বালতির পানিতে ডুবে প্রাণ গেল শিশুটির
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২:৫০
বাসায় হামাগুড়ি দিয়ে এ-ঘর ও-ঘরে যাচ্ছিল ১১ মাসের আব্দুল্লাহ। তার মা আকলিমা রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এক ফাঁকে মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে শিশুটি বাথরুমে ঢুকে পড়ে। বাথরুমে পানিভর্তি বালতি ধরে উঠে দাঁড়ায়। পানিতে হাত দিয়ে খেলার সময় হঠাৎ বালতির মধ্যে পড়ে যায় সে। মা যখন টের পান, ততক্ষণে আব্দুল্লাহর দেহ নিস্তব্ধ হয়ে গেছে।
ওই অবস্থায় তাকে দ্রুত নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ সময় চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে নেওয়ার অনেক আগেই আব্দুল্লাহ মারা গেছে। রোববার সকালে রাজধানীর সবুজবাগের বাসাবোর দক্ষিণ মাদারটেকে এ ঘটনা ঘটে।
শিশু আব্দুল্লাহ মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না স্বজনরা। তার মা আর্তনাদ করে বারবার নিজেকে দোষারপ করছেন। বিলাপ করে বলছেন, তিনি খেয়াল রাখলে চিরদিনের জন্য ছেলেকে হারাতে হত না। কেনো বালতিতে পানি রাখলেন! কেনইবা বাথরুমের দরজা বন্ধ রাখলেন না!
শিশুটির চাচা মাজেদুল ইসলাম জানান, আব্দুল্লাহর বাবা ওবায়দুল্লাহ বাসাবোয় একটি লন্ড্রি দোকানের কর্মচারী। তার মা আকলিমা গৃহিণী। বাসাবোর দক্ষিণ মাদারটেকে ভাড়া থাকেন। দুই ছেলের মধ্যে আব্দুল্লাহ ছোট। বড় ছেলে হাবিবুল্লাহর বয়স ৮ বছর। সকালে বাবা ওবায়দুল্লাহ কর্মস্থলে যান। বড় ছেলে হাবিবুল্লাহ যায় স্কুলে। ছোটো ছেলে ও অসুস্থ শাশুড়িকে নিয়ে বাসায় ছিলেন আকলিমা।
তিনি আরও জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিন রুমের বাসার একটি রুমে আব্দুল্লাহর দাদী ফাতেমা শুয়ে ছিলেন। আকলিমা রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এই সুযোগে আব্দুল্লাহ হামাগুড়ি দিয়ে বাথরুমে গিয়ে পানিভর্তি বালতিতে পড়ে যায়। সাড়ে ১০টার দিকে ছেলেকে ঘরে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তিনি। এক পর্যায়ে বাথরুমে ঢুকে দেখেন বালতির মধ্যে ছেলের মাথা আর পা উপরের দিকে। চিৎকার করে ওঠেন তিনি। আশপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে আব্দুল্লাহকে উদ্ধার করে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
- বিষয় :
- ডুবে মৃত্যু
- শিশু
- বাসাবো
