ইরাকে আইআরজিসির গোপন সেল
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ১৩:৪৩
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইরাকে গোপন সেল গঠন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনা বা ঘাঁটি রয়েছে এমন উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালানোর জন্য সেলগুলো গঠন করা হয়েছে।
আটটি ইরাকি সূত্রের বরাতে প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূলত গোয়েন্দাদের নজর এড়াতে এবং ইরাকের পরিচিত মিলিশিয়া বা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে পাশ কাটাতেই এই নতুন সেলগুলো তৈরি করা হয়েছে। তিনটি সূত্র জানিয়েছে, এপ্রিলের ২০ তারিখ থেকে মে মাসের ১৭ তারিখের মধ্যে এসব সেল কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে অন্তত সাতটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হামলাগুলো ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বসরা ও সামাওয়ার কাছাকাছি মরুভূমি এলাকা থেকে পরিচালিত হয়।
সূত্রগুলোর মতে, তিন বা চারটি সেলের প্রতিটিতে প্রায় ১০ জন করে ইরাকি শিয়া যোদ্ধা রয়েছেন। তাদের অনেককে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক নামের জোটভুক্ত গোষ্ঠীগুলো থেকে নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন সেলগুলো ওই জোটের কমান্ড কাঠামোর বাইরে থেকে সরাসরি আইআরজিসির কাছে জবাবদিহি করে।
রয়টার্সের সূত্রগুলো বলছে, নতুন এই দলগুলো ওই জোটের কমান্ড স্ট্রাকচার বা কাঠামোর বাইরে কাজ করে এবং তারা সরাসরি আইআরজিসির নির্দেশমতো চলে। রয়টার্সের এই আটটি সূত্রের মধ্যে দুজন ইরাকি সামরিক কর্মকর্তা, একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং পাঁচজন স্থানীয় মিলিশিয়া কমান্ডার রয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা কমে যাওয়া এবং দেশটির সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পদের ওপর চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে আইআরজিসি কৌশল পরিবর্তন করেছে। পাঁচজন স্থানীয় মিলিশিয়া কমান্ডারের মতে, নতুন এই সেল গঠন সেই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন।
ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক-এর ব্যানারে পরিচালিত গোষ্ঠীগুলো দেশটিতে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ডজনখানেক ড্রোন ও রকেট হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে ইরাকে ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর বড় ধরনের তৎপরতা দেখা যায়নি।
গত বছর থেকে ইরাকের কয়েকটি প্রভাবশালী শিয়া গোষ্ঠী সংঘাত এড়াতে অস্ত্র ত্যাগ করে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মনোযোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে আসছে। অবসরপ্রাপ্ত ইরাকি সেনা জেনারেল জাসিম আল-বাহাদলি এবং শাসক জোটের দুই আইন প্রণেতার মতে, এই পরিস্থিতিই আইআরজিসিকে সরাসরি নিয়ন্ত্রিত নতুন গোষ্ঠী গঠনে উৎসাহিত করে থাকতে পারে।
ট্রাম্পের সঙ্গে চুক্তি করে যেভাবে লাভবান হলো ইরান, শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আল-বাহাদলি বলেন, আইআরজিসি গঠিত নতুন দলগুলো তুলনামূলকভাবে ছোট, আদর্শিকভাবে আরও কঠোর এবং অধিক নিয়ন্ত্রিত। অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে সম্পদের ব্যবহার সীমিত রাখার প্রয়োজন থেকেই ইরান এমন পথ বেছে নিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
- বিষয় :
- আইআরজিসি
