ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রস্তুতি

শুরু হোক এখন থেকেই

শুরু হোক এখন থেকেই
×

ছবিটি জেমিনি এআই দিয়ে তৈরি

এম এ মান্নান

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ | ১২:২৩ | আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০২৬ | ১২:২৩

উচ্চ মাধ্যমিক বা এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর একজন শিক্ষার্থীর জীবনে শুরু হয় নতুন এক অধ্যায়– বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি। এতদিনের পরিচিত শিক্ষাজীবন পেরিয়ে এবার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয়ে ভর্তি হওয়ার লড়াই। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), মেডিকেল কলেজসহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রতিযোগিতা থাকে তীব্র। এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছে বলেই দীর্ঘ সময় বিশ্রামে কাটানোর সুযোগ নেই। বরং পরীক্ষার পর পাওয়া সময়টুকু কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করাই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে প্রস্তুতি মানে সারাক্ষণ বই নিয়ে বসে থাকা নয়। প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত অনুশীলন এবং নিজের দুর্বলতা বুঝে প্রস্তুতি নেওয়া।

প্রথমেই লক্ষ্য ঠিক করুন

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির শুরুতেই নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করা জরুরি। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান, কোন বিষয়ে আগ্রহ বেশি এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের পেশায় যেতে চান– এসব বিষয় নিয়ে ভাবুন। একসঙ্গে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ও অনেক বিষয়ের পেছনে ছুটলে প্রস্তুতি এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। তাই নিজের আগ্রহ, এইচএসসির বিষয়, ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করে সম্ভাব্য কয়েকটি পছন্দ ঠিক করুন। তবে একটি বিশ্ববিদ্যালয় বা একটি বিষয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে বিকল্প পরিকল্পনাও রাখা ভালো।

ভর্তি পরীক্ষার ধরন ও সিলেবাস জানুন

প্রস্তুতির শুরুতেই সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সিলেবাস, প্রশ্নের ধরন, মানবণ্টন, পরীক্ষার সময় এবং আবেদন-সংক্রান্ত নিয়ম জেনে নিন। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিটভেদে ভর্তি পরীক্ষার কাঠামো ভিন্ন হতে পারে। ভর্তি বিজ্ঞপ্তির পর সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও ভর্তি নির্দেশিকা থেকে তথ্য যাচাই করুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা অন্যের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করাই ভালো।

বইয়ের বেসিক ঝালিয়ে নিন

এইচএসসি পরীক্ষার পর অনেক শিক্ষার্থী মনে করেন, আগে পরীক্ষার পড়া শেষ হয়েছে, এবার শুধু ভর্তি পরীক্ষার বই পড়লেই হবে। এটি ঠিক নয়। ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এইচএসসির মূল বইয়ের ধারণা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই পাঠ্যবইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো আবার দেখে নিন। কোথাও কোনো ধারণা দুর্বল থাকলে সেটি আগে পরিষ্কার করুন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী ভর্তি সহায়ক বই, প্রশ্নব্যাংক ও অনুশীলনী ব্যবহার করতে পারেন। একসঙ্গে অনেক বই সংগ্রহ করে বিভ্রান্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ভালোভাবে অনুসরণ করা একটি মানসম্মত বই বা প্রশ্নব্যাংক অনেক সময় অনেকগুলো বইয়ের চেয়ে বেশি কাজে দেয়।

বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করুন

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিগত বছরের প্রশ্নের গুরুত্ব অনেক। প্রশ্ন সমাধান করলে শুধু প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় না, কোন অধ্যায় থেকে কী ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে, সেটিও বোঝা যায়। প্রথম দিকে সময়ের চাপ না নিয়ে প্রশ্নগুলো বুঝে সমাধান করুন। পরে নির্দিষ্ট সময় ধরে পরীক্ষা দেওয়ার অভ্যাস করুন। ভুল হওয়া প্রশ্নগুলো আলাদা করে নোট করে রাখুন এবং নিয়মিত সেগুলো আবার দেখুন।

রুটিন করুন, তবে বাস্তবসম্মতভাবে

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য দীর্ঘ সময় পড়ার চেয়ে নিয়মিত ও মনোযোগ দিয়ে পড়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী একটি বাস্তবসম্মত রুটিন তৈরি করুন।
কোন সময়ে কোন বিষয় পড়বেন, কখন প্রশ্ন সমাধান করবেন এবং কখন বিশ্রাম নেবেন—আগেই ঠিক করে রাখুন। একটানা কয়েক ঘণ্টা পড়ার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময় পরপর ছোট বিরতি নিতে পারেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রুটিন তৈরি করে সেটি কয়েক দিন পর ছেড়ে দেওয়া যাবে না। প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করার চেষ্টা করুন।

দুর্বল বিষয়কে গুরুত্ব দিন

অনেক শিক্ষার্থী যে বিষয় ভালো পারেন, সেটিই বারবার পড়তে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়লেও দুর্বলতা দূর হয় না।
তাই প্রস্তুতির শুরুতেই নিজের দুর্বল বিষয় ও অধ্যায়গুলো চিহ্নিত করুন। যে জায়গায় বারবার ভুল হচ্ছে, সেটিতে বেশি সময় দিন। প্রতিদিনের পড়াশোনার শেষে নিজেকে প্রশ্ন করুন– আজ কী শিখলাম, কোথায় ভুল হলো এবং কোন বিষয়টি আবার পড়তে হবে?

নিয়মিত মডেল টেস্ট দিন

প্রস্তুতি ভালো হয়েছে কিনা, তা যাচাই করার অন্যতম উপায় মডেল টেস্ট। প্রথম দিকে কম সময়ের পরীক্ষা দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্টে যেতে পারেন। মডেল টেস্ট দেওয়ার পর শুধু নম্বর দেখলেই হবে না। কোথায় ভুল হয়েছে, কেন ভুল হয়েছে এবং কোন বিষয়ে সময় বেশি লেগেছে– এসব বিশ্লেষণ করতে হবে। এতে আসল পরীক্ষার আগে নিজের দুর্বল জায়গাগুলো ঠিক করার সুযোগ পাওয়া যাবে।

মোবাইল ও সামাজিক মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ আনুন

ভর্তি প্রস্তুতির সময় শিক্ষার্থীদের বড় একটি বাধা হতে পারে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। পড়তে বসে বারবার ফোন দেখা মনোযোগ নষ্ট করে এবং পড়ার সময় বাড়িয়ে দেয়। তাই পড়ার সময় অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখতে পারেন। 

নির্দিষ্ট সময় ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার না করাই ভালো। প্রয়োজনে পড়ার সময় ফোনটি নিজের কাছ থেকে দূরে রাখুন। একটানা পড়াশোনা করে ক্লান্ত হয়ে গেলে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন। নিজের মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন। অন্যের প্রস্তুতির সঙ্গে নিজের প্রস্তুতি তুলনা করে হতাশ হওয়ারও প্রয়োজন নেই। 

আরও পড়ুন

×