ঢাকা রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

গ্রিন বন্ড ছাড়ছে ব্র্যাক ব্যাংক, অভিহিত মূল্য ১০ লাখ টাকা

গ্রিন বন্ড ছাড়ছে ব্র্যাক ব্যাংক, অভিহিত মূল্য ১০ লাখ টাকা
×
×

গতকাল রোববার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ব্র্যাক ব্যাংকের ঋণ বন্ড ইস্যু উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকের এমডি ও সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহীন ইকবাল, হেড অব স্ট্রাকচারাল ফাইন্যান্স তানভীর কামাল এবং চিফ কমিউনিকেশন অফিসার

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৪০

দেশের প্রথম ব্যাংক হিসেবে এক হাজার কোটি টাকার ‘গ্রিন বন্ড’ ইস্যু করতে যাচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক। তিন বছর মেয়াদি এই বন্ড আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে গ্রাহকরা কিনতে পারবেন। এর অভিহিত মূল্য ১০ লাখ টাকা। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যে কেউ এই বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

গতকাল রোববার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রিন বন্ড ইস্যুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি ও সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান। এ সময়  অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হেড অব হোলসেল ব্যাংকিং মো. শাহীন ইকবাল, হেড অব স্ট্রাকচারাল ফাইন্যান্স তানভীর কামালসহ ব্যাংকটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক ব্যাংকের চিফ কমিউনিকেশন অফিসার ইকরাম কবীর। 

তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, গ্রিন বন্ডের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের জন্য মূলধন সংগ্রহ করা হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব ভবন ও শিল্পকারখানায় জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগে অর্থায়নে সহায়তা করতে চাই।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে গ্রিন বন্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন শাহীন ইকবাল। তিনি জানান, এটি একটি আনসিকিউরড (জামানতহীন), আনকনভার্টেবল (শেয়ারে রূপান্তরযোগ্য নয়), সম্পূর্ণ পরিশোধযোগ্য ও জিরো-কুপন বন্ড (নির্দিষ্ট মেয়াদি কোনো সুদ বা কুপন নেই)। তিন বছর মেয়াদি এই বন্ডের ক্ষেত্রে ডিসকাউন্ট রেট ধরা হয়েছে বার্ষিক সাড়ে ৭ শতাংশ।

তিনি বলেন, কোনো গ্রাহক ব্র্যাক ব্যাংকের গ্রিন বন্ড কিনলে প্রথমে ক্রয়মূল্য হবে আট লাখ চার হাজার ৯৬১ টাকা। তিন বছর মেয়াদপূর্তিতে ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হবে। তাতে মুনাফার পরিমাণ হয় এক লাখ ৯৫ হাজার ৩৯ টাকা। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিনিয়োগকারীরা প্রতি সপ্তাহের বুধবার এই বন্ড কেনার আবেদন করতে পারবেন। ব্যাংকের যে কোনো শাখা থেকে যা করা যাবে। তবে নির্ধারিত বুধবার সরকারি বা ব্যাংক ছুটি থাকলে ঠিক তার আগের কর্মদিবসে আবেদন জমা নেওয়া হবে। বন্ডটিতে আবেদনের জন্য বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক। গ্রাহকদের সুবিধার জন্য ব্র্যাক ব্যাংকের শাখাগুলোয় সহজে বিও অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা রয়েছে।

রয়েছে করছাড়ের সুবিধা 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জিরো-কুপন বন্ড বিধায় আয়কর আইন অনুযায়ী অর্জিত মুনাফার ওপর কোনো অগ্রিম আয়কর বা অন্যান্য কর প্রযোজ্য হবে না। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর বিনিয়োগকারীরা কর রেয়াতও ভোগ করতে পারবেন। আবার যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে মেয়াদের আগেই বিক্রি করে সহজেই নগদ টাকা তুলতে পারবেন।

সুদহার কত হবে— এ প্রশ্নের জবাবে মো. শাহীন ইকবাল বলেন, ‘আমরা সাড়ে ৭ শতাংশ হারে যে টাকাটা নিচ্ছি, তা ৯ শতাংশ হারে বিনিয়োগ করব। প্রকৃত অর্থে এই বন্ড ইস্যু করার পরে  যেসব খরচ আছে, সেগুলো দিয়ে এত কম হারে ঋণ দিতে পারি না। কিন্তু আমরা চেষ্টা করেছি ব্যাংকের কোনো মার্জিন ছাড়াই যেন এই ঋণ দেওয়া যায়।’

পরিবেশবান্ধব খাতে বন্ডের টাকা অর্থায়নের বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি বলেন, বর্তমানে অনেক কারখানায় জ্বালানি উৎসের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য হয়েছে। এতে জ্বালানি খরচ কমে আসে। ফলে উদ্যোক্তারা গ্রিন বন্ড থেকে ঋণ নিতে আরও উদ্বুদ্ধ হবেন। ছোট বিনিয়োগকারীদের কথা চিন্তা করে অভিহিত মূল্য কমানো যেত কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি বলেন, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে অল্প টাকা বিনিয়োগ করা যাবে। 

সঞ্চয়পত্র বা এফডিআরের চেয়ে এখানে মুনাফা কম রয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হবেন কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, সঞ্চয়পত্র বা এফডিআরে মুনাফা বেশি হলেও যারা উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি, তারা সাধারণত ৩০ শতাংশ করজালের অন্তর্ভুক্ত। এফডিআরের মুনাফা থেকে শুরুতেই ১০ শতাংশ উৎসে কর কেটে নেওয়া হয়। পরে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়ে সামগ্রিকভাবে পুরো ৩০ শতাংশ করই দিতে হয়। অন্যদিকে এই গ্রিন বন্ডের মূল বড় সুবিধাটি হলো এখানে বিনিয়োগ করলে কোনো অতিরিক্ত কর দিতে হবে না।

আরও পড়ুন

×