ফুটবলার হতেই জন্ম আলভারেজের
ছবি- এএফপি
আহসান হাবিব সম্রাট
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ০৯:২৮
কথায় আছে, উঠন্তি মুলো পত্তনেই চেনা যায়। হুলিয়ান আলভারেজ একদিন বড় মাপের ফুটবলার হবেন– শৈশবেই সেটির আভাস মিলছিল। শিশু বয়স থেকেই তাঁর ধ্যান-জ্ঞান ছিল ফুটবল। খেলাটির প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও নিবেদন ছিল অতুলনীয়। প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময় যখনই কোনো শিক্ষক তাঁকে জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন, লাজুক ও শান্ত স্বভাবের আলভারেজ ঝটপট উত্তর দিতেন– ফুটবলার হতে চান। জীবনের লক্ষ্যে কেউ যদি অটল ও স্থির থাকে, তাহলে কোনো বাধা বা চ্যালেঞ্জই তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারে না। আলভারেজের ক্ষেত্রেও হয়েছে তাই। ক্যারিয়ারে সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে এখন আলবিসেলেস্তে দলের অন্যতম বড় তারকা এই অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড।
আর্জেন্টিনার মধ্যাঞ্চলের কর্ডোবার ছোট শহর ক্যালচিনে এক কর্মজীবী পরিবারে জন্ম আলভারেজের। নার্সারি স্কুলশিক্ষক মা মারিয়ানা ও কৃষি খামারে কাজ করা বাবা গুস্তাভোর তিন ছেলের মধ্যে সবার ছোট আলভারেজ। মাত্র দু্ই বছর বয়সেই সে বড় দুই ভাই অগাস্টিন ও রাফায়েলের সঙ্গে ‘ফিউচুরাস এস্ট্রেলিটাস’ নামে ফুটবল স্কুলে যেতে শুরু করে। মা-বাবা কাজে ব্যস্ত থাকায় দাদি তিতার হাত ধরে ফুটবল স্কুলে যেত তিন ভাই। যেখানে সে ফুটবল নিয়ে খেলতে পছন্দ করত। ভাইদের অনুশীলন দেখত এবং সেটি অনুকরণ করতে চাইত। দিন দিন ফুটবলের প্রতি ঝোঁক বাড়তে থাকে তাঁর।
দশম জন্মদিনের আগে প্রায়ই দেখা যেত, নাওয়া-খাওয়া ভুলে ফুটবল অনুশীলনে পড়ে রয়েছেন আলভারেজ। ফুটবল একাডেমি মাঠে দিনের অনুশীলন শেষ হলে তাঁর সতীর্থ অনেক ছেলেই বাড়িতে ফিরে বিশ্রাম অথবা ব্যক্তিগতভাবে ইংরেজি শিখতে শিক্ষকের কাছে যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করত। কিন্তু আলভারেজের রুটিনে এসব বিষয় ছিল না। তাঁর মন পড়ে থাকত শুধুই ফুটবলে। এ কারণে একাডেমির অনুশীলন শেষেও নিবিষ্ট মনে অনুশীলন চালিয়ে যেতেন ছোট্ট আলভারেজ। কোচ রাফায়েল ভারাজকে অনুরোধ করতেন, তাঁকে আরও কিছুক্ষণ অনুশীলন করাতে। ক্রস, ফ্রিকিক নেওয়া, পেনাল্টি শট, বাতাসে ভেসে আসা বল প্রতিটি অ্যাঙ্গেল থেকে মাথা ও কপাল ঠুকে হেড করা, ড্রিবলিং, ফার্স্ট টাচে সতীর্থকে বলের জোগান দেওয়া– এসব অনুশীলন করতে করতেই বেলা বয়ে যেত শিশু আলভারেজের।
১৪ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলার হিসেবে নিজ শহরের ক্লাব অ্যাথলেটিকো ক্যালচিনের যুব দলে যোগ দেন তিনি। দুই বছর পরেই বড় ক্লাব রিভার প্লেটের যুব দলে ডাক পান। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। যুব দলের সিঁড়ি ভেঙে সিনিয়র দলে স্থান করে নেন। ২০২২ সালে ১৪ মিলিয়ন পাউন্ডে (প্রায় ১৯ মিলিয়ন ডলার) দেড় বছরের চুক্তিতে ইংলিশ লিগ জায়ান্ট ম্যানসিটিতে যোগ দেন। ২০২৪-এ ৯৫ মিলিয়ন ইউরোতে (প্রায় ১০৯ মিলিয়ন ডলার) অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদে নাম লেখান আলভারেজ। জাতীয় দল ও ক্লারের প্রতিটি বয়সভিত্তিক দলে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া এই ফরোয়ার্ড ২০২১ থেকে আর্জেন্টিনা দলের নিয়মিত মুখ। এরই মধ্যে আলভারেজ আলবিসেলেস্তেদের হয়ে একটি ফিফা যুব বিশ্বকাপ (অনূর্ধ্ব-২০), দুটি কোপা আমেরিকা শিরোপা, একটি ফিনালিসিমা এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জিতেছেন।
২৬ বছরের এই ফুটবলার সম্পর্কে ছেলেবেলার কোচ রাফায়েল ভারাজ ফিফাকে বলেন, ‘আমার মনে পড়ে, একদিন আমি তাঁর দাদিকে বলেছিলাম, এই শিশুই আমাদের সবাইকে রক্ষা করতে যাচ্ছে। তখনই শিশু আলভারেজের বড় মাপের ফুটবলার হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছিলাম।’
- বিষয় :
- হুলিয়ান আলভারেজ
- আর্জেন্টিনা
- বিশ্বকাপ ফুটবল