ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

মোহাম্মদপুরে যুবক হত্যা: খুনিরা ছিল মুখোশ পরিহিত

মোহাম্মদপুরে যুবক হত্যা: খুনিরা ছিল মুখোশ পরিহিত
×

সুমন শিকদার

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১১:১৫

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন রায়ের বাজার এলাকায় সুমন শিকদার নামে এক যুবক খুন হওয়ার ঘটনায় রোববার তার বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন। তবে রোববার পর্যন্ত এ হত্যার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এর আগে শনিবার রাতে রায়ের বাজারে কে বা কারা সুমনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেছিল। পরিচয় লুকাতে খুনীরা মুখোশ পরে হত্যা মিশনে অংশ নেয় বলে জানা গেছে। 

সুমনের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে। তার বাবা আনোয়ার আহমেদ শিকদার লালমাটিয়ার এফ ব্লকের একটি বাসার নিরাপত্তারক্ষী। লালমাটিয়ায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন সুমন।  

তার মা ঝুমুর বেগম বলেন, যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করুক। কারা আমার বুক ফাঁকা করেছে তা দেখতে চাই। সুমনের বোন সুবর্ণা জানান, ঢাকা উত্তরের নৌকা মার্কার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিল সুমন। ভোটের দিন সে লালমাটিয়া মহিলা কলেজ এলাকায় ছিল। ভোট শেষে বাসায় নাস্তা খেতে যায়। এরপর মোবাইলে ফোনে কল আসার পর বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গিয়ে ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করা হয়।  

জানা গেছে, শনিবার রাতে সুমন তার কয়েক বন্ধুসহ রায়ের বাজার এলাকার রহিম বেপারির ঘাটে আড্ডা দেয়। ওই সময় তার সঙ্গে ছিল রুবেল, সাজ্জাদ, আল-আমিন, ইমরানসহ ৬/৭ জন। হঠাৎ ২০/২৫ জন লোক এসে চিৎকার করে বলতে থাকে, 'এখানে যুবলীগ নেতা শাহ আলম জীবনের লোক কে কে আছিস।' এটা বলেই হামলা চালানো হয়। এ সময় তারা সুমনকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। আহতাবস্থায় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

পরে খবর ছড়ায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নুরুল ইসলামের লালমাটিয়া কলেজ কেন্দ্রের পোলিং এজেন্ট ছিলেন। তবে কাউন্সিলর সৈয়দ নুরুল ইসলাম সমকালকে জানান, সুমন নামে কেউ তার পোলিং এজেন্ট ছিল না। তার ওয়ার্ডে নৌকার প্রতীক ও আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন কেন্দ্রে ২০৬ জন পোলিং এজেন্ট ছিল। তাদের সবাইকে তিনি চিনেন। ভালোভাবে চেনাজানা ছাড়াই কাউকে পোলিং এজেন্ট করা হয়নি। কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে ৫ হাজার ব্যাচ তৈরি করেছিলেন তিনি। হয়ত গলায় ব্যাচ ঝুলিয়ে  কোনো সক্রিয় কর্মীর সঙ্গে প্রচারণায় অংশ নিয়েছিল সুমন। তাই অনেকে তাকে পোলিং এজেন্ট বলছে। 

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের এডিসি ওয়াহিদুজ্জামান সমকালকে বলেন, সুমনকে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে একাধিক টিম কাজ করছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। সুমন কোনো প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট ছিল না বলেও তিনি জানান। 

আরও পড়ুন

×