ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

‘সিন্ডিকেটের কারসাজিতে বেড়েছে উড়োজাহাজের টিকিটের দাম’

‘সিন্ডিকেটের কারসাজিতে বেড়েছে উড়োজাহাজের টিকিটের দাম’
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২২ | ০৯:৩৫ | আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২২ | ০৯:৩৫

কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সির সিন্ডিকেট এবং সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমন্বয়হীনতায় বেড়েছে টিকিটের দাম বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন পর্যটন ব্যবসায়ীদের একাংশ।

তারা বলছেন, ঢাকা থেকে রিয়াদ, জেদ্দা, মাসকাট ও দুবাই রুটে অক্টোবরের আগে উড়োজাহাজে ভাড়া ছিল ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। এখন সেই টিকিট ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার টাকা দিয়েও টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। 

অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) সাবেক সভাপতি এস এন মঞ্জুর মোর্শেদ মাহবুব বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেছেন। তার অভিযোগ, আটাবের বর্তমান কমিটির দু-একজন সদস্য সিন্ডিকেটে সম্পৃক্ত।

মঞ্জুর মোর্শেদের দাবি, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীনতায় উড়োজাহাজের টিকিট নিয়ে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। নিয়ন্ত্রক মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো টিকিটের চাহিদা ও জোগান সম্পর্কে তথ্য বিশ্নেষণ করেনি। ভবিষ্যৎ চাহিদা নিরূপণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।

আটাবের সাবেক সভাপতি বলেছেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অনুমতিতে ফ্লাইট পরিচালনা করে এয়ারলাইন্সগুলো। বেবিচক ভাড়া অনুমোদন করে। কিন্তু ভাড়া অস্বাভাবিক বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেয়নি বেবিচক। অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, জনগণের ক্ষতি ও ভোগান্তির দায় তারা এড়াতে পারে না।

টিকিটের দাম কমাতে এক বছর 'ওপেন স্কাই' নীতি অর্থাৎ এয়ারলাইন্সগুলোকে চাহিদা অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ দেওয়া দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, অক্টোবর থেকে সংকট শুরু হলেও চলতি জানুয়ারি মাসে টিকিটের দামের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। ফলে প্রবাসী কর্মী, বিদেশগামী যাত্রী, রিক্রুটিং এজেন্সি ও ট্যুর অপারেটররা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। 

ঢাকা থেকে রিয়াদ, জেদ্দা, মাসকাট ও দুবাই রুটে ভাড়া ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা হলেও ভারত থেকে এইসব গন্তব্যে টিকিটের দাম ৪০ হাজার টাকারও কম। আবার রিয়াদ, জেদ্দা, মাসকাট ও দুবাই থেকে ঢাকায় আসতে টিকিটের দাম ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চাহিদার চেয়ে জোগান কম হলে উড়োজাহাজে ভাড়া বাড়ে। করোনার কারণে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ৬০ শতাংশ ফ্লাইট কমেছে। এতে টিকিটের দামও বেড়েছে। আবার সৌদি আরব ও আরব আমিরাতে জনশক্তি রপ্তানি বাড়ায় যাত্রীর চাপ বেড়েছে। 

এ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এয়ারলাইন্সের অসাধু কর্মকর্তা এবং কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সি সিন্ডিকেট করে টিকিটে দাম বাড়িয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কয়েকটি এয়ারলাইনন্স বেনামে টিকিট বুকিং করে কৃত্রিম সংকট আরও বেড়েছে। এ কারণে সিট খালি থাকলেও টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে দেখানো হয়। এতে টিকিট দাম বাড়ে। কিন্তুআসন খালি রেখে ছেড়ে যায় এসব ফ্লাইট।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আটাবের সাবেক মহাসচিব আবদুস সালাম আরেফ, সাবেক অর্থ সস্পাদক আবদুল হামিদ প্রমুখ।


আরও পড়ুন

×