স্মৃতিচারণে অনুকূল দাস
চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে গেল মুস্তাফা মনোয়ারের
মনের কথা- বাউল চরিত্রের দৃশ্য।
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ | ১৫:২৫
প্রয়াত শিল্পী ও বাংলাদেশের পাপেট আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ মুস্তাফা মনোয়ারের আজীবনের একটি স্বপ্ন ছিল পাপেট ও জীবন্ত অভিনয়শিল্পীদের সমন্বয়ে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প বীরপুরুষ অবলম্বনে তিনি সেই চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যও প্রস্তুত করেছিলেন। প্রাথমিক কিছু কাজ এগোলেও নানা কারণে সেই প্রকল্প আর বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
মুস্তাফা মনোয়ারের দীর্ঘদিনের সহকর্মী এবং শিশুতোষ পাপেট অনুষ্ঠান মনের কথা’র শিল্পী অনুকূল দাস স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে মুস্তাফা মনোয়ারের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে তাঁর। চারুকলায় অধ্যয়নরত অবস্থায় একটি পাপেট কর্মশালায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে প্রথম পরিচয় হয়। পরে পাপেট শিল্পের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি স্থায়ীভাবে মুস্তাফা মনোয়ারের সঙ্গে যুক্ত হন।
অনুকূল দাস বলেন, স্যার ছিলেন একেবারেই কাজপাগল মানুষ। কাজের বাইরে তাঁকে ভাবাই যেত না। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর কর্মশালায় কাজ করতে করতে আমরাও সেই জগতে ডুবে যাই। পরে আর এই জায়গা ছেড়ে যাওয়া হয়নি।
তিনি জানান, ১৯৯৪ সালে মুস্তাফা মনোয়ার শিশুদের শিক্ষামূলক পাপেট অনুষ্ঠান মনের কথা শুরু করেন। শুরু থেকেই তিনি ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেখানে ‘পারুল’ চরিত্রের পাপেট পরিচালনার পাশাপাশি পাপেট নির্মাণ ও নকশার দায়িত্বও পালন করেন। পরবর্তী সময়ে মুস্তাফা মনোয়ার শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর কাছ থেকে শেখা অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন দায়িত্বও পালন করেন।
অনুকূল দাস বলেন, মুস্তাফা মনোয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণ স্বপ্ন ছিল একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ। স্যারের ইচ্ছা ছিল পাপেট এবং মানুষের অভিনয় দুটো একসঙ্গে নিয়ে একটি সিনেমা করবেন। রবীন্দ্রনাথের বীরপুরুষ গল্প নিয়ে স্ক্রিপ্টও তৈরি করেছিলেন। কিছু কাজও এগিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি আর করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, মুস্তাফা মনোয়ার শুধু পাপেট শিল্পেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না— টেলিভিশন নাটক, মঞ্চনাটকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি সৃজনশীল কাজ করেছেন। তবে চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্নটি শেষ পর্যন্ত অপূর্ণই থেকে যায়।
শেষ সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনুকূল দাস বলেন, অসুস্থতার সময়ও তাঁদের যোগাযোগ ছিল। তবে শারীরিক অবস্থার কারণে দীর্ঘ আলাপের সুযোগ হতো না। সুস্থ সময়েই বিভিন্ন সৃজনশীল পরিকল্পনা ও নতুন কাজ নিয়ে তাঁদের সবচেয়ে বেশি আলোচনা হতো।
তিনি জানান, হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের গল্প অবলম্বনে কুৎসিত হাঁসের ছানা মঞ্চায়নসহ একাধিক বড় প্রযোজনায় মুস্তাফা মনোয়ারের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনের অন্যতম মূল্যবান অর্জন।
- বিষয় :
- চলচ্চিত্র
- নির্মাণকাজ
- স্বপ্ন
