মায়ের আর্তনাদ
‘বুকের মধ্যে হাহাকার করছে, ছেলেকে ফেরত দাও’
আব্দুল মোসাব্বির মাকিন। ছবি: সংগৃহীত
বকুল আহমেদ
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৫ | ১৮:২৭ | আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৫ | ২০:০৫
‘দরকার হলে আমার প্রাণ নাও। বিনিময়ে আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দাও। বুকের ধনকে ফেরত দাও আল্লাহ। আমি আর সহ্য করতে পারছি না। বুকের মধ্যে হাহাকার করছে।’
দুই হাত তুলে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সামনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই প্রার্থনা করছিলেন মা সালেহা বেগম। কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানিও যেন শুকিয়ে গেছে তার। তিনজন নারী আত্মীয় তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এরপরও কান্না থামছিল না তার।
মঙ্গলবার দুপুরে এ দৃশ্য দেখা গেল রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে।
আহতের স্বজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সালেহা বেগমের ছোট ছেলে আব্দুল মোসাব্বির মাকিন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন। মোসাব্বির সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। সোমবার তাকে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাকিনের অবস্থা গুরুতর। তার শরীরের ৬৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মা সালেহা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে সমকালকে জানান, বেশিরভাগ সময় তিনি ছোট ছেলে মাকিনকে স্কুলে আনা-নেওয়া করেন। সোমবার দুপুর ১টায় তিনি মাইলস্টোনে ছেলেকে আনতে গিয়েছিলেন। মাকিন দোতলায় শ্রেণিকক্ষে ছিল। ছুটির ঘণ্টা বাজলে অনেকে বের হলেও সে বের হয়নি। তিনি স্কুল প্রাঙ্গণে ছেলের জন্য অপেক্ষা করছেন, হয়ত ছেলে বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলছে। কিছুক্ষণ পরই বিকট শব্দ হয়ে একটি বিমান আছড়ে পড়ে স্কুল ভবনের নিচে ঢুকে যায়। মাকিন ছিল ওই ভবনের দোতলায়।
সালেহা বেগম বলেন, নিজ চোখে ছেলেকে আগুনে স্কুলরুমে আটকে থাকতে দেখেছি। ওকে আমি সুস্থভাবে বের করতে পারিনি। অনেককেই শরীরে আগুন নিয়ে বের হয়ে আসতে দেখি। পাগলের মতো করে ছেলেকে খুঁজছিলাম। কোথাও পাইনি। অনেক পরে খবর আসে, আমার ছেলেকে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। এরপরই হাসপাতালে ছুটে আসি। ছেলের শরীরের বেশিরভাগই পুড়ে অঙ্গার হয়েছে। ওর খুব কষ্ট হচ্ছে। বাবাটার কষ্ট আমি আর সহ্য করতে পারছি না।
মাকিনের মামাতো ভাই মাহি হায়দার দুর্জয় জানান, মাকিনদের বাসা গাজীপুরের টঙ্গী থানার বোর্ড বাজার এলাকায়। সে মাইলস্টান স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। তার বড় ভাই আব্দুল মোমিন মাহাদিও একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, সোমবার দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে উত্তরা দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নিজস্ব ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে স্কুল ভবনে ঢুকে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩১ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার বেশিরভাগই শিশু শিক্ষার্থী।
