ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সরকার ও ব্যবসায়ী যৌথ প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে

সরকার ও ব্যবসায়ী যৌথ প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে
×

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বছরব্যাপী উৎপাদন, আমদানি ও যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিতে রোববার এফবিসিসিআই আয়োজিত গোলটেবিল সভায় অতিথিরা- সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০১৯ | ১৪:১৫ | আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০১৯ | ১৫:৫৮

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য যাতে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে না পারে সেজন্য সরকার ও ব্যবসায়ীরা যৌথভাবে কাজ করবে। এজন্য উভয় পক্ষের সমন্বয়ে একটি কাঠামো বা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে। ভোক্তাদের জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা যাতে তাদের বিনিয়োগের যথাযথ মুনাফা পান, তার জন্য কাজ করবে এই প্ল্যাটফর্ম। তবে কোনো ব্যবসায়ী বাজারকে প্রভাবিত করা, মূল্য কারসাজির মতো কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও বাজার সমিতি ব্যবস্থা নেবে। গতকাল রোববার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভারত পণ্যটির রপ্তানি বন্ধ করা এবং কিছু ব্যবসায়ী পরিস্থিতির সুযোগ  নেওয়ায় পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বেড়ে যায়। অন্যদিকে সম্প্রতি বেড়েছে দেশের প্রধান খাদ্যপণ্য চালের দাম। গত সপ্তাহে গুজবের কারণে হঠাৎ করেই এক দিনের জন্য লবণের দাম তিন-চারগুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বছরব্যাপী চাহিদা, উৎপাদন, আমদানি, মজুদ ও সরবরাহ ব্যবস্থা এবং যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিত করার জন্য কী কী উদ্যোগ নেওয়া দরকার, তা ঠিক করতে এই বৈঠক হয়।

রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে টানা আড়াই ঘণ্টা বৈঠক শেষে সভার সারমর্ম সাংবাদিকদের জানান এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, এনবিআরের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিম, প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান, সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, এফবিসিসিআইর পরিচালনা পর্ষদের নেতারা এবং বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবেন, এটা ঠিক আছে। কিন্তু মুনাফার জন্য যেসব কৌশল তারা নেবেন, তা যেন নৈতিক হয়। এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, একটা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন বা আমদানি পর্যায় থেকে ভোক্তা পর্যন্ত যৌক্তিক মূল্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা যায়। চাহিদা ও সরবরাহ যাতে ঠিক থাকে। বছরব্যাপী পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণের সুযোগ থাকে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে না পারে। এজন্য সরকার ও ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে একটি ব্যবস্থাপনা সৃষ্টি করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, প্রকৃত অর্থে চালের দাম বাড়েনি। যেটুকু বেড়েছে, তা খুচরা পর্যায়ে। পাইকারি পর্যায়ে বাড়েনি। বর্তমানে চালের প্রচুর মজুদ আছে। তিনি বলেন, বর্তমানে সবাই সরু চাল খাচ্ছে। মোটা চাল খাচ্ছে না। এমনকি ওএমএস ডিলার মোটা চাল নিতে চাচ্ছে না। এজন্য সরু চালের দাম কিছুটা খুচরা পর্যায়ে বেড়েছে। এজন্য ব্যবসায়ীদের নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বাজার পর্যবেক্ষণে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ১০টি টিম নামানো হয়েছে। এ ছাড়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজার পর্যালোচনা করছে। ফলে চালের দাম অস্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ নেই।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, সভায় ব্যবসায়ীদের বলা হয়েছে, সবাই বাংলাদেশি। কেউ সরকার পক্ষ আর কেউ ব্যবসায়ী পক্ষ তা নয়। দেশের প্রতি যার যে দায়িত্ব, তা পালন করতে হবে। ব্যবসা করার জন্য সরকার বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। ফলে জনগণের প্রতি শুধু সরকার দায়বদ্ধ নয়, ব্যবসায়ীরাও দায়বদ্ধ। ফলে কেউ যদি মজুদ করে, অহেতুক দাম বাড়ায়, তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। ব্যবসায়ীদের নৈতিকতার দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

পেঁয়াজ প্রসঙ্গ : সংবাদ সম্মেলনের বড় অংশজুড়ে ছিল পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ও তার উত্তর। প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, বছরে ২৪ থেকে ২৫ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। চাহিদা মেটাতে ৮ থেকে ৯ লাখ টন আমদানি করতে হয়। বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত গড়ে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টন করে আমদানি হয়। যার সিংহভাগ আসে ভারত থেকে। এবার ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করায় আমদানি কম হয়েছে। আবার কিছু ব্যবসায়ী পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ৃব্দত করে বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী বলেছেন পেঁয়াজের ভিন্ন ভিন্ন ব্যবহার আছে। কৌশলী হলে কম পেঁয়াজ লাগবে রান্নায় এবং তাতে স্বাদও ভালো হয়। বিষয়টি মনে রাখবেন। '

এক প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কোন আমদানিকারক কী পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করেছেন, কোথায় কত দামে বিক্রি হয়েছে তার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কেউ কোনো ধরনের কারসাজি করে থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। পরে এ ধরনের তথ্য তেল, চিনি, ডালসহ অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রেও রাখা হবে।

প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম বলেন, তার সংস্থা তথ্য অনুসন্ধান করছে। কোন আমদানিকারক কী দামে পেঁয়াজ আমদানি করে কত দামে বিক্রি করেছেন, পাইকারি পর্যায়ে কী দাম রাখা হয়েছে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোনো পর্যায়ে কারসাজির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা কমিশনের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, পেঁয়াজের অতিরিক্ত দাম একটা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি। অনেক ব্যবসায়ী এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছেন।

ট্যারিফ কমিশনের সদস্য আবু রায়হান আল বেরুনী বলেন, পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। মজুদ ও আমদানি স্বাভাবিক রয়েছে। যদিও বাণিজ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ঘাটতি নেই এ কথা পুরোপুরি ঠিক নয়।

আরও পড়ুন

×