বইমেলা ২০২৬
শেষের আগে বৃষ্টিজনিত বিষণ্নতা
দ্রোহী তারা
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৫৫ | আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৬ | ১০:৪৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর পর্দা নামছে আজ। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর পবিত্র রমজান মাসের মধ্যেও গত ১৭ দিন ধরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে লেখক, পাঠক ও প্রকাশকের যে মিলনমেলা জমে উঠেছিল, আজ রাত ৯টার পর তা রূপ নেবে নীরবতায়। মেলার শেষলগ্নে এসে প্রকৃতি যেন কিছুটা বিমর্ষ করে তুলেছে উৎসবের আমেজকে।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টির ছাপ স্পষ্ট ছিল গতকাল শনিবারের মেলা প্রাঙ্গণে। এ দিন কোথাও কোথাও জমে থাকা কাদাপানি সরাতে ব্যস্ত ছিলেন স্টলগুলোর কর্মীরা। আবার কোথাও ভেজা বই রোদে শুকানোর আপ্রাণ চেষ্টা দেখা গেছে। তবে এই প্রতিকূলতার মধ্যে শেষ শিশুপ্রহর মেলায় নিয়ে এসেছিল প্রাণের স্পন্দন। পাপেট শো দেখে আর বই কিনে ছোট শিশুরা মাতিয়ে রেখেছিল পুরো মেলা।
গতকাল শিশুপ্রহরে মেলার দ্বার খুলেছে বেলা ১১টায়। ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায় সর্বত্রই শুক্রবার সন্ধ্যার ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতির ছাপ। দুপুরে রোদ একটু কড়া হলেই শুরু হয় আরেক ব্যস্ততা। ভেজা বই শুকানোর আয়োজন। অনেক স্টলের সামনেই দেখা গেছে ভেজা বই রোদে মেলে দেওয়া হয়েছে। কোথাও আবার কাপড় দিয়ে কভার মুছে আবার সাজিয়ে রাখা হচ্ছে তাকভর্তি বই।
তবে সব স্টলেই ক্ষতির চিত্র এক নয়। আগে থেকেই প্রস্তুতি থাকায় অনেক প্রকাশনী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মূলমঞ্চের আয়োজন ও নতুন বই
গতকাল মেলার ১৭তম দিনে নতুন বই জমা পড়ে ১৫৭টি। বেলা ১১টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় কবিতা আবৃত্তি। বিকেল ৩টায় মূলমঞ্চে ছিল ‘জন্মশতবর্ষ: মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মোরশেদ শফিউল হাসান। আলোচনায় অংশ নেন মমতাজ জাহান। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। লেখক বলছি অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন কবি জাকির আবু জাফর, কথাসাহিত্যিক-অনুবাদক শাকির সবুর, প্রবন্ধিক রাজীব সরকার এবং গবেষক খান মাহবুব। বিকেলে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বইমেলার বিভিন্ন পুরস্কার ঘোষণা
এ বছর একুশে বইমেলায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রকাশনা সংস্থাগুলোর নাম ঘোষণা করেছে বাংলা একাডেমি। ২০২৫ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক বই প্রকাশের জন্য বাংলা একাডেমি পরিচালিত চিত্তরঞ্জন সাহা পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে ‘কথাপ্রকাশ’। ২০২৫ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা বইয়ের জন্য মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে তিনটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘ঐতিহ্য’, ‘প্রথমা’ ও ‘ইউপিএল’। ২০২৫ সালে গুণমান বিচারে সর্বাধিক সংখ্যক শিশুতোষ বই প্রকাশের জন্য রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.। ২০২৫ সালে মেলায় যেসব প্রতিষ্ঠান প্রথম অংশগ্রহণ করেছে তাদের মধ্য থেকে গুণগতমান বিচারে সর্বাধিক সংখ্যক বই প্রকাশের জন্য সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘সহজ প্রকাশ’।
নান্দনিক স্টল সজ্জার জন্য সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কারের জন্য মনোনীত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো–ক্রিয়েটিভ ঢাকা পাবলিকেশন্স, মাত্রা প্রকাশ ও বেঙ্গলবুকস।
আজ রোববার বইমেলার সমাপনী দিনে দ্বার খুলবে দুপুর ২টায়। চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৩টায় সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম। প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর সদস্য সচিব ড. সেলিম রেজা। প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। অনুষ্ঠানে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার, রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার, সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার এবং শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।
- বিষয় :
- বইমেলা
- অমর একুশে বইমেলা
