ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আলোচনা সভায় বিশিষ্টজন

মওলানা ভাসানী ছিলেন নিপীড়িত মানুষের নেতা

মওলানা ভাসানী ছিলেন নিপীড়িত মানুষের নেতা
×

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৯:০৪ | আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৯:০৪

মওলানা ভাসানী ছিলেন নিপীড়িত মেহনতি মানুষের নেতা। বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে তাঁর ভূমিকা অনন্য। কৃষকের সমস্যা যে রাজনৈতিক সমস্যা এবং গণতন্ত্রের সংগ্রাম আর সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম যে অভিন্ন- তিনি তা বলেছেন। তিনি ব্রিটিশ শোষণের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জন্য লড়াই করেছেন। কিন্ত জিন্নাহর পাকিস্তান আর তাঁর পাকিস্তান এক নয়। মওলানা ভাসানীর স্বপ্ন ছিল মেহনতি মানুষের পাকিস্তান। জননন্দিত এই নেতা মেহনতি মানুষের মুক্তির জন্য সারাজীবন কাজ করেছেন। তাকে নিয়ে এখন তেমন আলোচনা হয় না।

সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ রচিত 'ভাসানীচরিত :পাঠ ও পর্যালোচনা' শীর্ষক গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেছেন। সৈয়দ আবুল মকসুদের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার মিলনায়তনে এ আয়োজন করে সৈয়দ আবুল মকসুদ স্মৃতি সংসদ।
এতে লেখক, প্রাবন্ধিক, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, সৈয়দ আবুল মকসুদের এই বই মওলানা ভাসানী সম্পর্কে জানতে অত্যন্ত সহায়ক হবে। এ উপমহাদেশে অনেক নেতা এসেছেন। কিন্তু ভাসানীর মতো আর কাউকে পাওয়া য়ায়নি। তিনি সামাজিক বিপ্লব করতে চেয়েছিলেন। রাজনৈতিক সংগ্রামের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিপ্লব করেছেন। তাঁর সাংস্কৃতিক চর্চার দিকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যে সম্মেলন করতেন, সেখানেই সাংস্কৃতিক চর্চা করতেন। সংস্কৃতির মান উন্নয়ন করা, বিশ্ববিদ্যালয় উন্নত করা, কলেজ প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি তাঁর চিন্তায় সবসময় কাজ করত।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, 'এখন ভাসানীকে নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। এখন সবকিছু এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক। এক ব্যক্তি এককভাবে উঠতে পারেন না; তাঁর পাশে আরও অনেক লোক লাগে, যাঁদের মধ্যে মওলানা ভাসানী অন্যতম। মুক্তিযুদ্ধে তাজউদ্দীন আহমদের যে ভূমিকা- সেটিও উপস্থাপিত হয় না। সরকারি দলের কোনো উদযাপনে তাঁদের অবদান তুলে ধরা হয় না। ইতিহাস এভাবে ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে। ইতিহাসকে এভাবে অপমান করলে রাষ্ট্রের উন্নতির পথে এটি সবচেয়ে বড় বাধা হবে।'

তিনি বলেন, বাংলাদেশে যাঁদের নিয়ে গবেষণা করা হয়, তাঁরাই জানেন না- তাঁদেরকে নিয়ে গবেষণা হয়েছে। সৈয়দ আবুল মকসুদ মওলানা ভাষানীকে নিয়ে গবেষণা করেছেন। ভাসানীকে নিয়ে গবেষণা করলে পুরো বাংলাদেশকে নিয়ে আসা হয়। কারণ বাংলাদেশের যে রাজনৈতিক লড়াই; বিভিন্ন ধরনের সংকট; সেসব ক্ষেত্রে মওলানা ভাসানী অবদান রেখেছেন। আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, সব শ্রেণির মানুষকে নিয়ে ভেবেছেন মওলানা ভাসানী। এটি তার প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখন এটি রাজনীতিতে খুব অবহেলিত। ভাসানীর চিন্তায় কে হিন্দু, কে মুসলমান বা কার ধর্ম কী- এসব ছিল না। তাঁর রাজনীতিতে জাতি-ধর্মের কোনো স্থান ছিল না। তিনি দেখতেন- কে নিপীড়িত।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, বর্তমানে যোগ্যদের মূল্যায়ন করা হয় না। বর্তমান সময়ের বইগুলোতে ভাসানীকে যথার্থভাবে তুলে ধরা হয়নি। আমরা যাঁর সঙ্গে একমত হই, তিনি ইতিহাসের অংশ হয়ে যান। আর যাঁর সঙ্গে একমত নই, তিনি ইতিহাসের অংশ হন না। ইতিহাস বিকৃতির এটাই সবচেয়ে বড় কারণ। সভায় আরও আলোচনা করেন অধ্যাপক মোরশেদ শফিউল হাসান, অধ্যাপক মেসবাহ কামাল প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×