ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গ্যাস-ভ্যাট সমস্যার সমাধানসহ ১১ দাবি রেস্তোরাঁ খাতের

গ্যাস-ভ্যাট সমস্যার সমাধানসহ ১১ দাবি রেস্তোরাঁ খাতের
×

রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা ১১ দফা দাবি তুলে ধরেন। ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬ | ১৪:০৭ | আপডেট: ১০ মে ২০২৬ | ১৪:১৭

আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে রেস্তোরাঁ খাতের সংকট নিরসনে ১১ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ভ্যাট ও ট্যাক্সের হার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা, এলপিজি সংকট সমাধান, লাইনের গ্যাসের নতুন সংযোগ চালু, বিভিন্ন দপ্তরের হয়রানি বন্ধ এবং রেস্তোরাঁ খাতকে শিল্প হিসেবে কার্যকর স্বীকৃতি প্রদান।

রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব দাবি তুলে ধরেন।

সংগঠনের মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, করোনার ধাক্কা থেকে রেস্তোরাঁ খাত এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এর মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং জ্বালানি সংকট ব্যবসাকে আরও চাপে ফেলেছে। তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে ক্রেতা উপস্থিতি কমে গেছে।

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে খাতটি গভীর সংকটে রয়েছে। সরকারের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”

সংবাদ সম্মেলনে রেস্তোরাঁ খাতের জন্য ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর দাবি জানানো হয়। সংগঠনটির মতে, একটি রেস্তোরাঁ চালু করতে বর্তমানে ১০ থেকে ১২ ধরনের সনদ প্রয়োজন হয়, যা পেতে দুই থেকে ছয় মাস সময় লাগে। এতে বিনিয়োগে অনীহা তৈরি হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি বাড়ছে।

ইমরান হাসান বলেন, বিভিন্ন দপ্তরের অনুমোদন নিতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু হলে লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং সময় ও খরচ কমবে।

ভ্যাট ও কর ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি জানান, রেস্তোরাঁ খাতে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হলেও উৎসে কর, ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্কসহ বিভিন্ন করের চাপ এখনো রয়ে গেছে। তিনি আগামী বাজেটে উৎসে কর প্রত্যাহার এবং ক্যাটারিং ও ক্যান্টিন সেবায় ভ্যাট ৫ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানান।

সংগঠনটির দাবি, দেশে প্রায় ৮০ শতাংশ রেস্তোরাঁ এখনো অনিবন্ধিত, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রতিযোগিতায় বৈষম্য সৃষ্টি করছে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কর ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়া এলপিজি সংকটকে গুরুতর সমস্যা উল্লেখ করে ইমরান হাসান বলেন, গ্যাস সরবরাহে ঘাটতির কারণে ব্যবসা ব্যাহত হচ্ছে এবং খাবারের দামও বাড়ছে। তিনি এলপিজি আমদানি বৃদ্ধি ও বাজার তদারকি জোরদারের পাশাপাশি লাইনের গ্যাস সংযোগ পুনরায় চালুর দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন দপ্তরের অভিযানের নামে হয়রানি বন্ধেরও দাবি জানানো হয়। সংগঠনটির অভিযোগ, একাধিক সংস্থার সমন্বয়হীন অভিযান ব্যবসায়ীদের অপ্রয়োজনীয় চাপের মধ্যে ফেলছে।

রাজউক, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন ও নবায়ন প্রক্রিয়া ডিজিটাল ও সহজ করার আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়া রেস্তোরাঁ খাতে কর্পোরেট আধিপত্য রোধ, ট্রেড লাইসেন্স কার্যক্রম পুনরায় চালু, ট্রেড ইউনিয়নের নামে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নে সরকারি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর দাবিও জানানো হয়।

সংগঠনের নেতারা বলেন, রেস্তোরাঁ খাতকে শিল্প হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে এ খাতের উদ্যোক্তারা কর সুবিধা ও নীতিগত সহায়তা পেতে পারেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি শাহ সুলতান খোকন, প্রথম যুগ্ম মহাসচিব মো. ফিরোজ আলম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর ইসলাম ও যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান বিপুসহ অন্যান্য নেতারা।
 

আরও পড়ুন

×