১৫ দিনে চবির ৩ ছাত্রী যৌন হয়রানির শিকার
ফাইল ছবি
চবি সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৬:৪৭
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) তিনজন ছাত্রী গত ১৫ দিনে যাত্রীবাহী বাসে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিটি ঘটনার তাৎক্ষণিক বিচার হয়েছে। অপরাধীরা শাস্তিও পেয়েছেন। তবে বারবার এমন ঘটনার পুনারাবৃত্তিতে যাতায়াতে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ছাত্রীরা। চট্টগ্রাম নগরী থেকে ২২ কিলোমিটার দূরত্বের ক্যাম্পাসে শাটল ট্রেনের পাশাপাশি বাসে যাতায়াত করেন অসংখ্য শিক্ষার্থী ।
গত ২৭ নভেম্বর চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে নগরীতে ফেরার জন্য বাসে ওঠেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। নগরীতে আসার আগেই বাস থেকে অন্য যাত্রীরা নেমে গেলে তাকে বাসে একা পেয়ে ধর্ষণ চেষ্টা চালায় বাসের দুই সহকারী। তবে চিৎকার দিয়ে ওই দিন রক্ষা পান ওই ছাত্রী। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিলে বিষয়টি গণমাধ্যমে আসে। পরে পুলিশ অভিযুক্তদের আটক করে। ওই বাসের চালকসহ তিন জনের নামে ধর্ষণ চেষ্টা মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
১১ দিনের ব্যবধানে গত ৮ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নং গেট এলাকায় আরেক ছাত্রীকে ‘তরী বাসে’ অন্য যাত্রী শ্লীলতাহানি করেন। ওই বাসে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মো. মানিক মিয়া নামের ওই ব্যক্তিকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়। সর্বশেষ গত শনিবার একই স্থানে এক মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক হেনস্তার শিকার হন আরেক ছাত্রী। এবারও ভ্রাম্যমাণ আদালত জামাল উদ্দিন নামের ওই মাদ্রাসা শিক্ষককে ১ মাসের কারাদণ্ড দেন।
এর আগে গত এপ্রিল মাসে ‘তরী বাসে’ নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় যৌন হেনস্তার শিকার হন অর্থনীতি বিভাগের এক ছাত্রী। তার হাতে থাকা মোবাইল ফোন দিয়ে ওই বাসের সহকারীকে আঘাত করে চলন্ত বাস থেকে লাফ দিয়ে রক্ষা পান ওই শিক্ষার্থী।
এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটা ঝুকিপূর্ণ জানিয়ে নুসরাত জাহান নামের এক ছাত্রী সমকালকে বলেন, ‘এখানে শিক্ষার্থীদের শহরে গিয়ে টিউশনি করাতে হয়। শাটল ট্রেন থাকলেও নির্দিষ্ট শিডিউলের কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে বাসে যাতায়াত করতে হয়। তবে ক্যাম্পাস থেকে শহরে যে ‘তরী বাস’ যাতায়াত করে সেটাতে একদম নিরাপদ অনুভব করি না। এমনি কি ছাত্ররাও অনেক সময় ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন।’
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অশরাফি নীতু সমকালকে বলেন, ‘লোকাল বাসে যে সব হয়রানির ঘটনা ঘটছে সেটা শুধুমাত্র বিচার করে শাস্তি দিয়ে নির্মূল করা সম্ভব নয়। তবে ঘটনার পর দ্রুত বিচার হয়েছে এটাতে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে কথাও বলেছি যেন ছাত্রীদের জন্বায সের ব্যবস্থা করা হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি লাইলুন নাহার সমকালকে বলেন, ‘একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি শুধু ছাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে না, তাদের পরিবারও এ বিষয়ে শঙ্কিত। এটা শুধু যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সঙ্গে হচ্ছে তা নয়, সারা দেশে একই ঘটনা ঘটছে। তবে কেউ মুখ খোলেন আবার কেউ নিরব থাকেন। তবে কয়েক দিনের ঘটনাগুলোর বিচার হয়েছে এটা ভালো।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী নির্দেশনা ও পরামর্শ কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক সিরাজ উদ দৌল্লাহ সমকালকে বলেন, ‘আমাদের নজরে আসামাত্রই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমাদের দিক থেকে কোন ত্রুটি রাখছি না। ছাত্র-ছাত্রী নির্দেশনা ও পরামর্শ কেন্দ্রের মাধমে একটা সচেতনতা মূলক প্রোগ্রাম হাতে নিচ্ছি। সেখানে শিক্ষার্থীদের এসব বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারি সার্কেল) আব্দুল্লাহ আল মাসুম সমকালকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন বিষয় নিয়ে পুলিশ সর্বদা তৎপর থাকে। তবে এর মধ্যেও দু’একটা ঘটনা ঘটে যায়। তবে এর মানে এই নয় যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। অভিযোগ পেলেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
- বিষয় :
- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
