প্রাকৃতিকভাবে অন্ত্রের পরজীবী নিরাময় করতে কী খাবেন
প্রতীকী ছবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ১৫:৫৪ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ১৬:১৬
পরজীবী, যা সাধারণত খালি চোখে দেখা যায় না, প্রায়ই পানি এবং খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ধরে নেওয়া হয় যে, পরজীবী কেবল দারিদ্র্যপীড়িত দেশগুলিতেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে স্বাস্থ্যখাতে পর্যাপ্ত সহায়তা দেওয়া হয় না। বাস্তবে, বিষয়টি এমন নয়। এই পরজীবী জীবগুলি যেকোনো জায়গায় বাস করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল ( সিডিসি) এর সাম্প্রতিক গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক লাখ মানুষ এর শিকার। শুধুমাত্র বিড়ালের মলের পরজীবীই প্রতি বছর ৬ কোটি আমেরিকান নাগরিককে সংক্রমিত করে। সুতরাং, আপনার শরীরে এটি নেই তা নিয়ে কখনোই নিশ্চিত হতে পারবেন না।
কখনও কখনও পরজীবী সংক্রমণ মানবদেহে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এর ফলে হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়া, অন্ধত্ব, খিঁচুনি এবং কখনও কখনও মৃত্যুও হতে পারে।
অনেকের হয়তো জানা নেই, অন্ত্রে বসবাস করা এসব পরজীবী প্রাকৃতিক উপায়ে মেরে ফেলার উপায় রয়েছে। চাইলে ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবেই এসব উপাদান কাজে লাগাতে পারেন। তাহলে পরজীবীর শরীরে বাসা বাঁধতে পারবে না।
রসুন
রান্নায় স্বাদ বাড়াতে রসুনের জুড়ি নেই। এর অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতাও রয়েছে, যার মধ্যে জিয়ার্ডিয়া এবং গোলকৃমির মতো পরজীবী দূর করা অন্যতম।
পেঁয়াজ
পেঁয়াজের রস শুনতে খুব একটা মুখরোচক মনে না হলেও, এটি ফিতাকৃমি এবং সুতাকৃমির মতো অন্ত্রের কৃমির বিরুদ্ধে লড়াই করতে খুব শক্তিশালী। এর সালফার যৌগগুলিতে পরজীবী-বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অন্ত্রে পরজীবী আছে বলে নির্ণয় করা হলে, দিনে দুবার ২ চা চামচ পেঁয়াজের রস পান করুন। ২ সপ্তাহ পরেই ভালো ফলাফল অনুভব করতে পারবেন।
এক্সট্রা ভার্জিন নারকেল তেল
এক্সট্রা ভার্জিন নারকেল তেলের বেশিরভাগ উপকারিতা এর প্রাকৃতিক স্যাচুরেটেড ফ্যাট উপাদানের কারণে হয়ে থাকে। এগুলো অভ্যন্তরীণ পরজীবী কমাতেও সাহায্য করে। এটি আপনার শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। এক্সট্রা ভার্জিন নারকেল তেল বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহৃত হয়। কেউ কেউ শেক এবং স্মুদিতে কয়েক ফোঁটা যোগ করতে পছন্দ করেন।
অরিগানো তেল
আরেকটি তেল যা পরজীবী মোকাবেলায় কার্যকর হতে পারে তা হলো অরিগানো তেল। এজন্য পানিতে মিশিয়ে দিনে তিনবার পর্যন্ত পান করুন। কেউ কেউ এর তেতো স্বাদে বেশ বিরক্ত হন, তাই এতে কয়েক ফোঁটা তাজা লেবুর রস যোগ করে নিতে পারেন।
আনারস
আনারস শুধু সুস্বাদুই নয়, পুষ্টিকরও বটে। আনারসের স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলোর মধ্যে একটি হলো ফিতাকৃমির মতো কিছু পরজীবী সংক্রমণ দূর করার ক্ষমতা। এতে থাকা ব্রোমেলিন উপাদান এটি করতে সহায়তা করে।
ডালিম গাছের ছাল
ডালিমের ফল এবং খোসা অন্যান্য ঔষধি কাজে ব্যবহৃত হলেও পরজীবী নিরাময়ের ক্ষেত্রে এর গাছের ছালই সবচেয়ে উপকারী। এই ছাল দীর্ঘদিন ধরে ডায়রিয়া এবং আমাশয়ের মতো হজমের সমস্যা নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এছাড়াও, এটি সবচেয়ে মারাত্মক পরজীবীদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি কার্যকর। পরজীবী মারার জন্য আপনি ডালিমের রসও পান করতে পারেন, তবে এর জন্য আপনার বেশ অনেকটা পরিমাণে রস প্রয়োজন হবে। দিনে ৪ থেকে ৫ বার পর্যন্ত খেতে হবে।
অ্যালোভেরা
ঔষধি গুণসম্পন্ন ভেষজের কথা বলতে গেলে, অ্যালোভেরা সবচেয়ে জনপ্রিয়গুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি পোড়ার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি সৌন্দর্য ও ত্বকের পণ্যগুলিতে বহুল ব্যবহৃত উপাদানগুলোর মধ্যে একটি। এছাড়াও, অ্যালোভেরার রেচক বৈশিষ্ট্য পরজীবী দূর করতে সাহায্য করে। অ্যালো জেল, পাউডার এবং এমনকি ট্যাবলেট হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
বাদাম
বাদামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। এটি অন্ত্রের জ্বালা কমাতে সাহায্য করতে পারে। এর ফলে পরজীবী দূর হয়।
কুমড়োর বীজ
বেশ কয়েকটি গবেষণা অনুসারে, কুমড়োর বীজ পরিপাকতন্ত্রের জন্য একটি প্রাকৃতিক কৃমি-নাশক। এর মানে হলো, এটি অন্ত্রের পরজীবী নিরাময় করতে সক্ষম। কুমড়োর বীজ কৃমিকে সরাসরি মেরে ফেলে না, তবে এটি আমাদের শরীর থেকে সেগুলোকে বের করে দিতে সাহায্য করে। এটি পরজীবীগুলোকে দুর্বল করে দেয়, এর ফলে হজমের মাধ্যমে সেগুলো সহজেই শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।
পেঁপের বীজ
আরেকটি চমৎকার বীজ যা অন্ত্রের পরজীবী দূর করতে সাহায্য করতে পারে তা হলো পেঁপের বীজ। মেরিল্যান্ড মেডিকেল সেন্টার এবং এশিয়ান প্যাসিফিক জার্নাল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনের গবেষণায় এটি দেখা গেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায়, ৩০ জন অংশগ্রহণকারী মধুর সাথে পেঁপের বীজ মিশিয়ে খাওয়া শুরু করেন এবং তাদের মধ্যে ২৩ জনের মল পরজীবীমুক্ত হয়েছে বলে জানা যায়। পেঁপে বীজ সরাসরি খাওয়া যায় না, তবে এগুলো সালাদ এবং অন্যান্য খাবারের উপর ছিটিয়ে এবং স্মুদিতে মিশিয়েও খাওয়া যেতে পারে। সূত্র: হেলদি বিল্ডার্জড
- বিষয় :
- ঘরোয়া সমাধান
- স্বাস্থ্যসেবা