কিংবদন্তি হওয়ার পথে কেইন
সেকান্দার আলী
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৫৫
গ্যারি লিনেকার খুব খুশি হয়েছিলেন, যেদিন তাঁর ৪০ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দেন হ্যারি কেইন। উত্তরসূরির কাছে রেকর্ড হারানোতেও যে গৌরব, সেদিন উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন লিনেকার। তিনি এমন একজনের কাছে রেকর্ড খুইয়েছেন, যিনি শিরোপার জন্য খেলছেন বিশ্বকাপে। ৫৬ বছরের শিরোপা-খরা কাটাতে চেষ্টা করছেন প্রাণান্ত। ইংলিশ ফুটবলের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠা কেইন দারুণ খেলছেন বিশ্বকাপে। তাঁর ভালো খেলার প্রমাণ মেলে গোলপ্রাপ্তিতে। আগের দুই বিশ্বকাপে যেখানে আটটি গোল করেছিলেন, সেখানে এবার ছয় গোল হয়ে গেছে তাঁর। নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে গোলের দেখা না পেলেও নেতৃত্ব দিয়েছেন রাজার মতোই। গ্যারি লিনেকার, ডেভিড বেকহামরা অধিনায়ককে প্রেরণা জোগাচ্ছেন সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বাজিমাত করতে।
লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বা কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো বিশ্বজুড়ে নাম না ফুটলেও কেইন ইউরোপে জনপ্রিয়। গোল করায় এবং বলের জোগান দেওয়ায় পারদর্শী ইংলিশ এই স্ট্রাইকার। বুন্দেসলিগায় টানা তিন মৌসুম ধরেই সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। বায়ার্ন মিউনিখের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ৩৬টি গোল করে। লিগের ছন্দ বয়ে এনেছেন বিশ্বকাপেও। মেসির মতো সর্বজনীন কিংবদন্তি না হলেও ইংল্যান্ডে ফুটবলের প্রজন্মের রাজা কেইন। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ফাইনালে উন্নীত হতে পারলেই মেসিদের সঙ্গে উচ্চারিত হবে তাঁর নাম। গ্যারি লিনেকারের মতো ওপর থেকে ববি মুরও চাইবেন কেইনের কাছে হেরে যেতে। ১৯৬৬ সালে মুর বিশ্বকাপ জিতেছিলেন দেশের মাটিতে। কেইন জিতলে হবে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে পাওয়া প্রথম সাফল্য। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জিতলেই হবে রেকর্ড। কারণ, ১৯৯০ ও ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের হার্ডল টপকাতে পারেনি তিন সিংহের দল। ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে সেমিফাইনালে ২-১ গোলে হেরেছিল। আর কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ গোলে হেরে হয়েছিল স্বপ্নভঙ্গ। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে আটলান্টা বিজয়ের দারুণ সুযোগ কেইনদের সামনে। ডেভিড বেকহাম, মাইকেল ওয়েন, ওয়েন রুনিরা প্রেরণা জোগাবেন গ্যালারি থেকে। ২০১৮ সালে জাতীয় দলের অধিনায়ক হওয়ার পর থেকে ভালো করছেন কেইন। উন্নতির প্রমাণও রেখেছেন শেষ দুই বিশ্বকাপে। ২০২৪ সালের ইউরো ফাইনালে স্পেনের কাছে ২-১ গোলে হার ছিল হতাশ করা। এবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে চায় না দেশটি।
কেইন স্ট্রাইকার হিসেবে খেললেও মিডফিল্ডে নেমে প্লেমেকারের কাজটিও ভালোই করেন। এ কারণে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা ও সম্পূর্ণ স্ট্রাইকার বলা হয় তাঁকে। দুই পায়ে ও হেডে গোল করার অসাধারণ দক্ষতা আর নিখুঁত ফিনিশিং দেওয়ায় পারদর্শী ইংলিশ অধিনায়ক। নিচে নেমে এসে রক্ষণ-চেরা পাস বা থ্রু বল বাড়িয়ে সতীর্থদের দিয়ে গোল করান। শারীরিক শক্তি কাজে লাগিয়ে বল নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে অন্যদের আক্রমণে ওঠার সুযোগ করে দেন। মেসির মতো কেইনেরও প্রখর ‘পজিশন সেন্স’। সতীর্থদের কাছ থেকে পাস পাওয়ার জন্য জায়গামতো ছুটে যেতে দেখা যায় তাঁকে। ক্যারিশমাটিক নেতৃত্বগুণে জুড বেলিংহাম, বুকায়ো সাকা ও অ্যান্থনি গার্ডনদের উজ্জীবিত রাখেন গোল করাতে। এই বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে গ্যারি লিনেকারের ১০ গোলের রেকর্ড ছুঁয়েছিলেন কেইন। পরের ম্যাচে পানামার বিপক্ষে একটি গোল করে স্বদেশি সাবেক কিংবদন্তিকে ছাড়ান। ফুটবলের রাজা পেলের রেকর্ড ভেঙেছেন ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে জোড়া গোল করে। মেক্সিকোর বিপক্ষেও পেয়েছেন একটি গোল। এবার সেমিফাইনাল বাজিমাত করে কিংবদন্তি হওয়ার পালা কেইনের।
কারণ, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের রেকর্ড বেশ ভালো। ১৪ ম্যাচে মুখোমুখি হয়ে ছয়টিতে জিতেছে ইংল্যান্ড, দুটি আর্জেন্টিনা। বাকি পাঁচটি ড্র। ১৯৬২ সালে গ্রুপ পর্বে ৩-১ গোল, ১৯৬৬ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে ১-০ গোলে ইংলিশদের জয়। ১৯৮৬ সালে হাত দিয়ে করা বিতর্কিত গোলের ম্যাচটি ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। ১৯৯৮ সালে শেষ ষোলোর ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র ছিল। টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জিতে নেয় আর্জেন্টিনা। তবে ২০০২ সালে শেষ দেখায় ডেভিড বেকহামের একমাত্র গোলে জিতেছে ইংল্যান্ড।