ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

কেন ১৫ বছর আগেই হরমুজ প্রণালি বন্ধের পরিকল্পনা করেছিলেন খামেনি

কেন ১৫ বছর আগেই হরমুজ প্রণালি বন্ধের পরিকল্পনা করেছিলেন খামেনি
×

আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

তাসনিম নিউজ এজেন্সি

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ১০:৫৭ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ১১:০৫

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের বর্তমান সামরিক কৌশলের ভিত্তি বহু বছর আগে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির নির্দেশনায় গড়ে উঠেছিল বলে দাবি করেছেন দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল ইয়াহইয়া রহিম সাফাভি।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ-কে দেওয়া এক বক্তব্যে সাফাভি বলেন, প্রতিরক্ষা কৌশল নির্ধারণে খামেনি অত্যন্ত দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছিলেন এবং দেশের সামরিক নীতিমালা প্রণয়নে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

সাফাভির দাবি, ২০১১ সালে খামেনি তাকে এক মাসের মধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেন। পরে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলে তিনি ১৫ পৃষ্ঠার একটি সামরিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করেন।

তিনি বলেন, ওই পরিকল্পনায় শুধু হরমুজ প্রণালি নয়, পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর, লোহিত সাগর এবং ভূমধ্যসাগরে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সাফাভির ভাষ্য অনুযায়ী, পরে খামেনি পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের কাছে পাঠান। বর্তমানে যে সামরিক পদক্ষেপগুলোর কিছু বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেগুলোর ভিত্তি ১৫ বছর আগে প্রণীত সেই কৌশলেই নিহিত বলে দাবি করেন তিনি।

মিসাইল সক্ষমতা নিয়েও খামেনির বিশেষ গুরুত্বারোপের কথা উল্লেখ করেন সাফাভি। তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালে আইআরজিসির কমান্ডার হওয়ার পর খামেনি তাকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার দ্রুত সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সাফাভির দাবি, সে সময় ইরানের কাছে প্রায় দুই হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। তবে খামেনি সেটিকে যথেষ্ট মনে করেননি। তার নির্দেশ ছিল, এমন একটি ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে, যা অন্তত তিন মাস ধরে আক্রমণাত্মক যুদ্ধ পরিচালনায় সহায়তা করতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পরপরই ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়। এরপর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে ইরান আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।

এদিকে, ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু ও পরিচালনার দায়িত্ব নেয় ইরান। সমঝোতা অনুযায়ী, প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান একটি বিশেষ নৌপথ নির্ধারণ করে এবং অন্য পথ ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করে দেয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ওই নির্ধারিত পথের বাইরে একটি বিকল্প করিডোর দিয়ে জাহাজ চলাচলে সহায়তা করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান। ইরানের দাবি, ওয়াশিংটন আঞ্চলিক নৌ চলাচলে হস্তক্ষেপ বন্ধ না করা পর্যন্ত ওই করিডোর বন্ধ থাকবে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি দিয়ে বলেছেন, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ‘অনেক অর্থ আয় করবে’। ইরান ঘোষণা দিয়েছে, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে।

আরও পড়ুন

×