ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

২০২৪-২৫ অর্থবছর

এক বছরে সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্টিং বেড়েছে ৭৪ শতাংশ

এক বছরে সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্টিং বেড়েছে ৭৪ শতাংশ
×

বিএফআইইউ লোগো

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ১৪:৫০ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ১৪:৫৫

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আর্থিক খাতে সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্টিং বেড়েছে ৭৪ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ ধরনের মোট ৩০ হাজার ১৯৯টি রিপোর্ট করেছে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ আর্থিক লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। আগের অর্থবছরে যেখানে এ ধরনের রিপোর্ট হয়েছিল ১৭ হাজার ৩৪৫টি। অর্থাৎ, এক বছরে এ ধরনের রিপোর্টিং বৃদ্ধি পেয়েছে ১২ হাজার ৮৫৪টি; যা ৭৪ দশমিক ১০ শতাংশ। তবে এই সময়ে নগদ লেনদেন রিপোর্টিং (সিটিআর) প্রায় ১৯ শতাংশ কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন সাংবাদিকদের সামনে এই বার্ষিক প্রতিবেদন তুলে ধরেন। পরে তিনি রিপোর্টের ওপর বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি জানান, মূলত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আগের ক্ষমতাসীনদের বিষয়ে নির্ভয়ে রিপোর্ট করেছে ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। যে কারণে এভাবে রিপোর্টের সংখ্যা বেড়েছে। 

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী—২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট সিটিআর হয়েছে ১৯ হাজার ৪৫৪টি। আগের অর্থবছরে যা ছিল ২৩ হাজার ৯০০টি। এর মানে সিটিআর ৪ হাজার ৪৪৬টি বা ১৮ দশমিক ৬০ শতাংশ কমেছে। মূলত ব্যাংকের কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে এক দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি জমা কিংবা উত্তোলন করা হলে তা সিটিআর হিসেবে রিপোর্ট করতে হয়।

বিএফআইইউ প্রধান বলেন, সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্টিং এসেছে ব্যাংকের মাধ্যমে। আগে সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাঠাতে ব্যাংকগুলো ভয় পেত। এখন তাদের মধ্যে সেই ভয় নেই। তাই ব্যাংকগুলোর রিপোর্ট বেশি হচ্ছে। কেউ সন্দেহজনক লেনদেন করলে দল-মতের দিকে তাকানো হয় না। সন্দেহজনক লেনদেন যেই করুক না কেন, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

প্রতিবেদনের খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন দাখিলে দেশের ব্যাংকিং খাতই সবচেয়ে এগিয়ে। গত তিন অর্থবছরে মোট প্রতিবেদনের ৯০ শতাংশেরও বেশি এসেছে ব্যাংকগুলো থেকে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ হার ছিল ৯১ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯২ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ৯৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো ২৮ হাজার ৭৫৫টি সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে; যা আগের অর্থবছরের ১৫ হাজার ৯৯১টির তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১২ হাজার ৮০৯টি প্রতিবেদনের তুলনায় এ সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের ভেতরের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থার মধ্যে ১ হাজার ৩১৪টি তথ্য বিনিময় হয়েছে। এর মধ্যে সিআইডিসহ পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা নিয়েছে ৬৫৭টি তথ্য। বাকি তথ্য নিয়েছে দুদক, এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা।

আরও পড়ুন

×