আটলান্টায় বেলিংহাম-এলিস্টার দ্বৈরথ
জুড বেলিংহাম ও আলেক্সিস ম্যাক-এলিস্টার
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ১০:৩৪ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ১০:৩৬
বিশ্বকাপের স্কোয়াডেই তাঁকে না রাখার দাবি উঠেছিল। কোনো মতে ২৬ জনের দলে ঢুকে গেলেও একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়ে ছিল শঙ্কা। সেই জুড বেলিংহাম এখন ইংল্যান্ডের নায়ক। তাঁর জন্যই গ্যালারিতে ইংলিশ সমর্থকরা বিটলসের ‘হেই জুড’ গান ধরেন। আজ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ব্লকবাস্টার সেমিফাইনালে তিনিই ইংল্যান্ডের আশাভরসার প্রতীক। দুরন্ত ফর্মে থাকা এই মিডফিল্ডারকে ঠেকানোর দায়িত্ব পেতে পারেন আলেক্সিস ম্যাক-এলিস্টার। আর্জেন্টিনার এই মিডফিল্ডারও দারুণ ফর্মে আছেন। এ দুজনের সফলতার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করছে ম্যাচের ফলাফল। গত দুই ম্যাচে জোড়া গোল করা বেলিংহাম আজও তেমন কিছু করতে পারলে ইংল্যান্ড জিতে যাবে। আর ম্যাক এলিস্টার যদি তাঁকে আটকে দিতে পারেন, তাহলে টানা দ্বিতীয় ফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে যাবে আর্জেন্টিনা।
এবারের আসরে ইংল্যান্ডের মূল তারকা ছিলেন হ্যারি কেইন। নামের প্রতি সুবিচারও করছেন ইংলিশ অধিনায়ক। তবে আসর যতই আগাতে থাকে, ততই নিজেকে মেলে ধরেন বেলিংহাম। ইংলিশরা যে ৬০ বছরের শিরোপাখরা দূর করার স্বপ্ন দেখছে, তাতে হ্যারি কেইনের চেয়ে বেলিংহামের অবদান বেশি বই কম নয়। মিডফিল্ডার হয়েও কেইনের সমান ৬ গোল তাঁর। বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের পাশাপাশি গোল্ডেন বলের লড়াইয়েও আছেন তিনি। বলা যায় ইংল্যান্ডের ত্রাতা হয়ে উঠেছেন ২৩ বছরের এই তরুণ। মিডফিল্ডার হিসেবে বক্স টু বক্স খেলার কথা তাঁর। পুরো মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। আক্রমণে উঠে মহাগুরুত্বপূর্ণ গোল করেছেন, অন্যকে দিয়ে করাচ্ছেন; আবার রক্ষণে নেমেও প্রতিপক্ষকে ঠেকানোয় অবদান রাখছেন।
মেক্সিকোর বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচটি তাঁর অলরাউন্ড ফুটবলের উপযুক্ত নজির। আজতেকার কঠিন পরিস্থিতিতে আক্রমণের সময় হ্যারি কেইনের সঙ্গে প্রতিপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং দারুণ ফিনিশিংয়ে জোড়া গোল করেন। এরপর জারেল কোয়েনশা লাল কার্ড পাওয়ার পর ১০ জন নিয়ে মেক্সিকোকে ঠেকিয়ে রাখার কাজেও জানপ্রাণ দিয়ে লড়েন। এর মধ্যে গোললাইন থেকে মেক্সিকোর একটি নিশ্চিত গোল অবিশ্বাস্যভাবে বাঁচিয়ে দিয়ে ইংল্যান্ডের জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ডকে জোড়া গোল করে জেতান তিনি।
দুরন্ত ছন্দে থাকা বেলিংহামকে আটকানোর দায়িত্বটা আলেক্সিস ম্যাক-এলিস্টারের ওপরই সম্ভবত বর্তাবে। ডিফেন্সিভ এই মিডফিল্ডার ইংল্যান্ডের আক্রমণ রুখে দেওয়ার পাশাপাশি মেসি-আলভারেজদের জন্য বল জোগানের দায়িত্বও পালন করে থাকেন। ম্যাক এলিস্টারের একটা বড় সুবিধা হলো লম্বা সময় ধরে ইংল্যান্ডে ক্লাব ফুটবল খেলছেন, যে কারণে ইংলিশ ফুটবলের কৌশলটা ভালো মতোই জানা তাঁর। যদিও ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগে দুই প্রধান সেনানী হ্যারি কেইন ও বেলিংহাম ইংল্যান্ডে খেলেন না। ২৭ বছর বয়সী লিভারপুলের এ মিডফিল্ডার বহুমুখী দক্ষতার জন্য বিখ্যাত। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী এ তারকা সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার রক্ষণের সঙ্গে আক্রমণভাগের যোগসূত্র হিসেবে কাজ করেন। দলের প্রয়োজনে আক্রমণেও উঠতে পারেন তিনি। আক্রমণভাগের জন্য বল জোগান দেওয়ার পাশাপাশি নিজে গোল করেন। এই যেমন কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কর্নার থেকে হেড করে আর্জেন্টিনার প্রথম গোলটি তিনিই করেছিলেন।
আক্রমণভাগের মেসি-আলভারেজদের সঙ্গে ম্যাক এলিস্টারের বোঝাপড়াটা চমৎকার। এই যেমন আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে মেসির হ্যাটট্রিকের অন্তত দুটিতে আক্রমণ গড়ে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। এনজো ফার্নান্দেজের সঙ্গে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ করেন ম্যাক এলিস্টার। এনজো প্রায়ই উপরে ওঠে আক্রমণে সহায়তা করেন। কিন্তু এলিস্টার অতন্ত্র প্রহরীর মতো রক্ষণের সামনের জায়গাটা আগলে রাখেন। আর্জেন্টিনা দলে এত এত তারকার ভিড়ে তাঁকে নিয়ে হয়তো খুব বেশি আলোচনা হয় না। কিন্তু দলের ভারসাম্য রক্ষা, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের স্তম্ভে পরিণত করেছে। তাঁর একটি বড় গুণ হলো মাথা ঠান্ডা রেখে গতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে সৃষ্টিশীলতার পাশাপাশি শারীরিক ফুটবলেও দক্ষ তিনি। এসব কারণে কোচের ভীষণ আস্থাভাজন তিনি।