ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জানাল বেবিচক

আগুনে বিজিএমইএর বেশির ভাগ মালপত্র অক্ষত

আগুনে বিজিএমইএর বেশির ভাগ মালপত্র অক্ষত
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:৫৩ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৫ | ১০:১৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডে অক্ষত পণ্যের তালিকা প্রকাশ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এটি বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পণ্যের তালিকা। তবে অন্য পণ্যের তালিকা প্রকাশ না করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার ৮ নম্বর ফটকসংলগ্ন দেয়ালে সাঁটানো তালিকায় নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম খুঁজতে ভিড় করেন ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারকরা। 

আমদানি পণ্য নিয়ম অনুযায়ী কার্গো থেকে ২১ দিনের মধ্যে খালাস হওয়ার কথা। তবে সেখানে বছর ধরে পণ্য পড়ে থাকে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এ তথ্য জানিয়েছেন।

গতকাল বিমানবন্দরে বেবিচক সদরদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির চেয়ারম্যান বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আগুনের সূত্রপাত কুরিয়ার গুদাম থেকে। রানওয়ের অ্যাপ্রোনে পণ্যসামগ্রী স্তূপ করে রাখা ছিল। এর কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে সমস্যা হয়। এর দায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ঢাকা কাস্টম হাউস ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের।

বিমান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ৮ নম্বর ফটকে প্রকাশিত ক্ষতিগ্রস্ত তালিকায় মূলত বিজিএমইএ সংশ্লিষ্ট পণ্যের নাম রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে তাদের বেশির ভাগ মালপত্র অক্ষত আছে। পাঁচ শতাধিক মালপত্রের বিস্তারিত তথ্য তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বিভাগের একাধিক কর্মী জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় বিজিএমইএর মালপত্রগুলো অ্যাপ্রোন এলাকায় থাকায় সেগুলোর খুব একটা ক্ষতি হয়নি। মালিকরা ব্যাংকে নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে এনবিআরের মাধ্যমে মালপত্র খালাস করে নিতে পারবেন।

আগুনের ঘটনা তদন্তে সিভিল এভিয়েশন, কাস্টমস শুল্ক গোয়েন্দা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের কাজ করছে। গতকালও একাধিক তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। 

শনিবার বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। এ ছাড়া সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসার আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। রোববার বিকেলে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়।

রানওয়ে এলাকায় পণ্য ছড়ানো-ছিটানো ছিল
সংবাদ সম্মেলনে মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, ঢাকা বিমানবন্দরের কার্গো আমদানি কার্গো ভিলেজে আগুনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনে (আইকাও) বিমানবন্দরের ক্যাটেগরি মান পড়বে না। বিমানবন্দরের কার্গো ভবন সিভিল এভিয়েশনের হলেও এর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং দায়িত্ব পালন করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, কার্গো ভবনের রানওয়ে (অ্যাপ্রোন) এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল বিভিন্ন কার্গোপণ্য। আগুন লাগার খবর পেয়ে সিভিল এভিয়েশনের নিজস্ব ফায়ারগাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু রানওয়ে এলাকায় পণ্য থাকায় কুরিয়ার গোডাউনে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয় কর্মীদের। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি অনুমতির জন্য প্রথমে ঢুকতে পারেনি– এ অভিযোগ সত্য নয়। 
 

আরও পড়ুন

×