সাঙ্গ হলো প্রাণের মেলা
শেষ হলো দেশের সবচেয়ে বড় বই উৎসব অমর একুশে বইমেলা। গতকাল রোববার শেষ দিনেও ছিল পাঠক-দর্শকের ভিড়। বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে তোলা। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ | ১৩:৩১ | আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ | ১৩:৪৪
অনিশ্চয়তা আর নানা সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে পর্দা নামল ১৮ দিনের সংক্ষিপ্ত অমর একুশে বইমেলার। ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এবারের মেলার শেষ দিনটি গতকাল রোববার ছিল তুলনামূলক শান্ত ও নিস্তরঙ্গ। কর্মদিবস আর ঈদের কেনাকাটার ব্যস্ততায় শেষ বিকেলের চেনা ভিড় না থাকলেও বইপ্রেমীদের হৃদয়ে উৎসবের আমেজ কম ছিল না। সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর উপস্থিতিতে এক জ্ঞাননির্ভর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে সমাপ্তি ঘটে বাঙালির এই প্রাণের মেলার।
এবার অমর একুশে বইমেলায় ১৭ দিনে আট কোটি টাকার বই বিক্রির তথ্য দিয়েছে ২৬৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। মেলা পরিচালনা কমিটির তথ্য বলছে, বইমেলায় অংশগ্রহণকারী সর্বমোট ৫৮৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪টি মিডিয়া ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে ৫৭০টি। সে অনুযায়ী গড় হিসাব করলে ৫৭০টি প্রতিষ্ঠানের বিক্রির পরিমাণ ১৭ কোটি টাকার মতো দাঁড়াতে পারে। এদিন বাংলা একাডেমির নিজস্ব স্টল থেকেও বই বিক্রির হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে। ১৪ মার্চ পর্যন্ত ১৭ দিনে একাডেমি বিক্রি করেছে ১৭ লাখ ৪ হাজার ৬২৯ টাকার বই। এর আগে গত বছর মাসব্যাপী বইমেলায় আনুমানিক ৪০ কোটি টাকার বই বিক্রির তথ্য দিয়েছিলেন আয়োজকরা।
মেলা পরিচালনা কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে বেশি সংখ্যক ইউনিট বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের চেয়ে কম সংখ্যক ইউনিট বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের বিক্রির পরিমাণ বেশি।
মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. সেলিম রেজা সমাপনী প্রতিবেদনে জানান, এবার মেলার তথ্যকেন্দ্রে ১৪ মার্চ পর্যন্ত জমা পড়েছে ১৭৭১টি নতুন বই। তবে সব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বই জমা না দেওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিবন্ধন অনুযায়ী ২৫২টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। তুলনামূলক গত বছর নতুন বই প্রকাশিত হয়েছিল ৩২৯৯টি।
মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংস্কৃতি-বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। স্মরণ করেন মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। একই সঙ্গে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মত্যাগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে তাদের লাইব্রেরি ও বই ধ্বংস করাই যথেষ্ট। তাই জ্ঞানের আলোয় আলোকিত একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে। প্রতি উপজেলায় আধুনিক লাইব্রেরি স্থাপন এবং জেলা পর্যায়ের আদলে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।’
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মফিদুর রহমান বলেন, এবারের বইমেলা অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল। প্রকৃত পাঠকের সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। বইমেলাকে বিভাগীয়, জেলা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। উপস্থিত ছিলেন একাডেমির সচিব ড. সেলিম রেজা।
এবার মেলায় বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে মোট ৫৮৪টি প্রতিষ্ঠানকে ১০৬৮ ইউনিটের স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়। শিশুদের জন্য আলাদা চত্বরে ৬৩টি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয় ১১১ ইউনিটের স্টল। লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে স্টল ছিল ৯০টি। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার মেলায় স্টল ভাড়া মওকুফ করা হয়। যারা আগে টাকা জমা দিয়েছিলেন, তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
- বিষয় :
- অমর একুশে বইমেলা
- বইমেলা
