হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান বিজয়া সম্মিলনে বক্তাদের
শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের মেলাপ্রাঙ্গনে আয়োজিত বিজয়া সম্মিলন ২০২৫-এর অনুষ্ঠানে বক্তারা। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৫ | ২১:৫২
বিজয়া সম্মিলন ২০২৫-এর অনুষ্ঠানে বক্তারা হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বক্তারা বলেন, সাড়ে তিন কোটি হিন্দুদের অবহেলা করার সুযোগ নেই। সাত-আট পার্সেন্টের দরকার নেই এক পার্সেন্ট যথেষ্ট ন্যায্যতার অধিকারী কথা বলার জন্য। সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের কথা বলার আহ্বান জানানো হয়। সরকারে যেই থাকুক নিজেদের অধিকারের আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।
শুক্রবার রাজধানীর শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের মেলাপ্রাঙ্গনে আয়োজিত এই আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি।
অনুষ্ঠানের সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব বক্তৃতায় বলেন, আমরা কিন্তু এদেশের ভূমিপুত্র মনে রাখবেন। আমরা এদেশের জন্ম জন্মন্তরের পূর্ব পুরুষের বংশধর। অনেকে অনেক কিছু ভাবেন, অনেক কিছু চিন্তা করেন। আমরা বলতে চাই, যত পারসেন্টই হোক ওয়ান পার্সেন্ট ইজ ইনাফ টু ফাইট অ্যাগেইনস্ট দ্য ইভিল ফোর্স।
অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার বলেন, আমাদের হিন্দুদের বিষয় নিয়ে যারা বিভিন্ন আন্দোলন করেছেন, সংগঠিত করেছেন তাদেরকে আমন্ত্রণ করলে খুশি হতাম। আজকে জুলাই সনদ স্বাক্ষর হচ্ছে তবুও আমি এখানে এলাম। কারণ ওখানে হাজের মধ্যে একজন হতাম আর এখানে আমি কথা বলতে পারছি। এবার পূজা যেন ভালোভাবে হয় তাতে আমাদের বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লক্ষ্য রেখেছেন। জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলও লক্ষ্য রেখেছেন। দেশের এই একটা বিশেষ পরিবেশে অনেক কিছু আমরা করতে পারছি না। আমাদের কেন জানি বলতে ইচ্ছে করে সরকারের অনেক কর্মকাণ্ডে হিন্দুদের অংশগ্রহণ কমে যাচ্ছে। সরকারের সঙ্গে আমাদের সকলের কথা বলা দরকার। গত ১৫/১৬ বছরে গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে। গণতন্ত্র না থাকলে কোনো কিছুই ঠিকভাবে হয় না।
স্বাগত বক্তব্যে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাপস চন্দ্র পাল বলেন, কিছু দিন আগে আমাদের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান দুর্গা পূজা সম্পন্ন করেছি। আজকের এই আয়োজনের মধ্যে দিয়ে পুরস্কার দিয়ে সেরা আয়োজকদের স্বীকৃতি জানাচ্ছি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মঈনুদ্দীন শামীম। অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শান্টু বড়ুয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আবু সায়েম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃত বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. ফাদার তপন সি ডি রোজারিও প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে এবারের দুর্গা পূজায় সেরা আয়োজনে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। প্রতিমা নির্মাণ ও স্মরণিকায় প্রথম হয়েছে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন। সাজসজ্জায় প্রথম হয়েছে উত্তরা সার্বজনীন পূজা কমিটি।
- বিষয় :
- হিন্দু সম্প্রদায়
