ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

যুদ্ধের পর বিপিসির লোকসান ১৭ হাজার কোটি টাকা

সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী

যুদ্ধের পর বিপিসির লোকসান ১৭ হাজার কোটি টাকা
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ | ০৮:৫১ | আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ | ০৮:৫৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। এতে গত সাড়ে তিন মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান হয়েছে ১৭ হাজার ৩৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা । গতকাল সোমবার সংসদে এই তথ্য জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, মে মাস থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। এর পরও দাম দেশের বাজারের তুলনায় বেশি। জুন মাসে প্রতি লিটার ডিজেলের খরচ ১৭৫ টাকা ২২ পয়সা, অকটেনের খরচ ১৬০ টাকা ৭০ টাকা পয়সা। তবে সরকার জনস্বার্থে ডিজেলের দাম বাড়ায়নি। পেট্রোল, অকটেনের দাম লিটারে পাঁচ টাকা বৃদ্ধির পরও বিপিসিকে দৈনিক প্রায় ৭৮ কোটি টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। 

সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আব্দুল খালেকের প্রশ্নে এসব তথ্য জানান জ্বালানিমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়। 
মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে অনেক কমে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করায় লোকসান সত্ত্বেও বিপিসি নিজস্ব তহবিল দিয়ে তিন মাস ধরে আমদানি কার্যক্রম সচল রেখে চলেছে । আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশের বাজারেও জ্বালানির মূল্য হ্রাস বিবেচনা করা হবে। 
সংরক্ষিত আসনের সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, দেশে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত কয়লা ক্ষেত্র পাঁচটি । বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ী, দিঘীপাড়া, খালাসীপাড়া ও জামালগঞ্জ। এর মধ্যে শুধুমাত্র বড়পুকুরিয়া কয়লাক্ষেত্র থেকে ২০০৫ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে । ফুলবাড়ী ও দিঘীপাড়া কয়লাক্ষেত্রের সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে । 

নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিনের প্রশ্নে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) সহজলভ্য হওয়ায় আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ চালুর আপাতত কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। এলএনজি ঘাটতি থাকায় ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই থেকে বিদ্যুৎ, সার ও বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চল ব্যতীত আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সিএনজি শ্রেণিতে নতুন গ্যাস সংযোগ দেওয়া স্থগিত রাখা হয়েছে । 

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, সব কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র অবসরে পাঠানো হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালার মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দীন খানের প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের বর্তমান চাহিদা দৈনিক প্রায় তিন হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট । চাহিদার বিপরীতে সরবরাহের পরিমাণ দৈনিক দুই হাজার ৬৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট । ঘাটতির পরিমাণ দৈনিক প্রায় এক হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট । 

আরও পড়ুন

×