েছে ২৫ জনের। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় মাঠ প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্গতদের মধ্যে ৭১০ টন চাল, প্রায় ৬০ লাখ টাকা এবং ৩৯ হাজার ২৫০ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। আরও ৪৯০ টন চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

গতকাল আবার ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রাম নগরে। নগরের বেশ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, সরকারের সব প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। প্রয়োজনীয় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং অন্যান্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে। গতকাল চট্টগ্রাম নগরের কয়েকটি এলাকার দুর্গত মানুষের হাতে ত্রাণ তুলে দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। 

নগরের চান্দগাঁও সিঅ্যান্ডবি ও মোহরা এবং দক্ষিণ কাট্টলি এলাকা পরিদর্শন করেন এবং পানিবন্দি পরিবারের মধ্যে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন তিনি। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান সঙ্গে ছিলেন।

সাতকানিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘উপজেলার প্রায় প্রধান প্রধান সড়ক থেকে পানি নেমে গেছে। তবে নিচু জায়গায় এখনও পানি রয়ে গেছে। জনগণকে দুর্ভোগ থেকে বাঁচাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। 

চন্দনাইশে এখনও ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি

চন্দনাইশ উপজেলায় বৃষ্টি কমায় গতকাল বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এখনও কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। 

গতকাল সরেজমিন দোহাজারী পৌরসভার কিল্লাপাড়ার বিধবা রোজী আকতার বলেন, ‘গত সপ্তাহের বুধবার থেকে ঘরে হাঁটুপানি। ঘরে খাবার নেই। এ পর্যন্ত সরকারি ১০ কেজি চাল ত্রাণ পেয়েছি।’ 

পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন সাতবাড়িয়া এলাকার আবু তাহেরও ঘরে হাঁটুপানিতে দাঁড়িয়ে আক্ষেপ করে বলছিলেন, ‘বন্যার পানিতে কষ্ট পাচ্ছি এক সপ্তাহ ধরে। এ পর্যন্ত কারও কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাইনি।’ 

ইউএনও মো. আবদুর রহমান বলেন, ‘২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৫০ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।’

চট্টগ্রাম-১৪ চন্দনাইশ-সাতকানিয়া (আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন বন্যাদুর্গতদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন।

চট্টগ্রাম ছাড়া অন্যান্য বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষা চলবে

চট্টগ্রাম বিভাগ ছাড়া দেশের অন্যান্য এলাকায় উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা যথারীতি সূচি অনুযায়ী চলবে। গতকাল সন্ধ্যায় শিক্ষা বোর্ডগুলোর মোর্চা আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে আরও বলা হয়, ১৩, ১৫ ও ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ও এ বিভাগের পাঁচ জেলায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেন চলাচল আবার শুরু

গত মঙ্গলবার থেকে পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর গতকাল আবার ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে। গতকাল দুপুর দেড়টায় চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায় ঢাকা থেকে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস। 

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে গৃহবধূর মৃত্যু

গত শনিবার রাতে কক্সবাজার শহরে পাহাড় ধসে রোজিনা বেগম নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তিনি শহরের পূর্ব কলাতলী ঝরঝরিপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল মজিদের স্ত্রী। এ ছাড়া চকরিয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে সজীব জলদাস (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বেলা ৩টার দিকে উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খোজাখালী জলদাসপাড়া এলাকা থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে ওই গ্রামের তুফান জলদাসের ছেলে।

এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পেকুয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে ২১ মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়। তার নাম মুশফিকুর রহিম। সে ওই এলাকার সৌদিপ্রবাসী মো. নাছিরের ছেলে। এ নিয়ে গত ৫ জুলাই জেলায় পাহাড় ধসে, পানিতে ডুবে ও দেয়ালচাপায় প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮-এ।

জেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও পানিবন্দি আড়াই লাখ মানুষ। চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের শাকের মোহাম্মদচর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ হোছাইন। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে তাঁর বসতঘর। তিনি বলেন, ‘এখানে পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। সবাই অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকের ঘরবাড়িও ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত।

চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের মতোই পেকুয়া, মাতামুহুরী, রামু ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত। প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা এখনও পানির নিচে। ডুবে আছে হাজারো ঘরবাড়ি। পানিবন্দি মানুষ এখন কাটাচ্ছেন দুর্বিষহ দিন।

পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাইছড়ি ভেলুয়াপাড়ায় ছোট একটি মাটির ঘরে এক ছেলে, ছেলের বউ আর দুই নাতি নিয়ে বসবাস করছিলেন সাফুরা খাতুন। তিনি বলেন, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি এবং বন্যার পানিতে ঘরটি ভেঙে গেছে। প্রতিবেশীরা কয়েক বেলা খাবার পাঠিয়েছেন। সরকারি কোনো সহযোগিতা আসেনি। অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটছে তাদের।

কাকারা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘আমাদের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যায়, আর আমরা উঁচু মাচার ওপর আশ্রয় নিয়ে থাকতে বাধ্য হই। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই। প্রতিটি দিন আমাদের জন্য এক কঠিন সংগ্রাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা মিলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় একযোগে কাজ করছেন। 

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬৯টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত এবং দুই থেকে আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি। ইতোমধ্যে ৩০ লাখ টাকা এবং ৪৫০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের দেওয়া হচ্ছে শুকনো খাবার।

বান্দরবানে এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজার ৭৪৫

ধীরগতিতে পানি নামছে। এখনও পানিবন্দি ৪৯ হাজার ৫০০ জন। নারী-শিশুসহ আশ্রয়কেন্দ্রে আছেন চার হাজার ৭৪৫ জন। এদিকে বিভিন্ন জায়গায় পাহাড়ধস ও সড়ক ভেঙে যাওয়ায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বান্দরবানের চন্দ্রঘোনা ও রাঙামাটি সড়কে ব্রিজঘাটা এলাকায় বেইলি ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় গত শনিবার থেকে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সদর উপজেলার টংকাবতী ইউনিয়নে ব্রিকফিল্ড এলাকার ওপরের সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত। এতে যান চলাচল বন্ধ আছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গতকাল থেকে পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে ফসলের ক্ষেত এখনও পানির নিচে ডুবে আছে। নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়ি পানির তলায়। 

রুমা, রোয়াংছড়ি, থানচি, লামা ও আলীকদম উপজেলায় বন্যার পানি কমলেও বিদ্যুৎ ও মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক এখনও বিচ্ছিন্ন।

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম জানান, উপজেলার চার ইউনিয়ন মিলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা এক হাজার ৩৩০। 

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক এসএম মঞ্জুরুল হক বলেন, পৌর এলাকায় যেসব আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে এবং বাইরে যেখানে মানুষ আশ্রয় নিয়েছে সব মিলে তিন হাজার ৩০০ মানুষকে দুপুরে খাবার দেওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রেও মানুষ বাড়ে, আবার কমে। রাতে আট হাজারের বেশি দুর্গত মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এ পর্যন্ত পাহাড় ধসে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে একজনের। 

খাগড়াছড়িতে ছোট যানবাহন চলাচল বাড়ছে

বন্যার পানি দ্রুত নামতে শুরু করেছে। সড়কের নিচু অংশ থেকে পানি সরে যাওয়ায় খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি, দীঘিনালা-বাঘাইছড়ি, দীঘিনালা-সাজেক এবং দীঘিনালা-লংগদু সড়কেও ছোট যানবাহন এবং মানুষের চলাচল বেড়েছে। 

এখনও জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়ন এবং মহালছড়ির উপজেলার কাপ্তাই বাঁধ অধিকৃত নিম্নাঞ্চলে। খাগড়াছড়ি সদরে চেঙ্গী নদীতীরবর্তী গঞ্জপাড়া ছাড়াও কমলছড়ি, বেতছড়ি, রাজ্যমনিপাড়া, কালাডেবা, বটতলী, ফুটবিল, ঘাটপাড়া, আক্য ডাক্তারপাড়ার চরের ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। এসব ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন কৃষকরা।

দীঘিনালার ইউএনও তানজিল পারভেজ জানান, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো থেকে সব মানুষ বসতবাড়িতে ফিরে গেছেন।

খাগড়াছড়ি জেলা শহর এবং দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ও কবাখালী এলাকায় প্রশাসন-জনপ্রতিনিধির পাশাপাশি সেনাবাহিনী এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের ত্রাণ তৎপরতায় অংশ নিতে দেখা গেছে।

রাঙামাটি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে বন্যার পানি গতকাল অনেকটা কমেছে।

চট্টগ্রামে বন্যাকবলিত এলাকায় সেনাবাহিনীর সহায়তা

চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। গতকাল সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশন-এর উদ্যোগে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগড়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি উপজেলাসহ পার্বত্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এবং বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

১১ জেলায় বিজিবির উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুরে দুর্যোগ মোকাবিলায় সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। বর্তমানে ৯০টি পয়েন্টে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। 

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্যুরো, আঞ্চলিক অফিস ও প্রতিনিধিরা]

আরও পড়ুন

×