অনলাইনে কঙ্কাল বিক্রি, ডেন্টাল কলেজের দুই শিক্ষার্থীসহ গ্রেপ্তার ৪
গ্রেপ্তার চোর চক্রের চার সদস্য
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ | ১৯:২১
অনলাইনে মানুষের কঙ্কাল বিক্রির সঙ্গে জড়িত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, যাদের দুজনই ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থী। তারা হলেন– উত্তরার সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্র কাজী জহরুল ইসলাম ওরফে সৌমিক ও একই কলেজ থেকে ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে ইন্টার্নশিপের অপেক্ষায় থাকা ফয়সাল আহম্মেদ। অপর দুজন হলেন– তাদের সহযোগী আবুল কালাম ও আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদ।
রোববার রাত ও সোমবার দিনভর রাজধানীর তেজগাঁও এবং উত্তরা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে তিনটি কঙ্কাল ও ৪৪টি মাথার খুলিসহ মানবদেহের বিপুল পরিমাণ হাড় উদ্ধার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, তেজগাঁওয়ের মনিপুরী পাড়ার এক নম্বর ফটকের সামনে কঙ্কাল বিক্রির উদ্দেশ্যে একজন অবস্থান করছেন। এরপর রোববার রাত পৌনে ২টার দিকে সেখানে অভিযান চালিয়ে কাজী জহুরুল ইসলাম সৌমিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সকাল সোয়া ৭টায় তেজগাঁও কলেজের সামনে থেকে আবুল কালাম ও আসাদুল মুন্সীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছে পাওয়া যায় আরও দুটি কঙ্কাল। পরবর্তীতে তাদের তথ্যমতে সোমবার বিকেলে উত্তরার সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজের হোস্টেলে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ফয়সাল আহম্মেদকে গ্রেপ্তার এবং হোস্টেলে তার ৪০২ নম্বর কক্ষ থেকে ৪৪টি মাথার খুলিসহ মানবদেহের বিভিন্ন অংশের হাড় উদ্ধার করা হয়।
উপকমিশনার জানান, এই চক্র দেশের বিভিন্ন এলাকার কবরস্থান থেকে মানব কঙ্কাল চুরি করে বিভিন্নজনের কাছে চড়া দামে বিক্রি করতো। গ্রেপ্তার আবুল কালামের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে চুরি করে কঙ্কাল তোলার অভিযোগে মামলা হয়েছিল। সেটিসহ দেশের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে ২১ এবং আসাদুল মুন্সীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে উপকমিশনার জানান, অনলাইনে ‘বোন্স সেলিং’ (হাড় বিক্রি) নামে একটি গ্রুপ আছে এই চক্রের। সেখানে সদস্য আছে ২০ হাজার। কয়েক বছর ধরে দুই শিক্ষার্থী এই চক্রের সঙ্গে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত তারা কেউ ৫০, আবার কেউ ২০টি কঙ্কাল বিক্রি করেছে। তাদের সহযোগীরা গাজীপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও জামালপুর এলাকার অরক্ষিত কবর থেকে এসব কঙ্কাল চুরি করে। মাঠপর্যায় থেকে তারা ছয় থেকে আট হাজার টাকায় কঙ্কাল কেনেন। পরে সেগুলো ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। তাদের কঙ্কাল বিক্রির কথা কলেজের অনেক শিক্ষার্থী জানতেন।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, অনলাইনে কঙ্কাল কেনার জন্য আগ্রহী কাউকে পেলে তারা সাধারণত ১০–১৫ দিন সময় নিতেন। এরপর কঙ্কাল সংগ্রহ করে ক্রেতার কাছে সংগ্রহ করতেন। মেডিকেল শিক্ষার্থীরাই মূলত এগুলোর ক্রেতা।
- বিষয় :
- কঙ্কাল উদ্ধার
- চোর চক্র
- গ্রেপ্তার
