চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মুখোমুখি ছাত্রলীগ, গুমোট ক্যাম্পাস
ফাইল ছবি
চবি সংবাদদাতা
প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১২:৫৩
পাঁচ দিন ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রলীগের দু'পক্ষের দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া, মারামারি চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুই পক্ষকে নিয়ে সমাধান করতে চাইলেও মানেনি কোনো পক্ষই। সর্বশেষ রোববার সন্ধ্যায় সিএফসি পক্ষের দুই নেতাকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষ। এর প্রতিবাদে সিএফসি পক্ষের নেতাকর্মীরা অবরোধের ডাক দেয়।
নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে রাতে ক্যাম্পাসগামী শাটল ট্রেন বন্ধ রাখা হয়। তবে চট্টগ্রামে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আসার কারণে সোমবার অবরোধ শিথিল করা হয়েছে। সকাল থেকে শাটল চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে সিএফসি পক্ষের দাবি, ভিএক্স পক্ষের নেতা মিজানুর রহমান বিপুল, প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয়সহ হামলাকারীদের আটক এবং তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিস্কার করতে হবে। অন্যদিকে ভিএক্স পক্ষ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেলকে অযোগ্য আখ্যা দিয়ে তার বহিস্কার দাবি করেছে। দুটি পক্ষই তাদের অবস্থানে অনড়। ফলে ক্যাম্পাসে গুমোট পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতির সিএফসি পক্ষটি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের এবং সাবেক দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান বিপুলের ভিএক্স পক্ষটি সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।
অবরোধের কারণে সোমবার অধিকাংশ বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। নাট্যকলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের অর্পিতা ভট্টাচার্য বলেন, 'আমাদের আজ পরীক্ষা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা আগে জানানো হয়- পরীক্ষা হবে না। পরীক্ষা পেছানোর কারণে আমাদের অসুবিধা হয়েছে।'
বাংলাদেশ স্টাডিজ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারজানা রিতু বলেন, 'নিরাপত্তাজনিত কারণে পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টা আগে জানানো হয়- পরীক্ষা স্থগিত। এ কারণে ক্যাম্পাসে সহপাঠীরা আসেনি। যার কারণে ক্যাম্পাসটা কেমন গুমোট লেগেছে।'
ভিএক্স পক্ষের নেতা প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয় বলেন, চবি শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি ব্যর্থ। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যে বয়স থাকার কথা, অনেক আগেই তিনি সেই বয়স অতিক্রম করেছেন। এমন একজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে দিয়ে ছাত্রলীগের ইউনিট চলতে পারে না। তিনি আরও বলেন, রোববার সভাপতির অনুসারীরা প্রক্টর ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আমরাই অবরোধ ডাকব।
শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেল সমকালকে বলেন, 'চট্টগ্রামে রাষ্ট্রপতি আসছেন। তাই নওফেল ভাইয়ের নির্দেশে অবরোধ শিথিল করা হয়েছে। তবে তাপস হত্যা মামলার আসামি বিপুল, দুর্জয়সহ যারা সুমন নাসির ও রাফির ওপর হামলা করেছে, তাদের আটকসহ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিস্কার করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তিন দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দাবি মানা না হলে আবার আন্দোলনে যাব।'
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এসএম মনিরুল হাসান বলেন, 'ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। দুই পক্ষকে নিয়ে মীমাংসার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। ধৈর্য সহকারে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি। এর পরে পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা ব্যবস্থা নেব।
এসব বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় সমকালকে বলেন, 'ঘটনার বিষয় শুনে ভিসি ম্যামের সঙ্গে কথা বলেছি। জড়িতদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। ভিএক্স, সিএফসি- এগুলোকে তো ছাত্রলীগ বলা যাবে না। ছাত্রলীগের মধ্যে একটা দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করার প্রক্রিয়া মনে করি এগুলো। ছাত্রলীগের মধ্যে গ্রুপ থাকবে কেন?'
গত বৃহস্পতিবার রাতে শহীদ আব্দুর রব হলের টেলিভিশন কক্ষে মিটিং করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। তবে সিনিয়ররা বসে ওই দিন রাতেই এর সমাধান করেন। শুক্রবার রাতে রব হলে সিএফসি পক্ষের নেতাকর্মীরা ভিএক্স পক্ষের পাঁচজন কর্মীকে রামদা ও রড দিয়ে পেটায়। এ ঘটনার পর ভিএক্স পক্ষের নেতাকর্মীরা সোহরাওয়ার্দী হলে এবং সিএফসি পক্ষ শাহ আমানত হলে অবস্থান নেয়। তারা কাচের বোতল ও ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি করে। এর পর সন্ধ্যায় চারটি আবাসিক হলে তল্লাশি চালিয়ে ধারালো অস্ত্র ও চার বস্তা পাথর উদ্ধার করা হয়। এর জেরে রোববার সিএফসি পক্ষের নেতা সুমন নাসির ও আবদুল্লাহ আল নাহিয়ান রাফিকে কুপিয়ে জখম করে ভিএক্স পক্ষের নেতাকর্মীরা।