ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সংস্কারের পর দর্শনার্থীর ঢল লালকুঠিতে

সংস্কারের পর দর্শনার্থীর ঢল লালকুঠিতে
×

পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক লালকুঠি দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর। গতকাল তোলা সমকাল

 সাফা খাতুন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬ | ০৮:২৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটের ঐতিহাসিক লালকুঠি আবারও জমে উঠেছে। দীর্ঘদিনের সংস্কারকাজ শেষে শতবর্ষী এ স্থাপনাটি প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকছে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এখনও না হলেও দর্শণার্থীদের আগ্রহে ভাটা নেই– বিশেষ করে তরুণদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। 
বিকেল নামতেই লাল ইটের ভবনটিকে ঘিরে ভিড় বাড়ে। পরিবার, শিক্ষার্থী, দম্পতি ও ইতিহাসপ্রেমীরা এসে বসছেন প্রাঙ্গণে, তুলছেন ছবি, উপভোগ করছেন আলোকসজ্জায় সাজানো স্থাপত্য। রাতের আলোয় ভবনটি যেন নতুন করে প্রাণ পায়। দর্শনার্থীদের ভাষায়– ‘পুরান ঢাকার ইতিহাস জেগে উঠছে আবার।’ 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেরুন খানম বলেন, ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলী ও পরিবেশবান্ধব পরিবেশ মিলিয়ে জায়গাটি এখন আরও আকর্ষণীয়। সংস্কারের পর লালকুঠির প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। এটা শুধু সৌন্দর্য নয়, ঐতিহ্য সংরক্ষণেরও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। 
স্থানীয় বাসিন্দা রুবি আক্তার জানান, ‘এক সময় অবহেলায় পড়ে থাকা এ প্রাঙ্গণ এখন আবার প্রাণবন্ত। আমরা ছোটবেলা থেকে এখানে আড্ডা দিতাম। এটা শুধু একটা ভবন নয়, আমাদের স্মৃতির অংশ। নতুন রূপে দেখে ভালো লাগছে।’ 

প্রথমবার ঘুরতে আসা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পুরান ঢাকার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান ঘুরছি। লালকুঠি সত্যিই জীবন্ত ইতিহাস।’ তবে ভেতরের কক্ষগুলো এখনও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত না হওয়ায় আক্ষেপ রয়েছে অনেকের। তৌহিদুলের ছোট ভাই রাজিবুল ইসলাম বলেন, ‘ভেতরে ঢুকতে পারলে ইতিহাসটা আরও কাছ থেকে জানা যেত।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, ফেন্সিং ছাড়া সংস্কারের সব কাজ শেষ। ঢালাই কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের প্রকল্প ইনচার্জ মো. মেসবাহ উদ্দিন বলেন, ‘স্থানীয় আপত্তির কারণে ফেন্সিংয়ের কাজ আটকে আছে। ওই অংশ বাদে বাকি কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রকৌশলী বলেন, ফরাশগঞ্জ ক্লাবের সঙ্গে বিরোধের জেরে রেলিং স্থাপনের কাজ ঝুলে আছে। তবে দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রাজীব খাদেম বলেন, ‘কাজ প্রায় শেষ। হস্তান্তরে আরও কয়েক মাস লাগতে পারে। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় চলছে।’ 
জানা যায়, বিশ্বব্যাংক অর্থায়িত ‘ঢাকা আরবান নেবারহুড আপগ্রেডেশন’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৩ সালের ১ জুন ১৫ দশমিক ৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কারকাজ শুরু হয়। একাধিক দফা সময় বাড়ানোর পর এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে প্রকল্পটি। ১৮৮০ সালে তৎকালীন ভারতের ভাইসরয় থমাস জর্জ বেরিং এ ভবন উদ্বোধন করেন। তাঁর নামানুসারে নাম ছিল নর্থব্রুক হল। পরে লাল ইটের স্থাপত্যের কারণে এটি ‘লালকুঠি’ নামে পরিচিতি পায়।

আরও পড়ুন

×