জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ
বকেয়া পরিশোধ করে পাটকল খুলে দেয়ার দাবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২২ | ০৩:৫৪ | আপডেট: ২০ জুন ২০২২ | ০৩:৫৪
দুই বছর যাবত বন্ধ ১১ হাজার পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করে পাটকল পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করে ‘পাটকল রক্ষায় শ্রমিক কৃষক ছাত্র জনতা ঐক্য’নামে একটি সংগঠন। সমাবেশ শেষে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মতিঝিলে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনে (বিজেএমসি) যায়। পরে সেখানে বিজেএমসি ভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে। এসময় তারা চার দফা দাবি তুলে ধরেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে পাট ও পাটজাত পণ্যের ভূমিকার কারণে পাটকে সোনালী আঁশ বলা হতো। কিন্তু আশির দশক থেকে সিনথেটিক দ্রব্যের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বে পাটপণ্যের চাহিদা কমতে থাকে। তার প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। আর এসময় বাংলাদেশে গড়ে উঠে পোশাকশিল্প। যার কাঁচামাল থেকে শুরু করে সব কিছুই আমদানি করতে হয় বিদেশ থেকে। কিন্তু বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী পাটপণ্যের চাহিদা আবারও বাড়তে থাকে।
শ্রমিক নেতারা বলেন, গত ৫০ বছরে ৭৮টি পাটকলের লোকসানের পরিমাণ ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বিদ্যুৎখাতের রেন্টাল সেক্টরে গত এক বছরে ভর্তুকি দিতে হয়েছে নয় হাজার কোটি টাকা। যেখানে দরকার ছিল পাটকলের লোকসানের কারণ অনুসন্ধান করে তা দূর করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া। অথচ সেটা না করে সিনথেটিক ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় বন্ধ করে দেওয়া হলো ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল। এতে করে কর্মহারা হলেন ৭০ হাজার শ্রমিক। অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে পাটকল এলাকার স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবন। সেই সঙ্গে মৃত নগরীতে পরিণত হলো খুলনা খালিশপুর, ঢাকা লতিফ বাওয়ানি-করিম জুটমিল, চট্টগ্রামের আমিন জুটমিল, সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুটমিলের মতো শিল্প এলাকা।
পাটকল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সারাদেশে ৪০-৪৫ লাখ পাটচাষি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেন বক্তারা।
তারা বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালু থাকা অবস্থায় বিজেএমসি মোট উৎপাদিত পাটের ৩০-৩৫ শতাংশ কাঁচা পাট বিক্রি করতো সরকারের নির্ধারিত দামে। ফলে বেসরকারি পাটকল মালিকরা কাছাকাছি দামে পাট কিনতে বাধ্য হতেন। কিন্তু এখন আর সেই সুযোগটাও থাকল না। ফলে এখন পাটচাষিদের অবস্থা হবে ভয়াবহ।
শ্রমিকদের চার দফা দাবিগুলো হলো- পাঁচটি জুটমিলের (খালিশপুর জুটমিল, দৌলতপুর জুটমিল, জাতীয় জুটমিল, আর আর জুটমিল ও কে এফ ডি জুটমিল) এরিয়ার টাকাসহ সব বকেয়া পাওনা পরিশোধ করতে হবে, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল দ্রুত চালু করে পর্যায়ক্রমে আধুনিকায়ন করতে হবে, নাম জটিলতায় ভুক্তভোগী স্থায়ী-বদলি শ্রমিকদের সব বকেয়া পাওনা পরিশোধ করতে হবে, সব শ্রমিকের নামে মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
এসময় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতা ঐক্যের আহ্বায়ক রুহুল আমিন, সংগঠক নিয়াজ মোর্শেদ দুলাল, মিহীর বৈদ্যনাথ, আলমগীর হোসেন, মো. রুবেল হোসেন প্রমুখ।
- বিষয় :
- পাটকল
- পাটকল খুলে দেওয়ার দাবি
