ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

আর্জেন্টিনার ‘প্রথম’ কঠিন পরীক্ষা

আর্জেন্টিনার ‘প্রথম’ কঠিন পরীক্ষা
×

জামাল ভুঁইয়া, জাতীয় দল অধিনায়ক

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ০৯:২৪ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ০৯:২৪

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফেভারিট আর্জেন্টিনা। তবে এবারের বিশ্বকাপে পুরো চিত্রটা যদি আমরা দেখি, তাহলে এই সেমিফাইনাল ম্যাচটি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার জন্য বড় পরীক্ষা। কারণ, তারা এখনও র‍্যাঙ্কিংয়ে সেরা দশে থাকা কারও সঙ্গে খেলেনি। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনা অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের সঙ্গে খেলে জিতেছে। সেরা বিশের মধ্যে থাকা সুইজারল্যান্ড আর্জেন্টিনাকে পরীক্ষায় ফেলেছিল।

ইতিহাস আর ঐতিহ্যের দিক দিয়ে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াইটি গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে বিতর্কিত ম্যাচও হয়েছে। আপনি যদি ইতিহাস দেখেন, তাহলে সামনে চলে আসবে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দুই দলের লড়াইটি। কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেই ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনা দুটি গোল করেছিলেন। এর মধ্যে একটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেরা গোল। ম্যারাডোনা সব প্লেয়ারকে ড্রিবল করার পর গোলরক্ষককে ড্রিবল করে গোল করেছিলেন। প্রথমটি তিনি হাত দিয়ে গোল করেছিলেন, যেটি ফুটবল ইতিহাসে বলা হয় ‘হ্যান্ড অব গড’। তাই আমার কাছে মনে হয়েছে, সেই ম্যাচ নিয়ে তেতে আছেন ইংল্যান্ড খেলোয়াড় থেকে শুরু করে সমর্থকরা। দেখলাম, ফিফার কাছে আর্জেন্টিনা অনুরোধ করেছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে তারা নীল জার্সি পরে খেলবে। নীল জার্সিতে তারা ১৯৮৬ বিশ্বকাপেও খেলেছিল। ইতোমধ্যে ‘মাইন্ড গেম’ শুরু হয়েছে।

বিশ্বকাপে সর্বশেষ আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড খেলেছিল সম্ভবত ২০০২ সালে। আমার যতদূর মনে হয়, গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে ডেভিড বেকহাম গোল করেছিলেন। ইংল্যান্ড ম্যাচটি জিতেছিল। আর এবারের ম্যাচে লিওনেল মেসি প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছেন। ব্যাপারটি খুবই মজার। এবার মেসি খেলবেন বলে অন্যরকম একটা লড়াইয়ের আভাস দেখা যাচ্ছে। তবে আর্জেন্টিনার জন্য চিন্তার বিষয় হলো ‘আউট অব দ্য ব্লু’ থেকে তারা গোল হজম করছে। কেপ ভার্দে, মিসরের বিপক্ষে তারা দুটি গোল রিসিভ করেছে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও একইভাবে গোল হজম করেছে। তারপর সুইজারল্যান্ডের এক প্লেয়ার লাল কার্ড খেয়েছে। ম্যাচটি কিন্তু তখনই শেষ হয়ে যায়। একজন কম নিয়ে খেলা সুইসরা পারেনি আর্জেন্টিনাকে হারাতে।

এই ম্যাচেও মেসির দিকে দৃষ্টি থাকবে সবার। আগের ম্যাচগুলোতে হয়তো সেভাবে চ্যালেঞ্জে পড়তে হয়নি মেসিকে। আমার মনে হচ্ছে, ইংল্যান্ড ম্যাচটি মেসির জন্য কঠিন হবে। কারণ, ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা সব হাই লেভেলে খেলেন। তার পরও মেসি তো মেসিই। তিনি জানেন, কীভাবে ম্যাচ বের করতে হয়। তিনি আটবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন, তার সঙ্গে এই বিশ্বকাপে ৮ গোল করেছেন। তাঁর মতো ফুটবলারের জন্য চ্যালেঞ্জ ফেস করাটা নতুন কিছু নয়।

অনেকেই লড়াইটা মেসি বনাম হ্যারি কেইন মনে করছেন। তবে আমার কাছে ভাইটাল প্লেয়ার মনে হচ্ছে ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহামকে। তিনি সব সময় সেকেন্ড লাইন থেকে বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন। সত্যি কথা বলতে, প্রতিপক্ষের রক্ষণের জন্য বেলিংহাম খুবই বিপজ্জনক ফুটবলার।

আরও পড়ুন

×