ঢাবির ফজলুল হক হলে এবার সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে বাগবিতণ্ডা
ছবি- সংগৃহীত
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৪:৪৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে শিক্ষার্থী হেনস্তার অভিযোগের তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহকে কেন্দ্র করে প্রক্টরিয়াল টিম ও হল সংসদের নেতাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে হলের একটি তালাবদ্ধ কক্ষ খুলে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের সময় এ ঘটনা ঘটে।
হলের ভিপি খন্দকার আবু নাঈম বলেন, শিক্ষার্থীরা একটি কক্ষে তালা দিয়ে রেখেছিলেন। পরে প্রক্টরিয়াল টিম এসে তালা কেটে সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তদন্তের স্বার্থে ফুটেজের একটি কপি শিক্ষার্থীদের দেওয়ার পর মূল ফুটেজ নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হলেও প্রক্টরিয়াল টিম তাতে রাজি হয়নি। এতে ফুটেজ মুছে ফেলা বা বিকৃত করার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, তদন্তের প্রয়োজনেই ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. ইসরাফিল রতন বলেন, পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি ও প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তদন্তের স্বার্থে শিক্ষার্থীদের দেওয়া একটি তালা খোলা হয়েছে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ কপি করার সময় শিক্ষার্থীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
প্রক্টর বলেন, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীরা ফুটেজের ক্লিপ দাবি করলেও এটি কোনো সাধারণ বিষয় নয়; এটি একটি বড় ঘটনার অংশ, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।
এদিকে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ ও ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল-মামুনের পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগের পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি দ্রুত ঘটনার তদন্ত শেষ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এর আগে গত রোববার রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিম হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট দেন। এর জেরে প্রভোস্ট তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে বিষয়টি তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এর আগে রোববার রাতে প্রভোস্টের কার্যালয়ে ওই শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগের প্রতিবাদে আন্দোলনের সময় সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর দাবিও জানিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। পরে প্রভোস্টকে কার্যালয় থেকে বের করে নেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল, শিবির ও হল সংসদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।