এবিটি নিয়ে উদ্বেগ, নব্য জেএমবি ছন্নছাড়া
×
সাহাদাত হোসেন পরশ
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২০ | ১২:০০
হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলায় জড়িত নব্য জেএমবির শক্তি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়েছে। বড় ধরনের কোনো হামলার সক্ষমতা আপাতত তাদের নেই। তবে ছোটখাটো হামলার মধ্য দিয়ে তারা মাঝেমধ্যে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা চালায়। বলা যায়- ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানে হলি আর্টিসান বেকারিতে হামলার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে সংগঠনটির মেরুদ প্রায় ভেঙে গেছে। তবে এখনও মাথাব্যথার কারণ আরেক দুর্ধর্ষ সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম-এবিটি (যার বর্তমান নাম আনসার আল ইসলাম)। সংগঠনটির শীর্ষ নেতা মেজর (বরখাস্ত) জিয়াসহ কয়েকজন এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। তারাই গোপনে কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করছে। এবিটিসহ আরও কিছু উগ্রপন্থি সংগঠন করোনাকালেও অনলাইনে সক্রিয় হয়ে সদস্য রিক্রুট করার চেষ্টা করছে।
হলি আর্টিসানে নৃশংস ও বর্বর হামলার চার বছর আজ। বিশ্বব্যাপী চাঞ্চল্য তৈরি করা ওই হামলার পর জঙ্গিবাদবিরোধী নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। চার বছর পর দেশে জঙ্গিবাদ কোন পর্যায়ে রয়েছে, তার খোঁজ নিতে গিয়ে এসব তথ্য উঠে আসে।
২০১৬ সালের ১ জুলাই ওই হামলার পর কেঁপে ওঠে গোটা বিশ্ব। নৃশংস এ হামলায় ১৭ বিদেশি ও তিন বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যার পর মাথায় গুলি, জবাই ও ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে জঙ্গিরা। জঙ্গিদের প্রতিহত করতে গিয়ে পুলিশের এসি রবিউল ইসলাম এবং ওসি সালাহ উদ্দিন মারা যান। জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ সফল হলেও তা নিয়ে স্বস্তির ঢেঁকুর তোলার সময় হয়নি। আর নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি না করলে যে কোনো সময় জঙ্গিরা চাঙ্গা হতে পারে- এমন আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। করোনার কারণে আজ সীমিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জঙ্গি হামলায় নিহতদের স্মরণ করবে পুলিশ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) ডিসি সাইফুল ইসলাম গতকাল সমকালকে জানান, গত কয়েক বছরে জঙ্গিবাদবিরোধী নানা ধরনের তৎপরতা চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে জঙ্গিরা কোণঠাসা হয়েছে। আবার একই সঙ্গে মানুষের মধ্যে জঙ্গিবিরোধী সচেতনতাও তৈরি হয়। এখন চাইলে কোনো জঙ্গি গ্রুপ ট্রেনিং ক্যাম্পের জন্য নিরাপদ আস্তানা খুঁজে পাচ্ছে না। মানুষ তার ভাড়াটিয়া ও কোনো অপরিচিত কাউকে দেখলে তার ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছে। জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের এ ধরনের ভূমিকা অত্যন্ত ইতিবাচক।
সিটিটিসির আরেক ডিসি আব্দুল মান্নান বলেন, উগ্রপন্থিরা এখন অনলাইনকেন্দ্রিক কার্যক্রম চালাচ্ছে। অনলাইনে সংগঠনে সদস্য রিক্রুট করতে নানা অফার দিচ্ছে। তরুণ-যুবকদের সামনে প্রলোভনের ফাঁদ পাতছে। তবে পুলিশ অনলাইনকেন্দ্রিক জঙ্গি রিক্রুট ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ ভার্চুয়াল জগতে নজর রাখছে। প্রায়ই গ্রেপ্তার হচ্ছে। সম্প্রতি ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অভিযানিক কর্মকা হিসেবে জঙ্গিদের গ্রেপ্তার ও জঙ্গিবিরোধী যে কোনো কর্মকা কে তারা সবিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। প্রতিটি ব্যাটালিয়নে রয়েছে জঙ্গিবিরোধী সেল। হলি আর্টিসানের পর থেকে চলতি বছরের ২৯ জুন পর্যন্ত সারাদেশে জঙ্গি সংশ্নিষ্ট ৩৯৫টি অভিযান চালায় র্যাব। এর মধ্যে জঙ্গিদের আস্তানা ছিল ১৭টি। হলি আর্টিসানের পর থেকে গত চার বছরে এক হাজার ১৬ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। আত্মসমর্পণ করে সাত জঙ্গি। র্যাবের অপারেশনে ২৫ জঙ্গি নিহত হয়। র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয় জেএমবি সদস্য ৬১৫, এবিটির ৬০, হুজি সদস্য ১৯, হিযবুত তাহরির ৭১, শহীদ হামজা ব্রিগেড এক, আল্লাহর দলের ১০৯ জন। এ সময় র্যাব বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, বিস্টেম্ফারক, লিফলেটসহ নানা সামগ্রী জব্দ করে।
জঙ্গি তৎপরতার ওপর খোঁজ রাখেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন একজন শীর্ষ কর্মকর্তা সমকালকে জানান, সর্বশেষ দেশে জঙ্গি অপারেশন ছিল চট্টগ্রামে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে চট্টগ্রামের দুই নম্বর গেট মোড়ের পুলিশ বক্সে বোমা বিস্ম্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে নগর ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট আরাফাতুর রহমান, সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) মো. আতিকসহ পাঁচজন আহত হন। বিস্ম্ফোরণের পরদিন হামলার নিজেদের সম্পৃক্ততার দাবি করে কথিত বার্তা দেয় ইসলামিক স্টেট (আইএস)। পরে ওই হামলার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। গত মে মাসে চট্টগ্রামে জঙ্গি হামলায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নগরীর বাকলিয়া থানাধীন ডিসি রোডের গণি কলোনিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে সিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। গ্রেপ্তার তিনজন হলো- সাতকানিয়া উপজেলার দক্ষিণ ঢেমশা হাদুরপাড়া এলাকার মো. ইসহাক মিয়ার ছেলে মো. সাইফুল্লাহ (২৪), দক্ষিণ মারফলা এলাকার মনির আহমদের ছেলে মো. এমরান (২৫) ও উত্তর ঢেমশা মাইজপাড়া এলাকার মহরম আলীর ছেলে মো. আবু সালেহ (২৫)। তাদের মধ্যে এমরান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অষ্টম সেমিস্টারের ছাত্র। আবু সালেহ ন্যাশনাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র। আর মো. সাইফুল্লাহ চকবাজার এলাকার নুরা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি কম্পিউটার দোকানের কর্মচারী। তারা তিনজনই নব্য জেএমবির সদস্য।
চট্টগ্রামে যে কৌশলে পুলিশ বক্সে হামলা করা হয়েছিল একই ধরনের হামলা ঢাকায়ও চালায় জঙ্গিরা। ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পুলিশ বক্সের সামনে জঙ্গিরা হামলা চালায়। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। আহত এক পুলিশ একজন মন্ত্রীর প্রটোকলের সদস্য ছিলেন। ২৪ জুলাই খামারবাড়ি ও পল্টনে একই আদলে হামলা চালায় জঙ্গিরা। ওই বছরের ২৬ মে রাত পৌনে ৯টার দিকে রাজধানীর মালিবাগে পুলিশের বিশেষ শাখার একটি পিকআপ ভ্যানে বিস্ম্ফোরিত বোমাটি ছিল শক্তিশালী। এতে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাশেদা আক্তারসহ তিনজন আহত হন। বিস্ম্ফোরণের পাঁচ ঘণ্টা পর এর দায় স্বীকার করে কথিত আইএস। এর আগে ২৯ এপ্রিল গুলিস্তানে একটি ট্রাফিক বক্সের পাশে হাতে তৈরি বোমা বিস্ম্ফোরিত হয়। এতে ট্রাফিক পুলিশের দুই সদস্য ও একজন কমিউনিটি পুলিশ সদস্য আহত হন।
পুলিশ-র্যাবের কর্মকর্তারা জানান, নব্য জেএমবি এসব হামলায় জড়িত ছিল। ধারাবাহিকভাবে পুলিশ বক্সে এসব হামলা যারা চালিয়েছিল তাদের অধিকাংশ গ্রেপ্তার হয়েছে। তবে পুরোনো জেএমবির কয়েকজন নেতা বিদেশে পলাতক থেকে সংগঠন গোছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের ওপর নজরদারি রাখা হচ্ছে।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির সমকালকে বলেন, হলি আর্টিসানের পর মাঠ পর্যায়ে জঙ্গি দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাফল্য দেখিয়েছে। এখন তাদের মতাদর্শের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। সমাজে উগ্রপন্থিদের আদর্শ অক্ষুণ্ণ রেখে কখনও শতভাগ জঙ্গিবাদ নির্মূল করা যায় না। অনেক আগে থেকেই জঙ্গিরা অনলাইনকে তাদের প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। তাদের নিজস্ব ব্লগ ও যোগাযোগের চ্যানেল রয়েছে।
পেপারবুক তৈরির অপেক্ষা :হলি আর্টিসান মামলার রায় হয় গত বছরের নভেম্বরে। রায়ে সাত জঙ্গির ফাঁসি ও একজনকে খালাস দেওয়া হয়। এখন পেপারবুক তৈরির অপেক্ষায় রয়েছে। পেপারবুক তৈরি হলেই হাইকোর্টে মামলার আপিল শুনানির কার্যক্রম শুরু হবে।
হলি আর্টিসানে নৃশংস ও বর্বর হামলার চার বছর আজ। বিশ্বব্যাপী চাঞ্চল্য তৈরি করা ওই হামলার পর জঙ্গিবাদবিরোধী নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। চার বছর পর দেশে জঙ্গিবাদ কোন পর্যায়ে রয়েছে, তার খোঁজ নিতে গিয়ে এসব তথ্য উঠে আসে।
২০১৬ সালের ১ জুলাই ওই হামলার পর কেঁপে ওঠে গোটা বিশ্ব। নৃশংস এ হামলায় ১৭ বিদেশি ও তিন বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যার পর মাথায় গুলি, জবাই ও ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে জঙ্গিরা। জঙ্গিদের প্রতিহত করতে গিয়ে পুলিশের এসি রবিউল ইসলাম এবং ওসি সালাহ উদ্দিন মারা যান। জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ সফল হলেও তা নিয়ে স্বস্তির ঢেঁকুর তোলার সময় হয়নি। আর নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি না করলে যে কোনো সময় জঙ্গিরা চাঙ্গা হতে পারে- এমন আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। করোনার কারণে আজ সীমিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জঙ্গি হামলায় নিহতদের স্মরণ করবে পুলিশ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) ডিসি সাইফুল ইসলাম গতকাল সমকালকে জানান, গত কয়েক বছরে জঙ্গিবাদবিরোধী নানা ধরনের তৎপরতা চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে জঙ্গিরা কোণঠাসা হয়েছে। আবার একই সঙ্গে মানুষের মধ্যে জঙ্গিবিরোধী সচেতনতাও তৈরি হয়। এখন চাইলে কোনো জঙ্গি গ্রুপ ট্রেনিং ক্যাম্পের জন্য নিরাপদ আস্তানা খুঁজে পাচ্ছে না। মানুষ তার ভাড়াটিয়া ও কোনো অপরিচিত কাউকে দেখলে তার ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছে। জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের এ ধরনের ভূমিকা অত্যন্ত ইতিবাচক।
সিটিটিসির আরেক ডিসি আব্দুল মান্নান বলেন, উগ্রপন্থিরা এখন অনলাইনকেন্দ্রিক কার্যক্রম চালাচ্ছে। অনলাইনে সংগঠনে সদস্য রিক্রুট করতে নানা অফার দিচ্ছে। তরুণ-যুবকদের সামনে প্রলোভনের ফাঁদ পাতছে। তবে পুলিশ অনলাইনকেন্দ্রিক জঙ্গি রিক্রুট ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ ভার্চুয়াল জগতে নজর রাখছে। প্রায়ই গ্রেপ্তার হচ্ছে। সম্প্রতি ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অভিযানিক কর্মকা হিসেবে জঙ্গিদের গ্রেপ্তার ও জঙ্গিবিরোধী যে কোনো কর্মকা কে তারা সবিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। প্রতিটি ব্যাটালিয়নে রয়েছে জঙ্গিবিরোধী সেল। হলি আর্টিসানের পর থেকে চলতি বছরের ২৯ জুন পর্যন্ত সারাদেশে জঙ্গি সংশ্নিষ্ট ৩৯৫টি অভিযান চালায় র্যাব। এর মধ্যে জঙ্গিদের আস্তানা ছিল ১৭টি। হলি আর্টিসানের পর থেকে গত চার বছরে এক হাজার ১৬ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। আত্মসমর্পণ করে সাত জঙ্গি। র্যাবের অপারেশনে ২৫ জঙ্গি নিহত হয়। র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয় জেএমবি সদস্য ৬১৫, এবিটির ৬০, হুজি সদস্য ১৯, হিযবুত তাহরির ৭১, শহীদ হামজা ব্রিগেড এক, আল্লাহর দলের ১০৯ জন। এ সময় র্যাব বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, বিস্টেম্ফারক, লিফলেটসহ নানা সামগ্রী জব্দ করে।
জঙ্গি তৎপরতার ওপর খোঁজ রাখেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন একজন শীর্ষ কর্মকর্তা সমকালকে জানান, সর্বশেষ দেশে জঙ্গি অপারেশন ছিল চট্টগ্রামে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে চট্টগ্রামের দুই নম্বর গেট মোড়ের পুলিশ বক্সে বোমা বিস্ম্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে নগর ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট আরাফাতুর রহমান, সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) মো. আতিকসহ পাঁচজন আহত হন। বিস্ম্ফোরণের পরদিন হামলার নিজেদের সম্পৃক্ততার দাবি করে কথিত বার্তা দেয় ইসলামিক স্টেট (আইএস)। পরে ওই হামলার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। গত মে মাসে চট্টগ্রামে জঙ্গি হামলায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নগরীর বাকলিয়া থানাধীন ডিসি রোডের গণি কলোনিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে সিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। গ্রেপ্তার তিনজন হলো- সাতকানিয়া উপজেলার দক্ষিণ ঢেমশা হাদুরপাড়া এলাকার মো. ইসহাক মিয়ার ছেলে মো. সাইফুল্লাহ (২৪), দক্ষিণ মারফলা এলাকার মনির আহমদের ছেলে মো. এমরান (২৫) ও উত্তর ঢেমশা মাইজপাড়া এলাকার মহরম আলীর ছেলে মো. আবু সালেহ (২৫)। তাদের মধ্যে এমরান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অষ্টম সেমিস্টারের ছাত্র। আবু সালেহ ন্যাশনাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র। আর মো. সাইফুল্লাহ চকবাজার এলাকার নুরা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি কম্পিউটার দোকানের কর্মচারী। তারা তিনজনই নব্য জেএমবির সদস্য।
চট্টগ্রামে যে কৌশলে পুলিশ বক্সে হামলা করা হয়েছিল একই ধরনের হামলা ঢাকায়ও চালায় জঙ্গিরা। ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পুলিশ বক্সের সামনে জঙ্গিরা হামলা চালায়। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। আহত এক পুলিশ একজন মন্ত্রীর প্রটোকলের সদস্য ছিলেন। ২৪ জুলাই খামারবাড়ি ও পল্টনে একই আদলে হামলা চালায় জঙ্গিরা। ওই বছরের ২৬ মে রাত পৌনে ৯টার দিকে রাজধানীর মালিবাগে পুলিশের বিশেষ শাখার একটি পিকআপ ভ্যানে বিস্ম্ফোরিত বোমাটি ছিল শক্তিশালী। এতে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাশেদা আক্তারসহ তিনজন আহত হন। বিস্ম্ফোরণের পাঁচ ঘণ্টা পর এর দায় স্বীকার করে কথিত আইএস। এর আগে ২৯ এপ্রিল গুলিস্তানে একটি ট্রাফিক বক্সের পাশে হাতে তৈরি বোমা বিস্ম্ফোরিত হয়। এতে ট্রাফিক পুলিশের দুই সদস্য ও একজন কমিউনিটি পুলিশ সদস্য আহত হন।
পুলিশ-র্যাবের কর্মকর্তারা জানান, নব্য জেএমবি এসব হামলায় জড়িত ছিল। ধারাবাহিকভাবে পুলিশ বক্সে এসব হামলা যারা চালিয়েছিল তাদের অধিকাংশ গ্রেপ্তার হয়েছে। তবে পুরোনো জেএমবির কয়েকজন নেতা বিদেশে পলাতক থেকে সংগঠন গোছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের ওপর নজরদারি রাখা হচ্ছে।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির সমকালকে বলেন, হলি আর্টিসানের পর মাঠ পর্যায়ে জঙ্গি দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাফল্য দেখিয়েছে। এখন তাদের মতাদর্শের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। সমাজে উগ্রপন্থিদের আদর্শ অক্ষুণ্ণ রেখে কখনও শতভাগ জঙ্গিবাদ নির্মূল করা যায় না। অনেক আগে থেকেই জঙ্গিরা অনলাইনকে তাদের প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। তাদের নিজস্ব ব্লগ ও যোগাযোগের চ্যানেল রয়েছে।
পেপারবুক তৈরির অপেক্ষা :হলি আর্টিসান মামলার রায় হয় গত বছরের নভেম্বরে। রায়ে সাত জঙ্গির ফাঁসি ও একজনকে খালাস দেওয়া হয়। এখন পেপারবুক তৈরির অপেক্ষায় রয়েছে। পেপারবুক তৈরি হলেই হাইকোর্টে মামলার আপিল শুনানির কার্যক্রম শুরু হবে।
- বিষয় :
- হলি আর্টিসান