মেসিকে আটকাবেন ও’রাইলি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ১০:০৮
আক্রমণভাগের ডান পাশে খেলেন মেসি। স্বভাবতই ইংল্যান্ডের লেফটব্যাক নিকো ও’রাইলির দায়িত্ব আর্জেন্টাইন জাদুকরকে আটকানো। ২১ বছর বয়সী ইংলিশ ডিফেন্ডারের তর সইছে না এই দায়িত্ব পালনের জন্য। ‘জীবনে একবার পাওয়া’ এই কঠিন চ্যালেঞ্জ সামাল দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত ও’রাইলি। এ চ্যালেঞ্জ জিতে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চান তিনি।
লিওনেল মেসি চলতি বিশ্বকাপে কেমন ফর্মে আছেন, সেটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা জানেন। ৩৯ বছর বয়সে প্রতিটি দলের রক্ষণভাগে কাঁপুনি ধরাচ্ছেন তিনি। ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে এসে যেন সবচেয়ে ভয়ংকর রূপে ধরা দিয়েছেন তিনি। এবারের আসরে একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন। এখন পর্যন্ত ৮ গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন। অনেকটা একা আর্জেন্টিনাকে সেমিতে নিয়ে এসেছেন। সেই মেসিকে থামানো কি চাট্টিখানি কথা!
২০০৬ সালে মেসি যখন প্রথম বিশ্বকাপ খেলেন, ম্যানসিটির এই ডিফেন্ডার তখন এক বছরের শিশু। সেই ও’রাইলির চোখে মেসি হলেন সর্বকালের সেরা ফুটবলার। সেই বিশ্বসেরাকে নিয়ে বিসিবি রেডিওকে তিনি বলেন, ‘আমার আর তর সইছে না, জীবনে একবারই এমন সুযোগ পাওয়া যায়। মেসি তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে চলে এসেছেন। আমার মনে হয়, ফুটবল মাঠে পা রাখা সেরা খেলোয়াড় সে। তাই এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে আমি মুখিয়ে আছি।’
মেসির মুখোমুখি হওয়া নিয়ে ‘টকস্পোর্ট’কে ও’রাইলি বলেন, ‘আমি জানি এখানে কিছু ঐতিহাসিক ব্যাপার (ফকল্যান্ড যুদ্ধ) আছে। আমি এটাও জানি যে কিছুটা উত্তপ্ত পরিস্থিতি হতে পারে। কাজেই তাদের চেয়ে প্রাণশক্তি ও খেলাটার প্রতি ভালোবাসায় এগিয়ে থেকেই আমাদের মাঠে ঝাঁপাতে হবে।’
রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ানো এই ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনাকে সমীহই করেছেন তিনি, ‘তাদের দলে দারুণ কিছু খেলোয়াড় আছেন। মেসি আছেন, যিনি আমার চোখে বিশ্বসেরা ফুটবলার। তাই কাজটা অনেক বড় ও কঠিন চ্যালেঞ্জের। তবে আমার নিজের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস আছে। দেখা যাক কী হয়।’
আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারলে ফাইনালে জায়গা করে নেবে ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ বিশ্বকাপ জয়ের পর আর ফাইনাল খেলা হয়নি ইংল্যান্ডের। ২১ বছর বয়সী এ ডিফেন্ডার এবার স্বপ্ন দেখছেন ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ জেতানোর, ‘আমি প্রতিনিয়ত পরবর্তী লক্ষ্যগুলো নিয়ে স্বপ্ন দেখি ও বিশ্বাস করি। প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে আমি কল্পনা করি– আমরা বিশ্বকাপ জিতে একসঙ্গে ড্রেসিংরুমে উদযাপন করছি, ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরছি আর দেশের মানুষ তা নিয়ে মেতে উঠেছে। এটা হবে দারুণ এক অনুভূতি।’
তিন বছর আগে তাঁর দুটি লক্ষ্য ছিল, প্রথমত বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা করে নেওয়া ও ম্যানসিটির হয়ে খেলা। সেই লক্ষ্য পূরণের পর এখন তাঁর স্বপ্ন বিশ্বকাপ জেতা।