মেসিদের কণ্ঠে স্লোগান ফকল্যান্ড, দিয়েগো
ছবি- এএফপি
আহসান হাবিব সম্রাট
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২৫
বিশ্বকাপের শেষ আটের লড়াইয়ে ১০ জনে পরিণত হওয়া সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। অন্য ম্যাচে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা পেয়েছে ইংল্যান্ড। আর এতেই নিশ্চিত হয়ে যায়, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর আরও একটি ক্ল্যাসিক ম্যাচ মাঠে গড়াতে যাচ্ছে।
ফুটবল মাঠে ইংল্যান্ডকে পেলেই যেন তেতে ওঠেন আলবিসেলেস্তে দল ও আর্জেন্টাইন ফুটবল সমর্থকরা। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে নাচের তালে স্লোগান ওঠে, ‘ফর দ্য মালভিনাস, ফর দিয়েগো, ফর লিওস (মেসি) লাস্ট ওয়ান।’ স্লোগানের মমার্থ: মালভিনাস দ্বীপের, দিয়েগো ম্যারাডোনার এবং মেসির শেষ বিশ্বকাপের সম্মানার্থে ইংল্যান্ডকে হারাতে হবে।
ব্রিটিশদের কাছে ফকল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার কাছে মালভিনাস নামে পরিচিত দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সুদীর্ঘকাল থেকেই তিক্ত বিরোধ চলছে। তবে ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ডে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় আর্জেন্টিনা সৈন্য পাঠালে দুই পক্ষের মধ্যে ১০ সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধ হয়। ব্রিটিশদের কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ওই যুদ্ধের অবসান হয়। ভারত ও পাকিস্তানের কাছে যেমনটা কাশ্মীর ইস্যু, তেমনি ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার চিরশত্রুতার মূলে এই ফকল্যান্ড বা মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ।
বিশ্বকাপে প্রায় ২৪ বছর পর আবার সাক্ষাৎ ঘটছে এই দুই চিরশত্রুর। টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী বুধবার জর্জিয়ার আটলান্টায় আলবিসেলেস্তে ও থ্রি লায়ন্স দল মুখোমুখি হবে। এদিকে বিশ্বকাপ ম্যাচে আবার ইংল্যান্ডকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত আর্জেন্টিনার ভক্ত-সমর্থকরা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কেমন ম্যাচ হবে জানতে চাইলে তারা বিবিসি স্পোর্টকে জানায়, ‘ইংল্যান্ড? ইজি -পিসি, ম্যান!’ (ইংল্যান্ড? কোনো দল হলো, তাদের আমরা সহজেই উড়িয়ে দেব)। অন্য একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা খুবই আত্মবিশ্বাসী। ইংল্যান্ড আমাদের কাছে পাত্তা পাবে না।’
‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে। যে লড়াইয়ে তিনবার ইংলিশরা ও দুবার আলবিসেলেস্তেরা জয় পেয়েছে। তবে বিশ্বকাপে এই দুই দলের ম্যাচ ফুটবল ইতিহাসে অনেক নাটকীয় ঘটনা ও রূপকথার জন্ম দিয়েছে। ১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার করা জোড়া গোলে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। ওই ম্যাচে চার মিনিটের ব্যবধানে ম্যারাডোনার করা গোল দুটির একটি ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং অন্যটি ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ হিসেবে ফুটবলবিশ্বে পরিচিতি পায়।
মূলত, ১৯৬২ বিশ্বকাপ থেকে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা ম্যাচ উত্তাপ ছড়াতে শুরু করে। প্রথম সাক্ষাতে ৩-১ ব্যবধানে জয় পায় থ্রি লায়ন্সরা। পরের বিশ্বকাপের (১৯৬৬) কোয়ার্টার ফাইনালেও ইংল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। তবে আর্জেন্টিনার দাবি, ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্টের করা গোলটি অফসাইড ছিল। ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রেফারির ফাউল দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক অ্যান্তনিও রাট্টিন রেফারির সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। পরে রাট্টিনকে মাঠ থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন জার্মান রেফারি রুডলফ ক্রেইতলিয়েন। কিন্তু রাট্টিন মাঠ ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানান। তীব্র উত্তেজনা ছড়ানো ম্যাচটিতে আর্জেন্টিনা খেলোয়াড়দের ‘পশু’ বলে গালি দিয়েছিলেন ইংল্যান্ড কোচ এলফ রামসে। এই ম্যাচের ঘটনা থেকেই পরবর্তী বিশ্বকাপে আনুষ্ঠানিকভাবে লাল কার্ডের প্রচলন হয়।
- বিষয় :
- আর্জেন্টিনা
- বিশ্বকাপ ফুটবল
- ইংল্যান্ড