ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

ইরানের গোলরক্ষকের বীরত্বগাথা

ইরানের গোলরক্ষকের বীরত্বগাথা
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ | ১০:১৩

লস অ্যাঞ্জেলেসে ‘জি’ গ্রুপের লড়াইয়ে ইরানের বিপক্ষে পরিষ্কার ফেভারিট ছিল বেলজিয়াম। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে সেরা দশে থাকা ইউরোপীয় দলটি এক ঝাঁক তারকা খেলোয়াড় নিয়ে মাঠে নেমেছিল শক্তির বিচারে বেশ পিছিয়ে থাকা ইরানের বিপক্ষে। কিন্তু একাই দুই দলের ব্যবধান ঘুচিয়ে দিয়েছেন ইরানি গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ। ইরানের গোলপোস্টের সামনে যেন মহাপ্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার এ গোলরক্ষক।

গোলহীন ম্যাচটিতে ইরানের পোস্টে ২২টি শট নিয়েছিল রেড ডেভিলরা। এর মধ্যে অন্তত সাতটিতে গোলের দেখা পেতে পারত ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট দলটি। কিন্তু প্রতিপক্ষের একের পর এক গোল প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে ম্যাচে ইরানকে মূল্যবান ১ পয়েন্ট এনে দেন বেইরানভান্দ। তাঁর বীরত্বে নকআউট পর্বের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা দুই ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়েছে এশিয়ান দেশটি।

আক্রমণভাগে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ তারকা ইডেন হ্যাজার্ড, রোমেলু লুকাকু এবং মিডফিল্ডে মুসা দেম্বেলে ও ড্রি ব্রুইনদের গড়া বেলজিয়ামের রক্ষণভাগের জৌলুসও কম নয়। তারকাখচিত রক্ষণভাগে ছিলেন জ্যা ভার্টনঘেন, টবি আলদারওয়্যারল্ড ও ভিনসেন্ট কোম্পানি। অনুমতিভাবেই ম্যাচের শুরু থেকেই ইরানের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে ইউরোপের দলটি। জয়ের জন্য মরিয়া বেলজিয়াম ম্যাচে একের পর এক আক্রমণের ঢেউ গড়লেও গোলরক্ষক বেইরানভান্দের নৈপুণ্যের কারণে গোলের দেখা পায়নি। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়নের মিডফিল্ডার ম্যাক্সিম ডি কুইপারের দুটি জোরালো শট রুখে দিয়ে প্রতিপক্ষকে ম্যাচে ৩ পয়েন্ট পেতে দেননি বেইরানভান্দ।

অন্যদিকে ম্যাচের ৬৬ মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সত্ত্বেও ম্যাচে  বেলজিয়ামকে পিছিয়ে পড়তে দেননি গোলরক্ষক থিবো কর্তুয়া। ইরানের বেশ কয়েকটি গোল প্রচেষ্টা দক্ষতার সঙ্গে নস্যাৎ করেন রিয়াল মাদ্রিদের এই গোলরক্ষক।

ম্যাচ শেষে ইরান কোচ আমির ঘালেনোই দলের প্রশংসা করে বলেন, ‘যে প্রেক্ষাপটে তাদের দল বিশ্বকাপে খেলতে এসে এখনও টুর্নামেন্টে অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়েছে, তাতে এই ফুটবলাররা জাতীয় বীর হিসেবে বিবেচিত হবে।’ মার্কিনিদের সঙ্গে যুদ্ধ অবস্থার কারণে ঠিকমতো বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিতে না পারা এবং স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের নানা বিধিনিষেধের কারণে অত্যন্ত প্রতিকূলতা নিয়ে বিশ্বকাপে খেলছে এশিয়ান দেশটি। তার পরও টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ইরানের পারফরম্যান্স ফুটবল অনুরাগীদের মন জয় করেছে।

ইরান কোচ বলেন, ‘আমি টুর্নামেন্টের ছয় মাস আগে ফিরে যেতে চাই। দেশে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে আমাদের লিগও (ঘরোয়া ফুটবল আসর) বন্ধ ছিল। অনেক দল আমাদের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ বাতিল করেছে। সম্ভাব্য সবচেয়ে বাজে প্রস্তুতি নিয়ে আমরা টুর্নামেন্টে অংশ নিতে এসেছি। এ পরিস্থিতিতে দুই ম্যাচে অপরাজিত থাকা আমাদের এক অসাধারণ অর্জন। এটা আমাদের ফুটবল ইতিহাসে লেখা থাকবে।’

নিজ দলের গোলরক্ষকের ভূয়সী প্রশংসা করে ঘালেনোই বলেন, ‘ইরানের ফুটবল ইতিহাসে সে অন্যতম সম্মানিত গোলরক্ষক। সে খুবই প্রতিভাবান ও অভিজ্ঞ এবং আজকের দিনটি তার ভালো দিনগুলোর অন্যতম ছিল।’

এদিকে ‘জি’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে মিসর ৩-১ গোলে নিউজল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে ইতিহাস গড়েছে। বেলজিয়াম-ইরান ম্যাচ ড্রয়ের সুবাদে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে মিসর। এতে এই গ্রুপের লড়াই বেশ জমে উঠেছে। নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করতে আগামী শনিবার সিয়াটলে মিসরের মুখোমুখি হবে ইরান।

গ্রুপ পর্বে মিসরের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি টুর্নামেন্টে বাঁচা-মরার লড়াইয়ের পরিণত হওয়ায় আটঘাট বেঁধেই লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নেবে ইরান। কোচ ঘালেনোই বলেন, ‘আমাদের এখনই চলে যেতে হবে এবং বিমান ধরতে হবে। এটাই খুবই ক্লান্তিকর। তারা (স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র) এমনকি আমাদের খানিকটা ক্লান্তি দূর করার সুযোগও দেয় না। যাহোক, মিসরের বিপক্ষে আমাদের বিশেষ পরিকল্পনা থাকবে। বেলজিয়ামের মতো মিসর দলেও উঁচু মাপের খেলোয়াড় রয়েছে। তবে প্রস্তুতি শুরুর জন্য সর্বপ্রথমে আমাদের খেলোয়াড়দের বিশ্রাম প্রয়োজন।’ 

আরও পড়ুন

×