আপিল বিভাগের রায়
গুম করে বাড়ি দখল, নাসা চেয়ারম্যানের রেজিস্ট্রি অবৈধ
বাড়ি ফিরে পাবেন মালিক
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৫৭
গুম, জালিয়াতি ও বিতর্কিত দলিলের মাধ্যমে রাজধানীর গুলশানের একটি বাড়ি দখলের অভিযোগে এ-সংক্রান্ত মামলায় রায় দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। রায়ে অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নামে সম্পত্তি রেজিস্ট্রি এবং পরবর্তীকালে ওই সম্পত্তির সব ধরনের হস্তান্তর ও নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ গত সোমবার এ রায় ঘোষণা করেন। ফলে প্রকৃত মালিক সম্পত্তি ফিরে পাবেন বলে গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গুলশানের মডেল টাউন আবাসিক এলাকায় সিডব্লিউএন (নর্থ) ব্লকের ৩৬ নম্বর রোডের ৩৩ নম্বর বাড়িটি বন্ধক রেখে এআরএ জুট ট্রেডিং করপোরেশন অগ্রণী ব্যাংক থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করে। পরবর্তীকালে ঋণখেলাপি হওয়ায় ব্যাংক সম্পত্তিটি বিক্রির উদ্যোগ নেয়।
এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাসঙ্গিক সার্কুলার অনুযায়ী মূল ঋণের তিনগুণ অর্থ এবং কস্ট অব ফান্ডসহ ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করে বন্ধকি সম্পত্তি ছাড়িয়ে নেওয়ার আবেদন করে কোম্পানিটি। অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদও ওই আবেদন অনুমোদন করে। পরবর্তীকালে একটি ভুয়া সমঝোতা স্মারক তৈরি করে নজরুল ইসলাম মজুমদার ব্যাংকের দাবি অনুযায়ী প্রায় ১৭ কোটি টাকা পরিশোধ করেন এবং অগ্রণী ব্যাংক তাঁর নামে সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে দেয়। এ নিয়ে একাধিক মামলা হয় এবং বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আপিল বিভাগে গড়ায়।
মামলার নথি অনুযায়ী, আপিল বিভাগে বিচারাধীন অবস্থায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ সালে এআরএ জুট ট্রেডিং করপোরেশনের এমডি আনোয়ারুল কবির খানকে গুম করে তথাকথিত ‘আয়নাঘরে’ নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে চলমান মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর আইনজীবী ফিদা এম. কামালকেও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে গোয়েন্দা সংস্থার সাদা পোশাকের লোকেরা আনোয়ারুল কবিরকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আদালতে এনে মামলা প্রত্যাহার করায়। তিনি নিজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মামলা প্রত্যাহার এবং পরে দেশত্যাগ করেন। ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর দেশে ফিরে তিনি গুম কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেন। পাশাপাশি জোরপূর্বক মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি উল্লেখ করে আপিল বিভাগে পুনর্বিবেচনা আবেদন করেন। আদালত আবেদন গ্রহণ করে পুনরায় শুনানির নির্দেশ দেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আপিল বিভাগ আনোয়ারুল কবিরের আপিল মঞ্জুর করে রায় প্রদান করেন।
বাদীপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, এ রায়ের ফলে প্রকৃত মালিকের সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা নেই।
- বিষয় :
- গুম