লিফটের সামনে নারীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগ, ৬ দিন পর মামলা
উত্তরা পশ্চিম থানা। ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫ | ১৯:০৫
রাজধানীর উত্তরা সোনারগাঁও জনপথ রোডের নাভানা ওভাল ভবনে লিফটের সামনে নারীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে ৬ দিন পর মামলা নিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাতে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ এই মামলা নথিভুক্ত করে। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ও তার সহযোগী কেউ আটক হয়নি।
এর আগে অভিযুক্ত রায়হানকে রক্ষায় সমঝোতার জন্য ফেডেক্সের অন্যান্য লোকজন রাজনৈতিক ক্ষমতা দেখিয়ে চাপপ্রয়োগের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেন মামলার বাদীরা।
উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি রহিম মোল্লা জানান, পুলিশ মামলা রেকর্ড করেছে। কেউ আটক হয়নি।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ অক্টোবর (মঙ্গলবার) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে একটি গ্রুপ অব কোম্পানির এমডি ও তার মেয়ে (প্রতিষ্ঠানের পরিচালক) ওই ভবনের ৫ম তলায় তাদের অফিস থেকে নিচতলায় নামতে যান। তখন লিফটের ভেতরে ৫/৬ জন ব্যক্তি থাকায় তারা উঠতে না পেরে সহযোগিতা চান। এর মধ্যে এক যুবক তাদের উদ্দেশ্য করে অশোভন আচরণ, অঙ্গভঙ্গি ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এরপর লিফট নিচে নেমে যায়। দুই নারী তাদের অফিসে ফিরে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ওই যুবককে শনাক্ত করেন। অভিযুক্ত ওই যুবক ফেডেক্স কুরিয়ার সার্ভিসের স্টাফ রায়হান বলে শনাক্ত করেন তারা।
এজাহারে আরও বলা হয়, একই দিনে তারা বিল্ডিং অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য আব্দুল মজিদকে এ ঘটনা জানান ও প্রতিকার চান। তবে ফেডেক্সের অসহযোগিতার কারণে কোনও প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে আব্দুল মজিদ জানিয়েছেন।
ভোক্তভোগীরা জানিয়েছেন, ২৬ অক্টোবর রোববার দুপুরে একই ভবনে ইভটিজিংয়ের শিকার ওই দুই নারী রায়হানকে লিফটে দেখে অস্বস্তিবোধ করেন ও নামতে বলেন। তারা তাকে বলেন, তার বুথ গ্রাউন্ড ফ্লোরে, তিনি কেন গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে বেজমেন্টে নেমেছেন এবং লিফট থেকে না নেমে আবারো কেন উপরে যাচ্ছেন? এতে রায়হান উত্তেজিত হয়ে গালাগালি করতে থাকেন।
সিসিটিভি ফুটেজে রায়হানকে গ্রাউন্ড ফ্লোর (যেখানে ফেডেক্স-এর বুথ) থেকে উঠতে দেখা যায় এবং বেইজমেন্টে লিফট থামলে তিনি না নেমে নারীদের দেখে লিফটে থেকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আর দুই নারী তাকে বারবার লিফট থেকে নামতে ইশারা করছিলেন। এক পর্যায়ে রায়হানকে উত্তেজিত হতে দেখা যায়। তখন রাম কৃঞ্চ নামে একজন এসে রায়হানকে লিফট থেকে নামিয়ে নিলে দুইপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় রাম কৃষ্ণ রায় ও তার সহকর্মী হাসিম উদ্দিন আহত হলে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে নারী উত্ত্যক্ত ও তাদের মারধর করার লিখিত অভিযোগ করেন থানায়।
এদিকে, ঘটনা আঁচ করতে পেরে অভিযুক্ত ওই যুবক ফেডেক্সের কয়েকজনের যোগসাজশে থানায় পাল্টা অভিযোগ করেন। পুলিশ রাম কৃষ্ণ রায়কে ঘটনা মীমাংসা করতে সময় দেয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুই নারীর বিরুদ্ধে করা অভিযুক্ত রায়হানের দেওয়া অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড করে থানা। বিষয়টি ডিএমপির কর্মকর্তাদের দৃষ্টিগোচর হলে রাত একটার দিকে রাম কৃষ্ণ রায়কে থানায় ডেকে রায়হানের বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে মামলা রেকর্ড করে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নূরে আলম জানান, নারী উত্ত্যক্তের ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। রায়হানসহ অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।
