বইমেলা ২০২৬
দিনে জমজমাট, রাতে বৃষ্টি
দ্রোহী তারা
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৪৯ | আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ | ১১:৪১
| প্রিন্ট সংস্করণ
অমর একুশে বইমেলা শুরুর পর গতকাল শুক্রবার ছিল জমজমাট দিন। সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত দর্শনার্থী ও পাঠকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মেলা প্রাঙ্গণে হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে অনেক স্টলের বই ভিজে যায়। এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েন প্রকাশক ও স্টলকর্মীরা।
বেলা ১১টায় শুরু হওয়া মেলা প্রাঙ্গণ সকাল থেকে রৌদ্রোজ্জ্বল ছিল। পাপেট থিয়েটার, ‘লেখক বলছি’ মঞ্চ এবং লিটলম্যাগ চত্বরে দিনভর ছিল উপচে পড়া ভিড়। অনেকে শেষ মুহূর্তে বই কিনতে ও মেলার পরিবেশ উপভোগ করতে ছুটে এসেছিলেন।
বিকেলের পর থেকে আকাশ ঘন কালো হতে থাকে। ঠান্ডা বাতাস শুরু হয়। তথ্যকেন্দ্রের মাইক থেকে বারবার স্টল মালিকদের আবহাওয়া বিবেচনায় বই গুছিয়ে রাখার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। রাত ৮টার দিকে হঠাৎ ঝোড়ো বাতাসের সঙ্গে শুরু হয় বৃষ্টি, কোথাও শিলাবৃষ্টি। এতে মেলার অনেক স্টলে রাখা বই ভিজে যায়। ঝোড়ো বাতাসে কিছু স্টলের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অনেক প্রকাশক ও স্টলকর্মী তখন তড়িঘড়ি করে বই সরিয়ে শুকনো জায়গায় নেওয়ার চেষ্টা করেন। কেউ প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে দেন বইয়ের স্তূপ। কেউ ভেজা বই আলাদা করে রেখে দেন শুকানোর জন্য। অনেক স্টলে কর্মীদের রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় ভেজা বই বাঁচানোর চেষ্টায়।
একজন স্টলকর্মী বলেন, বৃষ্টি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা বইগুলো প্লাস্টিক দিয়ে ঢাকার চেষ্টা করি। তারপরও অনেক বই ভিজে গেছে। এখন রাতে যতটা সম্ভব শুকানোর চেষ্টা করছি।
বাতিঘরের মালিক দীপঙ্কর দাশ সমকালকে বলেন, ‘মেলা চলাকালীন বৃষ্টি হওয়ায় লোকজন ছিল। তাৎক্ষণিক কিছু বই রক্ষা করা গেছে। তবু আমাদের স্টলে ৫০টির বেশি বই নষ্ট হয়েছে। অনেক স্টলে আরও বেশি ক্ষতি হয়েছে। কয়েকটি প্রকাশনীর স্টল ভেঙে গেছে।’
গতকাল বইমেলায় এসেছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর লেখা মুক্ত গদ্যের বই ‘শুধু মাধবীর জন্য’ মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। বিকেলে অন্যপ্রকাশের স্টলে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, মাধবীকে লেখা লেখকের চিঠিগুলোতে সুখ, দুঃখ, রাজনীতি এবং একাকিত্বের নানা অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে।
প্রকাশকদের মুখে হতাশা
বইমেলার শেষ দিকে এসে অনেক প্রকাশকের মুখে শোনা যাচ্ছে হতাশার সুর। করোনার পর থেকে বই বেচার ধারাবাহিকতায় ভাটা পড়েছে বলে মনে করছেন তারা। এবারের সংক্ষিপ্ত সময়ের মেলায় সেই সংকট যেন আরও স্পষ্ট হয়েছে। দর্শনার্থীর উপস্থিতি থাকলেও প্রত্যাশিত বিক্রি হয়নি– এমন অভিযোগ অনেক প্রকাশকের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রকাশক বলেন, করোনার পর থেকে বইমেলায় আগের মতো বিক্রি নেই। গতবার আমাদের বিক্রি লাখ টাকার বেশি হয়েছিল। এবার ছয়-সাত দিন তো স্টলে কোনো বিক্রিই হয়নি।
আগামী প্রকাশনী থেকে জানানো হয়, এবার তাদের বই বিক্রি লক্ষ্যমাত্রার ২০ শতাংশের কাছাকাছিও পৌঁছায়নি।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান ছায়া প্রকাশনীর মালিক জুয়েল। তিনি বলেন, এবার আমাদের বিক্রি ২০ হাজার টাকাও হয়নি।
অন্যপ্রকাশের স্টলকর্মী সাফায়েত হোসেন বলেন, মেলা সংক্ষিপ্ত হওয়ায় বিক্রি কম হওয়া স্বাভাবিক। তার ওপর রোজার মধ্যে অনেকে মেলায় আসতে পারেন না। আবার ঈদও খুব কাছাকাছি। অনেকে বাড়ি চলে যাচ্ছেন।
সাত বছর ধরে বইমেলায় স্টলের দায়িত্বে থাকা সাফায়েত জানান, আগে শুক্রবার বা ছুটির দিনে আমাদের স্টলে কমপক্ষে ১৫ লাখ টাকার বই বেচা হতো। এবার সেটি এক লাখ টাকাও হয়নি।
মেলায় প্রথমবারের মতো বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করছেন অনার্য পাবলিকেশনসের মালিহা। তিনি বলেন, দর্শনার্থী হিসেবে মেলায় আসা আর বিক্রয়কর্মী হিসেবে থাকা, দুটো সম্পূর্ণ আলাদা অভিজ্ঞতা।
তরুণ লেখক পলি আক্তার বলেন, এবারের বইমেলা অনেক প্রকাশকের কাছে বিক্রির দিক থেকে হতাশাজনক। তবে প্রতিকূলতার মধ্যেও বই ও সংস্কৃতির শক্তিতে টিকে আছে এই মিলন মেলা।
- বিষয় :
- বইমেলা
- অমর একুশে বইমেলা
