ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

টিএসসিতে বাস্তুহীন ব্যক্তিদের উচ্ছেদে অভিযান ডাকসুর

টিএসসিতে বাস্তুহীন ব্যক্তিদের উচ্ছেদে অভিযান ডাকসুর
×

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অভিযান চালিয়ে ভবঘুরে ও ছিন্নমূল মানুষদের উচ্ছেদ করেছে ডাকসু। সমাজসেবা সম্পাদকের নেতৃত্বে এই অভিযানে ছিল প্রক্টরিয়াল টিমও। শনিবার দুপুরে তোলা- সমকাল

 বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৭:১৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকায় থাকা বাস্তুহীন ও ভাসমান মানুষদের উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। গতকাল শনিবার ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়েরের নেতৃত্বে অভিযানটি চালানো হয়। প্রক্টর অফিস এবং এস্টেট অফিসের নিরাপত্তা বিভাগও অভিযানে অংশ নেয়। পরিচালনা করে। তবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা ডাকসু ও প্রক্টরের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিনা নোটিশে উচ্ছেদ এবং অভিযানের সময় নারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঘটনায় অনেকে এর সমালোচনা করছেন।

গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টিএসসির মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে অভিযান শুরু হয়। এ বি জুবায়েরের ভাষ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মাদকসেবী, ভবঘুরে ও মানসিক ভারসাম্যহীনদের অভয়ারণ্য হয়ে গেছে। তাদের অঙ্গীকার ছিল ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীবান্ধব করে তোলা। সে তাড়না থেকে প্রক্টরিয়াল টিমের সমন্বয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। ক্যাম্পাসে মাদকসেবী, মাদক কারবারি, ছিনতাইকারী ও ভবঘুরে যারা আছে, তাদের উচ্ছেদ করা এর লক্ষ্য।

ডাকসুর গঠনতন্ত্রের ‘কার্যাবলি’ ধারায় ৯টি কাজ তালিকাভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে এ ধরনের কোনো অভিযানের বিষয় বা আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কিছু নেই। শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা বিধান করার কোনো কাজও তালিকায় নেই। ডাকসুর কার্যাবলিতে প্রধানত শিক্ষার্থীদের অধিকার সংরক্ষণ, বুলেটিন, ম্যাগাজিন বা পত্রিকা প্রকাশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বক্তৃতা, বিতর্ক, আবৃত্তির মতো বিষয় রয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রক্টর অফিসের যেসব কাজের কথা উল্লেখ রয়েছে, তাতেও এ ধরনের অভিযান চালানোর এখতিয়ারের বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই।

এ ব্যাপারে জানতে প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদের মোবাইল ফোনে সন্ধ্যায় ও রাতে একাধিকবার কল করা হয়। তবে তিনি কল রিসিভ করেননি।

জানতে চাইলে এ বি জুবায়ের সমকালকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে উচ্ছেদের আগে ভবঘুরেদের নোটিশ দেওয়া হয়নি কিংবা সিটি করপোরেশনকে জানানো হয়নি। ভবঘুরে, ভাসমান এই লোকদের পুনর্বাসনের বিষয়টি রাষ্ট্রের দেখা উচিত।

এর আগে ১২ সেপ্টেম্বর মাস্টারদা সূর্য সেন হলের একটি দোকান থেকে টেস্টিং সল্ট পাওয়ায় হল সংসদের নবনির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) আজিজুল হক দোকানিকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করেন। তখন প্রক্টর জানিয়েছিলেন, এটি হল সংসদের ভিপির এখতিয়ারে নেই।

গতকাল উচ্ছেদ অভিযানের পর ডাকসু সমাজসেবা সম্পাদক জানান, অভিযানে কিছু মাদক, ছুরি, কাঁচি, ব্লেডসহ ধারালো জিনিস পাওয়া গেছে। জব্দ করা এসব দ্রব্যসহ একজনকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তারা এখানে মাদক সেবন করে। ব্যবসা করে। সন্ধ্যার পর ছিনতাই হয়। বিভিন্ন যৌনপল্লির কার্ড পাওয়া গেছে। 
জুবায়ের বলেন, এটা আমাদের সাময়িক অভিযান। দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটছি। এরই মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আমরা অবিলম্বে প্রতিটি প্রবেশপথে নিরাপত্তাকর্মী রাখব, যাতে এসব লোক ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পারে।


 

আরও পড়ুন

×