ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

অমর একুশে গ্রন্থমেলা

ছিমছাম উদ্যানে প্রাণের উচ্ছ্বাস

ছিমছাম উদ্যানে প্রাণের উচ্ছ্বাস
×

ছবি: ফাইল

জয়নাল আবেদীন

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৪:৪৮ | আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৫:০৭

মাঘের শেষ পক্ষে শীতল বাতাসে মৃদু কাঁপন। শেষ বিকেলে কিছু মানুষের অপেক্ষা বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরে। ঢাকার বাইরে থেকেও এসেছেন কেউ কেউ। অপেক্ষার অবসান ঘটে বিকেল ৫টায়। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করে যাওয়ার পর গণমানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয় পাঁচটি প্রবেশপথ। দোয়েল চত্বর এবং টিএসসি মোড় থেকে সারিবদ্ধ হয়ে ঢোকে বইপ্রেমীর দল। ভেতরে ঢুকেই এদিক-ওদিক চেয়ে দেখেন তারা। মলাট উল্টে নেন নতুন বইয়ের ঘ্রাণ। শুরুর দিনে দেখার মতো ভিড় না থাকলেও ছিমছাম প্রাঙ্গণে ছিল প্রাণের উচ্ছ্বাস। ভালোমন্দের মিশেলে গতকাল রোববার শুরু হয় বাঙালির প্রাণের মেলা, অমর একুশে গ্রন্থমেলা।

বরাবরের মতো এবারও প্রথম দিনে প্রায় অপ্রস্তুত বইমেলা। দর্শনার্থীর আনাগোনার মধ্যেই শোনা যাচ্ছিল হাতুড়ি-পেরেকের ঠুকঠাক শব্দ। কেউ বই তোলায় ব্যস্ত, কেউ সাজানোয়। সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও বাতি জ্বলেনি অনেক স্টলে। এবারই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্থানান্তরিত লিটল ম্যাগ চত্বর খাঁখাঁ করছিল। গোটা বিশেক স্টলে অল্প কিছু বই রয়েছে। তবে সেদিকে দর্শনার্থীর ভিড় ছিল না বললেই চলে।

৫৬০টি প্রতিষ্ঠানের ৮৭৩টি ইউনিট এবং বাংলা একাডেমিসহ ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের ৩৪টি প্যাভিলিয়ন নিয়ে শুরু হয়ে গেল বইমেলা। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মিলিয়ে প্রায় সাড়ে আট লাখ বর্গফুট আয়তনে বিস্তৃত এবারের মেলা। ভেতরে বেশ ছিমছাম। স্টল এবং প্যাভিলিয়নের বিন্যাসেও রয়েছে ভিন্নতা। বাংলা একাডেমিতে মেলার একটি অংশ থাকলেও মূল ও বড় অংশটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। প্রথম দিনে তুলনামূলক কম দর্শনার্থীর মধ্যে উদ্যানেই ছিল বেশি ভিড়।

গতকাল বিকেল ৩টায় গ্রন্থমেলা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের লেখা তৃতীয় গ্রন্থ 'আমার দেখা নয়াচীন' উন্মোচন করেন। বাংলা একাডেমির প্যাভিলিয়ন ও সব স্টলে বইটি পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ টাকায়। প্রথম দিনে আর নতুন কোনো বই প্রকাশের খবর নেই তথ্যকেন্দ্রে। তবে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু নতুন বই মেলার প্রথম দিনেই এসেছে।

এবার মেলাজুড়েই বঙ্গবন্ধুর আবহ। বিভিন্ন ছবি এবং বাণীর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে জাতির পিতার জীবনচিত্র। এবারই প্রথম বইমেলার একটি 'থিম' দিয়েছে বাংলা একাডেমি। জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে সেই থিম বঙ্গবন্ধুকে ঘিরেই। মেলাও উৎসর্গ করা হয়েছে স্বাধীনতার স্থপতিকে। মেলার প্রথম দিনে 'লেখক বলছি' মঞ্চে কথা বলেন বিধান রিবেরু, রেজা ঘটক, সৌম্য সালেক, সাইফুল ভূঁইয়া।

মেলাপ্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায় ছিমছাম পরিবেশ। কোনো কোলাহল নেই। ইট বিছানো পথে বালুর আস্তরণে কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও চলার পথ ছিল মসৃণ। প্রশস্ত ও খোলামেলা পথে দলবদ্ধ চলাচলও নির্বিঘ্ন। এ নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন লেখক, পাঠক, বিক্রেতা সবাই। সন্ধ্যার পর দর্শনার্থীর ভিড় কিছুটা বৃদ্ধি পায়। তবে শুরুর দিনে বই কেনার চেয়ে স্টল চেনা আর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণই যেন মুখ্য ছিল অনেকের কাছে।

কয়েকটি প্রকাশনীতে দায়িত্বরত বিক্রয়কর্মীর সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, মেলা শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে অনেকে দু-একটি বই বিক্রি করেছেন। কারও কারও তখনও সূচনা হয়নি। আবার অনেকে বলছেন, শুরুর দিন হিসেবে বিক্রি ভালোই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু তালেব লিমন বলেন, অনেক বছর ধরেই বইমেলায় আসা হচ্ছে। এবারের পরিবেশ খুবই চমৎকার। বিশেষ করে চলার পথগুলো প্রশস্ত। তবে কিছু অসঙ্গতিও আছে। বিশেষ করে রাস্তাগুলো ধূলিময়। মেলা শুরুর আগে কয়েকদিন প্রস্তুতি নিলে এগুলো আগেই ঠিক হয়ে যাওয়ার কথা।

গাজীপুর থেকে বইমেলায় এসেছিলেন তিন বন্ধু জোবায়ের হোসেন, ইমতিয়াজ শাওন এবং ফরিদ হোসেন। প্রতি বছর একাধিকবার তারা বইমেলায় ঘুরতে আসেন। পরে ভিড় হয়, এ জন্য প্রথম দিন চলে এসেছেন এবার। তাদের একজন কিনেছেন কালই উন্মোচিত বঙ্গবন্ধুর 'আমার দেখা নয়াচীন'। তাদের মধ্যে ইমতিয়াজ বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর আগের দুটি বই পড়েছি। এই বইটির জন্য অধীর আগ্রহে ছিলাম।' সঙ্গে আরও কয়েকটি বই কিনেছেন তিন বন্ধু।

আগামী প্রকাশনী থেকে ইশতিয়াক আলমের মুক্তিযুদ্ধের বই 'মায়ের কাছে ফেরা' কিনেন সিদ্ধেশ্বরী মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী সাদিয়া জাহান। তিনি বলছিলেন, প্রথম দিন মেলায় ঘুরে ভালোই লাগছে। ভিড় কম, চলার রাস্তাও প্রশস্ত। রাজধানীতেই থাকেন বলে বারবার বইমেলায় আসার সুযোগ হয়। তারপরও প্রথম দিনের আমেজ তার কাছে অন্যরকমই।

আজকের আয়োজন :  আজ মেলার দ্বিতীয় দিন মেলার প্রবেশপথ খুলবে যথারীতি বিকেল ৩টায়। চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত 'আমার দেখা নয়াচীন' শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন ড. ফকরুল আলম এবং কবি তারিক সুজাত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

আরও পড়ুন

×