ইরানের চিঠিতে শান্তির বার্তা
সেকান্দার আলী
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ | ০৯:১৬
আবেগের প্রকাশ মানুষ কতভাবেই না করে– লিখে, কথায়, চোখের জলে। প্রকাশ পায় ভেতরে জমে থাকা কষ্টগুলো। প্রতিবাদের ভাষাও থাকে লেখার গাঁথুনিতে। ইরান ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা তেমনই একটি চিরকুট লিখেছেন ২১ জুন রাতে। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসকে আবেগঘন বিদায় জানান তারা। সোফি স্টেডিয়ামের লকার রুমে হাতে লেখা একটি চিঠি রেখে গেছেন খেলা শেষে মেক্সিকোর বেজ ক্যাম্পে ফিরে যাওয়ার আগে। যেখানে রয়েছে বিশেষ বার্তা। বিশ্বকাপ খেলতে এসে ইরানকে যে যে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে বা হচ্ছে, তারই উল্লেখ রয়েছে চিঠিতে। খেলোয়াড়দের আবেগ, যুদ্ধে ১৬৮ স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু এবং শান্তির বার্তা দেওয়া হয়েছে ফুটবল দলের পক্ষ থেকে।
রোববার রাতেই ইরান ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে চিঠিটি আনা হয় প্রকাশ্যে। যেখানে লেখা রয়েছে, ‘হাজার বছর আগের প্রাচীন পারস্য থেকে আজকের আধুনিক ইরান– আমাদের স্পিরিট এখনও হারিয়ে যায়নি। লস অ্যাঞ্জেলেস, তোমাদের আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ। আমরা অনেক গর্বের সঙ্গে এখানে এসেছি। সম্মানের সঙ্গে খেলেছি এবং মর্যাদা নিয়ে ফিরছি।’
এই বাক্যবিন্যাসে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দের পরতে পরতে রয়েছে গভীর আবেগ এবং একটি জাতির উন্নত মানসিকতার প্রকাশ। ইরানের স্পিরিটের কথা যেমন বলা হয়েছে, তেমনি আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস কর্তৃপক্ষের কাছে। বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপের দল ইরানের দুটি ম্যাচ ছিল যুক্তরাষ্ট্রে। লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ড (২-২) ও বেলজিয়ামের (০-০) বিপক্ষে দুটি ম্যাচই ড্র করেছে তারা। এই ম্যাচ দুটি খেলার আগে লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রস্তুতি নেওয়ার তেমন সুযোগ দেওয়া হয়নি ইরানিদের। ম্যাচ শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগে ভেন্যুর শহরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতো। ম্যাচ শেষ করে দুই ঘণ্টার মধ্যে বাধ্য করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যেতে। ইমিগ্রেশনে হয়রানি তো ছিলই। এই ইরান তাদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি খেলবে মিসরের সঙ্গে সিয়াটলে। সেরা ৩২ বা নকআউটে উন্নীত হলে খেলা পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রে। তখন আবার ফিরে আসবে সেই দুর্বিষহ সময়।
বেলজিয়ামের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করতে পারা ইরানের জন্য ছিল গর্বের। পুরো ৯০ মিনিট লড়াই করে খুশি বিলি করেছে সমর্থকদের মধ্যে। তাই তো দল বেঁধে গ্যালারির সামনে সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইরানের খেলোয়াড়রা। লকার রুমে রেখে যাওয়া চিঠিতেও উল্লেখ রয়েছে, ‘ইরানের প্রত্যেক সমর্থককে ধন্যবাদ, যারা এই ১৮০ মিনিটে নিজেদের উজাড় করে আমাদের সমর্থন করেছেন। পৃথিবীর সব দেশের মধ্যে শান্তি, সম্মান এবং বন্ধুত্ব বজায় থাকুক।’
আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের সময় মিনাব শহরের একটি স্কুলে বোমা হামলায় ১৬৮ জন প্রাণ হারায়। হ্যাশট্যাগ দিয়ে ওই ঘটনাটিও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে চিঠিতে। মাঠে ভালো খেলে পাদপ্রদীপের আলো কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি হাতে লেখে একটি চিঠি প্রকাশ করে বিশ্বের নজর কেড়েছে এশিয়ার দেশটি।
ইরানের প্রধান কোচ আমির গালেনোইয়ের মতে, ইরানের কাজকে কঠিন করে তোলা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোয় প্রবেশের সময় ভিসার জটিলতা এবং টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রস্তুতির জন্য সময়ের অভাব ছিল অন্যতম। তিনি আরও উল্লেখ করেন– ‘পুরো বিশ্বকাপের সবচেয়ে নিপীড়িত দল’। যুক্তরাষ্ট্রের অন্য শহরগুলোর তুলনায় লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রবাসী ইরানিদের বাস সবচেয়ে বেশি। সেই প্রবাসীরাই এসেছিলেন প্রিয় দলকে উজ্জীবিত করতে।
- বিষয় :
- ইরান
- বিশ্বকাপ ফুটবল
