ছাত্রদল নেতা শান্তর শাস্তি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন
আল আমিন হোসেন শান্ত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০২:৩১ | আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৩:২৭
রাজধানীর বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সেক্রেটারি আল আমিন হোসেন শান্তর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। বুধবার একই ইউনিটের যুবদল কর্মী রাসেল সরকার তাকে মারধরের অভিযোগে শান্তর শাস্তি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তেজগাঁওয়ে এই আবেদন জমা দেন।
আবেদনে বলা হয়, ‘আল আমিন হোসেন শান্ত এখন রাজধানীর বৃহত্তর উত্তরার ত্রাসে পরিণত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। বৃহত্তর উত্তরা এলাকায় অর্থ লুট, চাঁদাবাজি, দখল, মারামারি থেকে শুরু করে সব ধরনের অপরাধে তার নাম জড়িত। ৫ আগস্টের পর থেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি একের পর আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনের পর আরও বেপরোয়া হয়েছেন শান্ত।’
রাসেল সরকার বলেন, ‘শান্তর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে মারধর করার পাশাপাশি নির্মাণাধীন ভবন, বিভিন্ন মালামালের গাড়ি ও স্থানীয় দোকানপাট থেকে চাঁদা তোলার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। শুধু দিনে না; রাতেও দক্ষিণখান বাজার দিয়ে মালামাল নিয়ে গাড়ি গেলে চাঁদা দিতে হয় তাকে।’
অভিযোগে বলা হয়, বিমানবন্দরের ডিএল তেলের পাম্পের স্টাফদের মারধর করে পাম্পের ক্যাশ থেকে ৯০ হাজার টাকা লুট করায় গত ৭ মার্চ উত্তরা পূর্ব থানায় আল আমিন হোসেন শান্তর বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণখানে স্যুয়ারেজ লাইনের সরকারি মাটি বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় যুবদল নেতা রাসেলসহ সংগঠনটির তিন নেতাকে মারধর করায় দক্ষিণখান থানায় ৪ এপ্রিল আরেকটি মামলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বরাবর দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, একের পর এক সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত হওয়ার পরেও শান্তর বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সংগঠনের একটি মহলের ছত্রছায়ায় এসব অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সেক্রেটারি আল আমিন হোসেন শান্ত। পরপর দুই থানায় মামলা হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত করেনি ছাত্রদল। জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়নি তাকে। এমনকি কারণ দর্শানোর নোটিশ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।
এ নিয়ে এলাকাবাসী হতাশা প্রকাশ করেছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে; তার খুঁটির জোর কোথায়? কারা তাকে আশ্রয়—প্রশ্রয় দিচ্ছে?
বিমানবন্দর ইউনিটের যুবদলের এই কর্মী জানান, শান্তর অপকর্মের পেছনে শেল্টারদাতা হিসেবে কাজ করছেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ। তার আশকারা পেয়েই এসব অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন শান্ত। যখনই তিনি অন্যায় করেন; তখনই ঢাল হয়ে দাঁড়ান ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি।
বিমানবন্দরের তেলের পাম্পের স্টাফদের মারধর করে পাম্পের ক্যাশ থেকে টাকা লুটের ঘটনায় যদি ছাত্রদল তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতো; তাহলে তার হাতে যুবদল নেতাদের মার খেতে হতো না। তাই, বর্তমান সরকার ও বিএনপির ভাবমূর্তি রক্ষায় বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সেক্রেটারির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে প্রধানমন্ত্রীর মর্জি কামনা করেন যুবদল কর্মী রাসেল।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণখান থানার হলান এলাকায় রাস্তার সুয়ারেজ লাইনের (ড্রেন) উন্নয়নমূলক কাজ করার জন্য মাটি খোড়া হয়। খনন করা মাটি রাস্তার পাশে ঢিবি করে রাখা ছিল। এসব মাটি অবৈধভাবে বিক্রি করছিলেন বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সেক্রেটারি আল আমিন শান্ত। শনিবার (৪ এপ্রিল) গর্ত থাকায় পাশের রাস্তায় শান্তকে কিছু মাটি দিতে বলেন রাসেল। কিন্তু আল আমিন রাস্তা মেরামতের জন্য মাটি দিতে অস্বীকার করেন। এ নিয়ে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে আল আমিন ও তার লোকজন বাঁশের লাঠিসোটা, ইট, ধারালো ছুরি, ধারালো চাপাতি, লোহার রড নিয়ে নিয়ে রাসেলের ওপর হামলা করেন। এ সময় যু্বদল নেতা রাসেলসহ তিনজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখসহ আরও ৩০/৩৫ জনের বিরুদ্ধে দক্ষিণখান থানায় মামলা করেন রাসেল সরকার।
