শিল্প প্রদর্শনী
অন্তরগ্রন্থি শিল্পভাষ্য শিশির ভট্টাচার্যের
ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ২২:৩২
নিঃশব্দ অথচ অভাবনীয় রকম গভীর। শিল্পী শিশির ভট্টাচার্যের ‘রেখাচিত্র’ প্রদর্শনী কোনো উৎসব নয়, যেন এক প্রার্থনা। এখানে ৯৪টি রেখাচিত্র যেন একেকটি কাগজে অঙ্কিত আত্মার ছাপ, অন্তর্জগতে ডুব দিয়ে তুলে আনা মুক্তা।
শুক্রবার লালমাটিয়ার ডি-ব্লক মাঠের পাশে থাকা গ্যালারি কলাকেন্দ্রে শুরু হওয়া এ শিল্প প্রদর্শনী যেন এক অন্তরগ্রন্থি শিল্পভাষ্য। শিশির ভট্টাচার্য্য তার এ একক প্রর্দশনী নিয়ে বলেন, ‘প্রদর্শনীর জন্য যে এগুলো তৈরি করা, তা নয়। যা মাথায় এসেছে, যখন যেমন লেগেছে, স্কেচবুকে, নোটপ্যাডে, কখনও কলমে, কখনও কালি বা মার্কারে এঁকেছি। সময় ও অবস্থান বদলেছে, কিন্তু রেখা ছিল নিজের। রেখা ছিল নিজের চিন্তারই পরিপূরক।’
‘রেখাচিত্র’-এর প্রস্তুতির পেছনে শিল্পীর চিন্তার দ্বন্দ্ব স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘১৫ দিন ভাবলাম নাম কী হবে। কিন্তু কিছুই ঠিক করতে পারলাম না। শুধু একটি ভাবনাই ঘুরেফিরে এলো। এ কাজগুলো একান্তই নিজের, নিজের সময়ের ছাপ। ব্যাখ্যা দিতে ইচ্ছে হয় না। কারণ, যা বলার রেখাগুলোই বলেছে।’
প্রদর্শনীতে কোনো বিশেষ অতিথি ছিলেন না। উপস্থিত ছিলেন শিল্পী ও তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা; যেন এক মৌন সমারোহ। ‘রেখাচিত্র’ চলবে বিকেল ৪ টা থেকে রাত ৮ টা, ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
বাংলাদেশের দৃশ্যশিল্পের পরিচিত নাম শিশির ভট্টাচার্যে্যর স্কেচে ফুটে উঠেছে শিল্পীর একান্ত আত্মদর্শন। দেশের সংবাদপত্রে ব্যঙ্গচিত্র প্রথম পাতায় যাদের হাত ধরে ছাপা শুরু হয়েছিল, তিনি তাদের অন্যতম। তার হাজারো কার্টুনে উঠে এসেছে সমসাময়িক নানা বাস্তবতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগের সাবেক এ অধ্যাপক তার শিল্পচর্চায় যতটা সাধনা-নিমগ্ন নিজের শিল্পকর্ম দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে যেন সে রকমই অনিচ্ছুক।
কলাকেন্দ্রে প্রদর্শনীতে দেখা যায়– বাস্তবের লজিক ভেঙে দেওয়া এক পরাবাস্তব দৃশ্যপট। এটা ১২ বছর পর শিল্পী শিশিরের একক প্রদর্শনী। এর আগে ২০১৩ সালে ‘দাগ-তামাশা’ নামে ঢাকা আর্ট সেন্টারে শিশিরের একক প্রদর্শনী হয়েছিল। শিল্পপ্রেমীদের জন্য এসব উৎসবের থেকে কম কিছু নয়।
এবারের প্রদর্শনীতে রয়েছে ৯৫টি ড্রয়িং। সব কটিই রেখাচিত্র। এখানে পাওয়া যাবে বিভিন্ন সময় আঁকা কাজ, ১৯৯০ সাল থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ২০২৩-২৫ সালেরও ড্রয়িং। সবগুলোই শিশিরসুলভ; রেখামুখর। কার্টুনে তিনি যেমন মুহূর্তের বাস্তবতা আঁকতেন, রেখার ভেতর দিয়েও অবচেতনের জগৎকে দৃশ্যমান করছেন।
যেখানে সীমানা মুছে যায়: বাউন্ডারিস-৩
লালমাটিয়ার গ্যালারি ইলিউশনে শুক্রবার শুরু হয় ‘বাউন্ডারিস-৩’ প্রদর্শনী। অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও নেপালের ২৩ শিল্পী। প্রদর্শনীর কিউরেটর মাহফুজা বিউটি জানান, শিল্পীদের মধ্যে আছেন– ফরিদা জামান, সুলতানুল ইসলাম, জ্যোৎস্না মাহবুব, ওয়াহিদ জামান, তরুণ ঘোষ, কারেন কর্নিলিয়াস ও সরোজা খাদগি প্রমুখ। উদ্বোধনী আয়োজনে ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত ও লেখক মাহফুজুর রহমান, ওয়াটারএইড সাউথ এশিয়ার রিজিওনাল ডিরেক্টর ড. খায়রুল ইসলাম এবং শিল্পী তরুণ ঘোষ।
প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত ৪৫টি শিল্পকর্মের মধ্যে ৩৯টি চিত্রকর্ম ও ৬টি ভাস্কর্য, এ যেন বৈচিত্রতার অনন্য সমন্বয়। ‘বাউন্ডারিস-৩’ প্রদর্শনী চলবে প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা, ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
- বিষয় :
- শিল্প প্রদর্শনী
