ইবিতে ভর্তি জালিয়াতি চক্রের সদস্য আটক
ফাইল ছবি
ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৮:২৬ | আপডেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৮:৩৮
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগে সাদ্দাম হোসেন নামে জালিয়াতি চক্রের এক সদস্য আটক হয়েছে। শনিবার তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) জহুরুল ইসলাম। আটকের পর রোববার রাতে আসামির কাছ থেকে ৮২ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারকে ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সোমবার সকালে অর্থ আত্মসাতের দায়ে প্রতারণা মামলায় সাদ্দামকে কারাগারে পাঠিয়েছে ইবি থানা পুলিশ।
জানা যায়, ভর্তিচ্ছু এক শিক্ষার্থীকে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি করে দেওয়ার আশ্বাস দেয় সাদ্দাম। প্রথম ধাপে ২২ নভেম্বর তার কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা নেয় সে। এর পর আবারও সেই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা নেয় সাদ্দাম। কিন্তু ভর্তিচ্ছু এই শিক্ষার্থী অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে প্রক্রিয়াগতভাবে সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান। তখন সাদ্দামের প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন এই শিক্ষার্থী। এর পর বাকি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মোবাইল ফোনে অপহরণের হুমকি দেয় সাদ্দাম। সে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে পড়তে দেবে না বলেও হুমকি দেয় সে। পরে হুমকির বিষয়টি ওই শিক্ষার্থীর মা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক পরেশ চন্দ্র বর্মণকে জানান। তিনি পুলিশের সহযোগিতায় সাদ্দামকে আটক করতে সক্ষম হন। সাদ্দাম হোসেন ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু থানার ভায়না গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। সে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক সম্মানে পড়াশোনা করেছে।
ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বলেন, এক বন্ধু আমাকে সাদ্দামের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। প্রথমে বাংলায় ভর্তি হয়ে পরে মাইগ্রেশন করে আইনে ভর্তি করে দেওয়ার কথা বলে সাদ্দাম। এর বিনিময়ে দেড় লাখ টাকা চায়। আমি দুই দফায় ৮৫ হাজার টাকা দিয়েছি। পরে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারি।
ভর্তিচ্ছু এই শিক্ষার্থীর বাবা জানান, প্রথমে টাকা দিতে চাইনি। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে টাকা দিই। প্রতারণা বুঝতে পেরে আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি। এ ঘটনার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।
প্রক্টর অধ্যাপক পরেশ চন্দ্র বর্মণ বলেন, 'ঘটনাটি জানার পর থেকে গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় কাজ করছিলাম। পরে গত শনিবার তাকে আটক করতে সক্ষম হয় ইবি থানা পুলিশ। এ বিষয়টির গভীর অনুসন্ধান করা হবে। পুরো চক্রকে আটকের চেষ্টা থাকবে।'
