ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

মেয়েটিকে ভবঘুরে ভেবেই টার্গেট করি

মেয়েটিকে ভবঘুরে ভেবেই টার্গেট করি
×

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩:৪৩

রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার মজনু আদালতে অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আবু সিদ্দিক। আদালতে মজনু বলেছে, তার টার্গেট ভুল ছিল। তার নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রীকে সে ভবঘুরে মনে করেছিল।

মজনু স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করতে দেন।

এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

জবানবন্দিতে মজনু অপরাধের বিস্তারিত বর্ণনা করেছে। সে জানায়, ধর্ষণের ঘটনায় একাই জড়িত ছিল। দীর্ঘদিন ধরে রেলস্টেশনে শারীরিক প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ নারীদের ধর্ষণ করত।

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, কীভাবে এ ধরনের বিকৃত কাজে মজুন জড়াল, সেই ঘটনাও বলেছে। রেলস্টেশন ঘিরে অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িত অনেকের নাম-পরিচয় জানিয়েছে সে। ধর্ষণের বিষয়ে মজনু বলেছে, তার টার্গেট ভুল ছিল। সে ভেবেছিল, তার টার্গেট করা ওই নারী ভবঘুরে। পরে সে তার ভুল বুঝতে পারে। ওইদিন কুর্মিটোলা হাসপাতাল থেকে ওষুধ নিয়ে বের হয়ে কিছু দূর হাঁটার পরপরই ওই তরুণীকে লক্ষ্য করে। এরপর মেয়েটির ওপর পাশবিক নির্যাতন শুরু করে।

জবানবন্দিতে মজনু আরও জানায়, নোয়াখালী থেকে বাবার সঙ্গে সে ঢাকায় আসে এক দশকেরও বেশি সময় আগে। প্রথমে ছোটখাটো কাজ করত। কিছুদিন ভিক্ষাও করে। রেলস্টেশনে থাকার সময় অনেক ভবঘুরেকে ফাঁসিয়ে তাদের ধর্ষণ করেছে সে। অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপনের কারণে নানা রোগ-শোকে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

ঢাবির ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় গত ৯ জানুয়ারি মজনুর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। গত ১০ জানুয়ারি নারী ও শিশু আইনের ২২ ধারা অনুযায়ী ভিকটিমের জবানবন্দি গ্রহণ করেন আদালত। এ ঘটনায় ৬ জানুয়ারি দুপুরে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে। পরদিন রাতে গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী থেকে মজনুকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৫ জানুয়ারি কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ড থেকে ৪০-৫০ গজ সামনে আর্মি গলফ ক্লাব মাঠসংলগ্ন স্থানে পৌঁছান ঢাবির ওই শিক্ষার্থী। এরপর আসামি পেছন থেকে তার গলা ধরে ফুটপাতে ফেলে দিয়ে গলা চেপে ধরে। ভিকটিম চিৎকার করলে আসামি তাকে কিল-ঘুষি মেরে ভয়ভীতি দেখালে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তখন ওই শিক্ষার্থীকে মজনু ধর্ষণ করে।

ডিবির উত্তর বিভাগের ডিসি মশিউর রহমান বলেন, মজুন যে ভুল টার্গেট করেছিল, এটা স্বীকার করেছে। সে বিকৃত মানসিকতার লোক। সব দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে মজনু। এ মামলায় দ্রুত চার্জশিট দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×